Facebook Pixel

বায়েজিদ সাহেবকে ক্ষমতা গ্রহণ করার সাথে সাথেই সংকট রাজনৈতিক অবস্থা মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসন আমলে কয়েকটি মূল বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি দৃঢ়হস্তে বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দান করেন। আরবি লিপির উৎকর্ষ সাধন এবং ডাক বিভাগের সংস্কার তার শাসন আমলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল। এসব কারণে বায়জিদ সাহেবকে তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। ক. উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? খ. কাকে ইসলামের ৫ম খলিফা বলা হয়? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সাথে পঠিত কোন শাসকের সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর। ঘ. পঠিত বইয়ের শাসক কী কী সংস্কার করেছিলেন? এটি কী তার বংশকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করেছিল? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুয়াবিয়া (রা.)। খ. উমর বিন আব্দুল আজিজকে ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয়। সকল উমাইয়া খলিফা হতে ব্যতিক্রম ছিলেন। তার মধ্যে খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ ও নীতি লক্ষ করা যায়। উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে একমাত্র তিনি মজলিস-উশ-শূরার পরামর্শ মোতাবেক শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে একমাত্র তিনিই সৎ, সরল, পবিত্র ও ধার্মিক ছিলেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শের ও নীতির অনুসারী ছিলেন। এজন্য তাকে ইসলামের 'পঞ্চম খলিফা' বলা হয়। গ. উদ্দীপকের সাথে পঠিত উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের সাদৃশ্য বিদ্যমান। উদ্দীপকের বায়েজিদ সাহেব সংকটকালে ক্ষমতা গ্রহণ করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আয়ত্তে আনেন। তিনি নানাবিধ সংস্কারের অংশ হিসেবে মাতৃভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা করেন, মাতৃভাষার উন্নতি সাধন করেন, ডাক বিভাগের সংস্কার ও রাজস্বব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করেন। তার এ কর্মকান্ডের সাথে আব্দুল মালিকের কর্মকান্ডের মিল রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে 'রাজেন্দ্র' নামে পরিচিত আব্দুল মালিক হলেন উমাইয়া বংশের 'শ্রেষ্ঠ শাসকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি উমাইয়া শাসনকে এমনভাবে পুনর্গঠন ও সুদৃঢ়করণ করেন যে, তার ওপর ভিত্তি করে তার সন্তানগণ একটানা দীর্ঘসময় ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি বিশৃঙ্খলাপূর্ণ প্রশাসনকে নানা প্রকার সংস্কারের মাধ্যমে ঢেলে সাজিয়েছিলেন। তিনি সকল বিদ্রোহ কঠোরতার সাথে দমন করে শাসনকে বিপদমুক্ত করেন। তিনি প্রাথমিক সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোকাবিলা করেছেন এবং আরবি ভাষার উন্নয়ন ও আরবি মুদ্রা প্রচলনের মাধ্যমে প্রশাসনে স্থায়ী কৃতিত্বের ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র শুধু আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় সরকারি কাগজপত্র আরবি ভাষায় রক্ষিত হতো। আব্দুল মালিক শাসনব্যবস্থাকে স্বতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয়করণ করার উদ্দেশ্যে আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদাদান করেন। তিনি তার খিলাফতকালে তৎকালীন বিদ্রোহপূর্ণ অবস্থাকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করে সকল বাধা কাটিয়ে উমাইয়া শাসনকে স্বতন্ত্র রূপদান করেন। অতএব, উদ্দীপকে আব্দুল মালিকের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ঘ. আব্দুল মালিকের শাসন সংস্কার তথা আরবি ভাষার উন্নয়ন, ডাক বিভাগের সংস্কার, আরবি মুদ্রার প্রচলন, রাজস্ব সংস্কার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড উমাইয়া বংশের ভিত মজবুতকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। এটি তার বংশকে দীর্ঘস্থায়ী করেছিল। আব্দুল মালিক, ভাষা সংস্কার করার জন্য প্রথমে সরকারি অফিসে, আরবি ভাষা প্রবর্তন করেন। তিনি ৬৯৬-৯৭ সালে সরকারি সকল কাজে আরবি ভাষা ব্যবহার করার নির্দেশ দেন। যার ফলে সকল কাগজপত্র আরবি ভাষায় সংরক্ষণ করা হয়। সমগ্র খিলাফতে একই রূপ শাসনব্যবস্থা পরিচালনা এবং ভাষার ভিন্নতার কারণে যেসব অসুবিধা ছিল তা দূরীভূত হয়। আবুল মালিকের সময়ে আরবি লিপির উৎকর্ষ সাধন করা হয়। তিনি হাজ্জাজ-বিন ইউসুফের সহযোগিতায় আরবি হরফে নোকতার প্রচলন করেন। আবুল মালিক মুদ্রাব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন এবং সর্বপ্রথম খাঁটি আরবি মুদ্রা প্রচলন করেন। জাতীয় মুদ্রা প্রচলনের জন্য তিনি ৬৯৫ সালে দামেস্কে একটি কেন্দ্রীয় টাকশাল স্থাপন করেন। তার সময়ে দিনার, দিরহাম ও ফালস নামের স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্রমুদ্রার প্রচলন করা হয়। মুদ্রাগুলোকে জাতীয়করণের জন্য ক্রসের পরিবর্তে আরবি বর্ণমালা লেখা হয়। আবুল মালিক রাজস্বব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার করেন। তিনি মাওয়ালিদের ওপর খারাজ ও জিজিয়া কর ধার্য করেন। তিনি ডাক বিভাগের সংস্কার করেন এবং ডাকচৌকি নির্মাণ করেন। তাছাড়া তিনি দামেস্কে মহাফেজখানা প্রতিষ্ঠা করে রেজিস্ট্রি বিভাগের সংস্কার করেন। দিওয়ানুল রাসায়েলে সকল চিঠিপত্র সংরক্ষিত থাকত। তিনি বিচার বিভাগের সংস্কার হিসেবে দিওয়ানুল কাফ প্রতিষ্ঠা করেন। পরিশেষে বলা যায়, আবুল মালিক শাসন সংস্কার, রাজস্ব সংস্কার, ভাষা ও মুদ্রা সংস্কারের মাধ্যমে তার বংশের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বায়েজিদ সাহেবকে ক্ষমতা গ্রহণ করার সাথে সাথেই সংকট রাজনৈতিক অবস্থা মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসন আমলে কয়েকটি মূল বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি দৃঢ়হস্তে বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দান করেন। আরবি লিপির উৎকর্ষ সাধন এবং ডাক বিভাগের সংস্কার তার শাসন আমলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল। এসব কারণে বায়জিদ সাহেবকে তার বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

ক.

উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

খ.

কাকে ইসলামের ৫ম খলিফা বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের সাথে পঠিত কোন শাসকের সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

পঠিত বইয়ের শাসক কী কী সংস্কার করেছিলেন? এটি কী তার বংশকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করেছিল? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।