Facebook Pixel

ভবানীগঞ্জ অঞ্চলের ঔপনিবেশিক শাসকেরা 'ভবানীগঞ্জ শাসন আইন' নামে একটি আইন তৈরি করে। উক্ত আইনে প্রদেশের পরিবর্তে কেন্দ্রে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়। উক্ত আইনের আলোকেই ওই অঞ্চলের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ক. বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নবগঠিত প্রদেশের নাম কী? খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে আইনের সাদৃশ্য রয়েছে তার বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ। ঘ. উক্ত আইনের আলোকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

উৎস: Board Exam Question MSB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নবগঠিত প্রদেশের নাম হলো পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ। (খ) দ্বৈতশাসন বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসনসংক্রান্ত বিষয়গুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ভিন্ন ভিন্ন কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসিত প্রদেশগুলোতে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এ ব্যবস্থায় প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: ১. সংরক্ষিত বিষয় (Reserved Subjects): যা গভর্নর এবং তার নির্বাহী পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থাকত। ২. হস্তান্তরিত বিষয় (Transferred Subjects): যা গভর্নর এবং নির্বাচিত মন্ত্রীদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এভাবে একই প্রদেশে দুটি ভিন্ন কর্তৃপক্ষের শাসন পরিচালনার পদ্ধতিই হলো দ্বৈতশাসন। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ভবানীগঞ্জ শাসন আইন'-এর সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: এ আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন বিলোপ করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়। ২. কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন: প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন দিলেও কেন্দ্রীয় সরকারে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ৩. ক্ষমতার বিভাজন: কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতার সুষম বণ্টনের জন্য কেন্দ্রীয় তালিকা, প্রাদেশিক তালিকা ও যুগ্ম তালিকা তৈরি করা হয়। ৪. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: অনেক প্রদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করা হয়। ৫. ফেডারেশন গঠন: ব্রিটিশ ভারত ও দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি অখিল ভারত ফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়। (ঘ) ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে ১৯৩৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনের তাৎপর্য অপরিসীম। নিচে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো: ১. রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ভোটাধিকার সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়। ২. ক্ষমতার লড়াই: এই নির্বাচন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মতো বড় দলগুলোর জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষা নেয়। নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেস সাতটি প্রদেশে এবং মুসলিম লীগ চারটি প্রদেশে জয়লাভ করে। ৩. নতুন নেতৃত্বের বিকাশ: বাংলায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে কৃষক-প্রজা পার্টি ও মুসলিম লীগের জোট মন্ত্রিসভা গঠিত হয়, যা বাংলার রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করে। ৪. জনকল্যাণমূলক আইন: এই নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভাগুলো প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনী আইন ও সালিসি বোর্ডের মতো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা সাধারণ কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৫. সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রভাব: নির্বাচনের ফলাফল ভারতীয় রাজনীতির সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তোলে, যা পরবর্তীকালে পাকিস্তান আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করে। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৩৭ সালের নির্বাচন কেবল একটি সাধারণ নির্বাচন ছিল না, বরং এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2025)

ভবানীগঞ্জ অঞ্চলের ঔপনিবেশিক শাসকেরা 'ভবানীগঞ্জ শাসন আইন' নামে একটি আইন তৈরি করে। উক্ত আইনে প্রদেশের পরিবর্তে কেন্দ্রে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়। উক্ত আইনের আলোকেই ওই অঞ্চলের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ক. বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নবগঠিত প্রদেশের নাম কী?

খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে আইনের সাদৃশ্য রয়েছে তার বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ।

ঘ. উক্ত আইনের আলোকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সময় একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হ্যা এবং ক্ষমতাসীন দলের চরম ভরাডু...

‘A’ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের মাতৃভাষার পরিবর্তে অপর একটি ভাষাকে ...

‘B’ নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম একটি সাধার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল...

‘H’ রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মা...

‘H’ রাষ্ট্রের সামরিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশের জনগণের উপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর...

'M' ও 'N' নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। 'M' প্রদেশের নেতৃবৃন্দরাই...

M' রাষ্ট্রটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরই রাষ্ট্রটির এক অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলের জনগণের উপ...

'S' নামক রাষ্ট্র দুটো অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে রাষ্ট্...

X ও Y দুটি অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। Z রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী X অংশের মাত্র ৩% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।