Facebook Pixel

ভারতবর্ষের শাসনতান্ত্রিক জটিলতার নিরসনকল্পে ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯১৯ সালে প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়কে দু’ভাগে বিভক্ত করে পরিচালনা করে। এখানে প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ছিল মূলত গভর্নরের হাতে। ১৯৩৫ সালে আবার তা বাতিল করে প্রদেশের নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। হয় । এ আইনে প্রাদেশিক আইনসভার সর্বময় কর্তৃত্বের কথা বলা হলেও বাস্তবে গভর্নর জেনারেল, ভারত সচিব এবং প্রাদেশিক গভর্নরের প্রাধান্য বিদ্যমান ছিল। ক. কত সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়? খ. খাদ্যে ভেজাল বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের প্রথমাংশে ইঙ্গিতকৃত ব্যবস্থাটি ব্যাখ্যা করো। ঘ. তত্ত্বগতভাবে উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লেখিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেও বাস্তবে তা কতটুকু কার্যকরী ছিল বলে তুমি মনে কর? যুক্তিসহ লেখো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question CB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান অর্থাৎ ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। (খ) খাদ্যে ভেজাল বলতে বোঝায় প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক উপায়ে প্রস্তুতকৃত মানসম্মত খাদ্যদ্রব্যের সাথে নিম্নমানের, অস্বাস্থ্যকর, ক্ষতিকর উপাদান বা বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে খাদ্যের গুণগত মান নষ্ট করা। এটি একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ। মাছ, মাংস, ফল বা সবজিতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন বা কৃত্রিম রং মেশানো খাদ্যে ভেজালের অন্যতম উদাহরণ। ভেজাল খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণ হতে পারে। (গ) উদ্দীপকের প্রথমাংশে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রবর্তিত প্রাদেশিক দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের শাসনতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। এই ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: ১. সংরক্ষিত বিষয় (Reserved Subject): আইন-শৃঙ্খলা, অর্থ, রাজস্ব প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা প্রাদেশিক গভর্নর তার শাসন পরিষদের মাধ্যমে পরিচালনা করতেন। এক্ষেত্রে তিনি মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ নিতে বাধ্য ছিলেন না। ২. হস্তান্তরিত বিষয় (Transferred Subject): শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রভৃতি বিষয়সমূহ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা গভর্নর তার মনোনীত মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শক্রমে শাসন করতেন। মূলত, এই দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা গভর্নরের হাতে কুক্ষিগত থাকায় এটি প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন প্রদানে ব্যর্থ হয়েছিল। (ঘ) উদ্দীপকের শেষাংশে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কথা বলা হয়েছে। তত্ত্বগতভাবে এই আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদানের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও অকার্যকর। এর স্বপক্ষে যুক্তি নিচে দেওয়া হলো: ১. গভর্নরের অপ্রতিহত ক্ষমতা: ১৯৩৫ সালের আইনে প্রাদেশিক গভর্নরকে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। তিনি ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ উপেক্ষা করার ক্ষমতা রাখতেন, যা স্বায়ত্তশাসনের মূল চেতনার পরিপন্থী ছিল। ২. কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ: প্রাদেশিক আইনসভায় স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে প্রদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল। গভর্নর জেনারেলের অপ্রতিহত ক্ষমতা প্রাদেশিক প্রশাসনের ওপর কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করেছিল। ৩. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: ব্রিটিশ আমলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য প্রাদেশিক মন্ত্রিপরিষদের কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভাগসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ গভর্নরের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকায় মন্ত্রিপরিষদ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারত না। ৪. বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ: প্রাদেশিক বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল, যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে খর্ব করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তিত হলেও ব্রিটিশদের শাসন বজায় রাখার কৌশল ও গভর্নরের সীমাহীন ক্ষমতার কারণে এটি প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। এটি ছিল মূলত একটি আড়ম্বরপূর্ণ প্রহসন মাত্র।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2019)

ভারতবর্ষের শাসনতান্ত্রিক জটিলতার নিরসনকল্পে ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯১৯ সালে প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়কে দু’ভাগে বিভক্ত করে পরিচালনা করে। এখানে প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ছিল মূলত গভর্নরের হাতে। ১৯৩৫ সালে আবার তা বাতিল করে প্রদেশের নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। হয় । এ আইনে প্রাদেশিক আইনসভার সর্বময় কর্তৃত্বের কথা বলা হলেও বাস্তবে গভর্নর জেনারেল, ভারত সচিব এবং প্রাদেশিক গভর্নরের প্রাধান্য বিদ্যমান ছিল।

ক. কত সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়?

খ. খাদ্যে ভেজাল বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের প্রথমাংশে ইঙ্গিতকৃত ব্যবস্থাটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. তত্ত্বগতভাবে উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লেখিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেও বাস্তবে তা কতটুকু কার্যকরী ছিল বলে তুমি মনে কর? যুক্তিসহ লেখো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।