Facebook Pixel

ভাষার জন্য বাঙালিরা জীবন দিয়েছিল। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকার বাংলা ভাষাকে সরকারি অফিস - আদালতের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেয়। তাছাড়া উক্ত প্রতিষ্ঠান বাংলা ভাষার নানাবিধ সমস্যা দূর করার ভাষা উচ্চারণ ও ব্যাকরণ রীতিতে এক নতুন মাত্রা শুরু হয় । ক. উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী ? খ. আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় কেন ? গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত বাংলাভাষার দাপ্তরিক ব্যবহার আবদুল মালিকের কোন কার্যক্রমটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধিতে আবদুল মালিকের অবদান উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম মুয়াবিয়া। খ. উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের চারজন পুত্র তার মৃত্যু পরবর্তী সময়ে উমাইয়া খলিফা নির্বাচিত হওয়ায় আবদুল মালিক রাজেন্দ্র বা Father of kings নামে পরিচিত ছিলেন । ৬৮৫ খ্রিষ্টাব্দে আবদুল মালিক উমাইয়া সিংহাসনে আরোহণ করেন। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর পুত্র ওয়ালিদ ( ৭০৫ - ১৫ খ্রি .), সুলায়মান ( ৭১৫ - ১৭ খ্রি .), দ্বিতীয় ইয়াজিদ ( ৭২০ - ২৪ খ্রি .) এবং হিশাম ( ৭২৪ - ৪৩ খ্রি .) উমাইয়া সিংহাসনে আরোহণ করেন। এজন্য আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলা হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত বাংলা ভাষার দাপ্তরিক ব্যবহার আবদুল মালিকের রাষ্ট্রীয় কাজে আরবি ভাষা প্রচলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ । খলিফা আবদুল মালিক রাষ্ট্রকে জাতীয়করণ এবং সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আগে থেকে চালুকৃত ফারসি , সিরীয় ও গ্রিকসহ প্রচলিত বিভিন্ন ভাষার পরিবর্তে আরবিকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দেন। এর বাস্তবায়ন ও সর্বত্র আরবির প্রচলন সহজসাধ্য ছিল না। কেননা আরবি ছিল বেদুইনদের ভাষা। তারপরও আরবি ভাষায় উৎকর্ষ সাধন , আরবিকে বিশ্বজনীন ভাষায় রূপান্তরের কঠিন কাজটি তিনি দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেন । উদ্দীপকেও এ ঘটনার দৃশ্যপট অঙ্কিত হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে , বাংলাদেশ সরকার বাংলা ভাষাকে অফিস - আদালতের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেয়। তাছাড়া বাংলা ভাষার উন্নয়নের জন্য একাডেমি প্রতিষ্ঠা করে। অনুরূপভাবে আবদুল মালিকও সালেহ বিন আবদুর রহমান নামে জনৈক পারসিক মুসলমানের পরামর্শে সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ফলে সিরিয়া ও ইরাকের প্রদেশসমূহে আরবি ভাষায় সরকারি কার্য ও হিসাবপত্র লিপিবদ্ধ রাখার নিয়ম প্রবর্তিত হয়। পরে মিসর ও পারস্যেও আরবি ভাষা সরকারি ভাষার মর্যাদা লাভ করে। এতে সাম্রাজ্যে অনারব অমুসলমানরা কর্মচ্যুত হলে তাদের জায়গায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগে আরব মুসলমানরা নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এতে আরব মুসলমানদের প্রশাসনিক প্রতিভা বিকাশের পথ সুগম হয়। তাই বলা যায় , উদ্দীপকে উল্লেখিত বাংলা ভাষার দাপ্তরিক ব্যবহারের সাথে আবদুল মালিকের আরবি ভাষার জাতীয়করণের মিল রয়েছে। ঘ. আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধিতে আবদুল মালিক অসামান্য অবদান রাখেন ৷ আবদুল মালিকের খিলাফতে আরোহণের আগে ইরাক ও অন্যান্য প্রাচ্য দেশে ফারসি বা পাহলভি ভাষায় সিরিয়া , ট্রান্সজর্ডান ও অন্যান্য , উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে গ্রিক ও সিরিয়া এবং মিসর ও উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য এলাকাতে কোবতি ভাষায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। খলিফা বিজাতীয় প্রভাব থেকে সাম্রাজ্যকে মুক্ত করা এবং আরবি ভাষার মর্যাদা ঊর্ধ্বে তুলে ধরার মানসে আরবিকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। উদ্দীপকেও এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধির স্বার্থে সরকারি অফিস - আদালতের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকও আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্রে চালুকৃত বিভিন্ন ভাষার পরিবর্তে আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দান করেন। ফলে আঞ্চলিক ভাষাসমূহের পরিবর্তে অফিস - আদালতে দলিলপত্রাদি আরবি ভাষায় রক্ষিত হওয়ার নিয়ম চালু হয়। সমগ্র মুসলিম সাম্রাজ্যে একই ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রচলিত হয় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ভাষা প্রচলিত হওয়ায় শাসনকার্যে যে সমস্যা দেখা দিত তার অবসান ঘটে । বিশুদ্ধ আরব শাসন প্রচলিত হওয়ায় আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এ ব্যবস্থায় অনারব মুসলমানরা চাকরিচ্যুত হন এবং তাদের জায়গায় আরব মুসলমানরা নিযুক্ত হন । উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় , খলিফা আবদুল মালিক আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে আরবি ভাষা প্রচলনের মাধ্যমে অসামান্য অবদান রাখেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ভাষার জন্য বাঙালিরা জীবন দিয়েছিল। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকার বাংলা ভাষাকে সরকারি অফিস-আদালতের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেয়। তাছাড়া উক্ত প্রতিষ্ঠান বাংলা ভাষার নানাবিধ সমস্যা দূর করার ভাষা উচ্চারণ ও ব্যাকরণ রীতিতে এক নতুন মাত্রা শুরু হয় ।

ক.

উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী ?

খ.

আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় কেন ?

গ.

উদ্দীপকে উল্লেখিত বাংলাভাষার দাপ্তরিক ব্যবহার আবদুল মালিকের কোন কার্যক্রমটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধিতে আবদুল মালিকের অবদান উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।