Facebook Pixel

ভারতীয় উপমহাদেশে দুশ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান শেষে ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি দু'ভাগে বিভক্ত করে যথাক্রমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নামে সংবিধিবদ্ধকরণ করা হয়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজধানী স্থাপন করা হয় করাচি নগরীতে। প্রশাসনিক কারণে পরবর্তীকালে পাকিস্তানের রাজধানী করাচি হতে ইসলামাবাদে স্থানান্তর করা হয়। ক. সুলতানী আমলের রাজধানী কোথায় ছিল? খ. মালিক কাফুর ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত সুলতানের রাজধানী স্থানান্তর পরিকল্পনার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো। ঘ. সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়েছিল- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ দিল্লি সুলতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬খ্রি.)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সলতানি আমলের রাজধানী ছিল দিল্লি। খ. সুলতান আলাউদ্দিন খলজির সময় (১২৯৬-১৩১৬ খ্রি.) দাক্ষিণাত্য বিজয়ের জন্য মালিক কাফুর বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। মালিক কাফুর ছিলেন একজন খোজা হিন্দু। সুলতান আলাউদ্দিন খলজির গুজরাট অভিযানের সময় (১২৯৭ খ্রি.) তিনি বন্দি হয়ে দিল্লিতে আসেন। পরবর্তীসময়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের যোগ্যতার কারণে সুলতানের প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। সুলতান ভারতবর্ষের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান পরিচালনার জন্য মালিক কাফুরকে পাঠান। ১৩০৬ খ্রিষ্টাব্দে দেবগিরির রাজা রামচন্দ্রকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে মালিক কাফুর দাক্ষিণাত্যে অভিযান শুরু করেন। পরে তিনি বরঙ্গল, দ্বারসমুদ্র, হোয়াসল, পাণ্ড্যরাজ্য প্রভৃতি জয় করে পুরো দাক্ষিণাত্যে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। দাক্ষিণাত্যে সফল অভিযানের কারণে মালিক কাফুর ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তর পরিকল্পনার সাদৃশ্য রয়েছে। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক ছিলেন অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী সুলতান। তিনি সাম্রাজ্যে অধিষ্ঠিত হওয়ার (১৩২৫ খ্রি.) প্রথম ভাগে পাঁচটি উচ্চাকাঙ্ক্ষামূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তার এ উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অন্যতম শাসনতান্ত্রিক পদক্ষেপ ছিল দিল্লি থেকে দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর। উদ্দীপকেও এ বিষয়টির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর পাকিস্তানের রাজধানী স্থাপন করা হয় করাচিতে। তবে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুবিধার কথা চিন্তা করে রাজধানী করাচি থেকে ইসলামাবাদে স্থানান্তরিত করা হয়। অনুরূপভাবে সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকও কতগুলো যৌক্তিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ১৩২৬ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লি থেকে দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর করেন। দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তরের অন্যতম কারণ ছিল এর ভৌগোলিক অবস্থান ও গুরুত্ব। দেবগিরি বিশাল দিল্লি সালতানাতের কেন্দ্রভূমিতে অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগত ও প্রশাসনিক সুবিধার জন্য কেন্দ্রভূমিতে রাজধানী স্থাপন অধিক যৌক্তিক বলে সুলতান মনে করেছিলেন। তাছাড়া মোঙ্গল আক্রমণের পটভূমিতে দিল্লি অপেক্ষা দেবগিরি ছিল অনেক বেশি নিরাপদ। অন্যদিকে দাক্ষিণাত্যের ওপর নজরদারি ও এর ধনৈশ্বর্য নিয়ন্ত্রণ ও সদ্ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দেবগিরিতে রাজধানী স্থাপন অধিক সমীচীন ছিল। এসব কারণেই মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সাম্রাজ্যের রাজধানী দিল্লি থেকে দেবগিরিতে স্থানান্তর করা হয়, যা উদ্দীপকের রাজধানী স্থানান্তরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শাসক মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তরের পরিকল্পনার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও তা বাস্তবায়ন কঠিন ছিল- উক্তিটি যথার্থ। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক কর্তৃক গৃহীত পাঁচটি পরিকল্পনার মধ্যে রাজধানী স্থানান্তর পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্য। তিনি জনগণের সুবিধা ও মঙ্গলার্থে এবং রাষ্ট্রের উন্নতিকল্পে রাজধানী স্থানান্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তবে এ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন অত্যন্ত দুরূহ ছিল। যার ফলে পরিকল্পনাটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অত্যন্ত দুরূহ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল দূরত্ব। দিল্লি থেকে দেবগিরির দূরত্ব ছিল প্রায় ৭০০ মাইল। দীর্ঘ পথযাত্রা, পথশ্রান্ত ও মানসিক অবসাদের কারণে অভিযাত্রীদের অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ পথিমধ্যে এবং অনেকে দৌলতাবাদে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। যারা বেঁচে থাকেন তারা দৌলতাবাদে বিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে খাপ খাওয়াতে না পেরে দিল্লিতে ফিরে আসতে অধৈর্য হয়ে ওঠেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকেই দিল্লিতে ফিরে আসার জন্য সুলতানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ সময় উত্তর ভারতেও বিদ্রোহ ও অরাজকতা বিস্তার লাভ করে। সর্বোপরি উত্তর-পশ্চিম দিক হতে মোঙ্গল আক্রমণ দিল্লি সালতানাতের নিরাপত্তাকে হুমকির সম্মুখীন করে তোলে। এ অবস্থায় ৮ বছর দৌলতাবাদে অবস্থানের পর সুলতান সকলকে পুনরায় দিল্লি প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তর পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সহজ ছিল না।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ভারতীয় উপমহাদেশে দুশ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান শেষে ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি দু'ভাগে বিভক্ত করে যথাক্রমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নামে সংবিধিবদ্ধকরণ করা হয়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজধানী স্থাপন করা হয় করাচি নগরীতে। প্রশাসনিক কারণে পরবর্তীকালে পাকিস্তানের রাজধানী করাচি হতে ইসলামাবাদে স্থানান্তর করা হয়।

ক.

সুলতানী আমলের রাজধানী কোথায় ছিল?

খ.

মালিক কাফুর ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত সুলতানের রাজধানী স্থানান্তর পরিকল্পনার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়েছিল- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. কারাচিল কোথায় অবস্থিত? খ. মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তরের পরিকল্পনাটি ব্যাখ্যা কর। গ. উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে...

ক. তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? খ. Blood & Iron Policy বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে "?" কোন শাসককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা ...

M একজন ক্রীতদাস হওয়া সত্ত্বেও তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দিয়ে প্রভুর মন জয় করেন। বিচক্ষণ এ রাজনীতিবিদ প্রভুর মৃত্যুর পর এক...

অনলাইন শপিং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অযোধ্যা গভর্নর কে ছিলেন?

'আইবেক' কোন ভাষার শব্দ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।