ক.
১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
খ.
ব্রিটেনকে একঘরে করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের গৃহীত ব্যবস্থার নাম মহাদেশীয় ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার আলোকে নেপোলিয়ন অন্যান্য ইউরোপীয় দেশকে ইংল্যান্ডের সাথে সামুদ্রিকভাবে যোগাযোগ করতে নিষেধ করেন। মূলত ইংল্যান্ডকে ব্যতিব্যস্ত করতে এ ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হলেও তা সফল হয়নি। নৌশক্তিতে বলিয়ান ইংল্যান্ড ঠিকই তার বাণিজ্যিক স্বার্থ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল। উপরন্তু অন্যান্য ইউরোপীয় রাষ্ট্র নেপোলিয়নের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিল।
গ.
উদ্দীপকে শাসক যেসব কারণে অমরত্ব লাভ করেছেন, তার সাথে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের জনকল্যাণমূলক সংস্কার তথা প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, আইন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও ধর্ম সংস্করমূলক কাজের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের শাসক সম্রাট আকবর রাজ্যজয় করে যেমন খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তেমনি বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও কল্যাণমূলক সংস্কার করে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। আবুল ফজল রচিত আইন-ই আকবরী গ্রন্থটি শাসককে অমরত্ব দিয়েছে। তদুপ ফ্রান্সকে আধুনিক রূপদানের জন্য নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রশাসন, আইন, বিচার, ধর্ম, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সংস্কার সাধন করেন। তিনি দেশের আইনজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি রোমান আইনসহ ফরাসি সমাজের বাস্তবতা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে যে আইনের দলিল রচনা করেন পরবর্তী সময়ে 'তা কোড অব নেপোলিয়ন' নামে পরিচিতি পায়। এতে দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং বাণিজ্যিক মিলিয়ে মোট ২২৮৭টি আইনের ধারা স্থান পায়। এ আইনকে অনেকে ফরাসি সমাজের নতুন বাইবেল তথা দিকনির্দেশক বলে গণ্য করে। নেপোলিয়ন সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শ গ্রহণ করে স্বাধীনতার আদর্শ পরিত্যাগ করেছিলেন। তিনি ফরাসি রাষ্ট্রের অনুকরণে ইউরোপের বিজিত অঞ্চলের সর্বত্র সামন্ত ও দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘটিয়েছিলেন এবং সমাজজীবনে সাম্যনীতি প্রয়োগ করেছিলেন। এসব নীতি প্রণয়ন, অনুসরণ ও সংস্কারমূলক কাজকর্ম তাকেও সম্রাট আকবরের মতো অমরত্ব দান করে।
ঘ.
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট উক্ত সংস্কার কাজসমূহ অর্থাৎ প্রশা-নিক, অর্থনৈতিক, আইন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও ধর্ম সংস্কার কাজে সফল হয়েছিলেন।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৭৯৯ সালে ফ্রান্সের ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৮০৪ সালে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ফ্রান্সের প্রাচীন জরাজীর্ণ ঘুনে ধরা সমাজকে নতুন রূপদান করার জন্য বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজে হাত দেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ফ্রান্সের জনজীবনে শান্তি শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ফিরে আসে।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রশাসন, অর্থনীতি, আইন, বিচার, শিক্ষা, ধর্ম প্রভৃতি সংস্কার করে ফ্রান্সের যুগোপযোগী ও আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি সংস্কার কাজের মধ্যে দিয়ে সমাজকে সংগঠিত করেছিলেন। বিভিন্ন সংস্কারের মধ্য দিয়ে তিনি ফ্রান্সকে স্বীয় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকদের যেমন অর্থনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন, তেমনি বুর্জোয়া শ্রেণির কাঙ্খিত সামাজিক সমতা প্রদান করেছিলেন। তিনি তার কোর্ড অব নেপোলিয়ন বা আইনবিধির জন্য বিশেষ খ্যাতি লাভকরেন। তাকে কোর্ড অব নেপোলিয়নের জন্য দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ান বলা হয়। তিনি আইন সংস্কার করে ফ্রান্সে সাম্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন। যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন। কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি স্বজনপ্রীতির উর্ধ্বে ছিলেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকলা ও শিক্ষা সংস্কারে এবং জনহিতকর বা জনকল্যাণকর কাজের মাধ্যমে ফ্রান্সকে তৎকালীন বিশ্বে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছিলেন। সংস্কারক হিসেবে তিনি ফ্রান্সের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, নেপোলিয়ন ফ্রান্সের অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, আইন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও ধর্ম সংস্কারমূলক কাজ করে সফল হয়েছিলেন এবং এজন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।