ক.
বিপ্লব পূর্ব ফরাসি সমাজ তিনটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল।
খ.
সাঁকুলেৎ শ্রেণি বলতে বিপ্লব-পূর্ব ফ্রান্সের থার্ড এস্টেট তথা তৃতীয় শ্রেণির ভবঘুরে বা ভাসমান শ্রমিক শ্রেণিকে বোঝাত ।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সাঁকুলেৎ শ্রেণি ছিন্নমূল হিসেবে গ্রাম থেকে শহরে জড়ো হত। এদের মধ্যে ছিল গরিব কারিগর ও ছোট দোকানদার। এরা ছিল মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। এরা মাঝে মাঝে বয়কট ও দাঙ্গা করত। এজন্য অভিজাত ও ধনী বুর্জোয়ারা সাঁকুলেৎদের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকত।
গ.
উদ্দীপকের আলোকে আমার পাঠ্যবইয়ের নেপোলিয়নের আইনবিধি রচনা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সংস্কারের মিল পাওয়া যায়।
ফ্রান্সের ক্ষমতা গ্রহণের পর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রথমেই বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজে হাত দেন। এক্ষেত্রে তিনি দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেন। তার সংস্কারের মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা। শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনে বিশ্বাসী নেপোলিয়ন দক্ষ লোকদের নিয়োগ দিয়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কাউন্সিল গঠন করেন। এরপর প্রদেশগুলোর ওপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ষোড়শ লুইয়ের সময় থেকে চলে আসা ফ্রান্সের ভঙ্গুর অর্থব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য নেপোলিয়ন অর্থ দপ্তরকে দুইভাগে ভাগ করেন। এরপর ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ব্যাংক অব ফ্রান্স। তার গৃহীত আর্থিক সংস্কার ফ্রান্সের অর্থনীতিকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসে। এছাড়া রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যশীল নাগরিক তৈরি করার উদ্দেশ্যে তিনি শিক্ষানীতিতেও ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। নেপোলিয়ন সমাজে ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জন্ম ও বংশ মর্যাদার পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে মানদণ্ড হিসেবে স্থির করেন। এভাবে নানাবিধ জনকল্যাণমূলক সংস্কার সাধন করে নেপোলিয়ন ফ্রান্সের ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। নেপোলিয়নের সংস্কারসমূহের মধ্যে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে তার আইনবিধি বা 'Code of Napoleon'। এ সংকলনে মোট ২২৮৭টি ধারা ছিল।
উদ্দীপকের আলোচনায় দেখা যায়, সম্রাট আকবর বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও জনকল্যাণমূলক সংস্কার করে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন, যা মূলত উপরে আলোচিত নেপোলিয়নের সংস্কার ও আইন প্রণয়নের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে নেপোলিয়নের আইন প্রণয়ন ও জনকল্যাণমূলক সংস্কারের মিল রয়েছে।
ঘ.
উক্ত নৃপতি তথা নেপোলিয়ন বোনাপার্ট সংস্কার কাজে সফল হয়েছিলেন বলে আমি মনে করি।
নেপোলিয়ন ১৮০৪ সালে ফ্রান্সে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ফ্রান্সের প্রাচীন ঘুণেধরা সমাজকে নতুন রূপদান করার জন্য সংস্কার কাজে হাত । দেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ফ্রান্সের দৈনন্দিন জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরে আসে।.
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রশাসন, অর্থনীতি, আইন, বিচার, শিক্ষা, ধর্ম প্রভৃতি সংস্কার করে ফ্রান্সের আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সংস্কার কাজের মধ্য দিয়ে তিনি সমাজকে সংগঠিত করেছিলেন। তিনি তার অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকদের যেমন অর্থনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন, তেমনি বুর্জোয়া শ্রেণিকে কাঙ্ক্ষিত সামাজিক সমতা দিয়েছিলেন। এ কারণে তার সংস্কার ফ্রান্সে স্থায়িত্ব পেয়েছিল। সংস্কারক হিসেবে নেপোলিয়ন ফ্রান্সের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। শাসন সংস্কারের মধ্য দিয়ে তিনি ফ্রান্সকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে তার আইনবিধির জন্য দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ান বলা হয়। এছাড়া তিনি তার বিখ্যাত আইন সংস্কারের মাধ্যমে ফ্রান্সে সাম্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যোগ্যতা অনুযায়ী তিনি সরকারি কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি জাতি-ধর্ম বিবেচনা করেননি। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকলা ও শিক্ষা সংস্কার এবং বিভিন্ন জনহিতকর কাজের মাধ্যমে ফ্রান্সকে তৎকালীন বিশ্বে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন ।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট যে সংস্কার ও উন্নতি সাধন করেছিলেন, তার জন্যই বিশ্বের ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ।