Facebook Pixel

ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশ শাসনকালে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর একটি শাসনতান্ত্রিক উদ্যোগ নেয়া হয়। ফলে এদেশে দ্বৈতশাসন ও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা চালু হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৫ সালে আরেকটি শাসনতান্ত্রিক উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে বলা হয় প্রদেশগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত। এছাড়া এখানে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত থাকবে। প্রকৃতপক্ষে এই ব্যবস্থায় গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নরের ব্যাপক ক্ষমতা ছিল। ক. ফরায়েজি আন্দোলন কী? খ. নবাব আবদুল লতিফকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকের প্রথমাংশে কোন আইনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লেখিত ব্যবস্থাটি বাস্তবে কতটুকু কার্যকর হয়েছিল? মতামত দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question CB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ফরায়েজি আন্দোলন হলো হাজী শরিয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন, যা ইসলামের মৌলিক ফরজ বিধান পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলমানদের সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কারমুক্ত করতে কাজ করে। (খ) নওয়াব আবদুল লতিফকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয় কারণ তিনি স্যার সৈয়দ আহমদের মতোই বাংলার মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষা ও পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। স্যার সৈয়দ আহমদ যেমন উত্তর ভারতে মুসলমানদের উন্নতির জন্য ইংরেজি শিক্ষা ও ব্রিটিশ সরকারের সাথে সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছিলেন, নওয়াব আবদুল লতিফও ঠিক তেমনিভাবে বাংলার মুসলমানদের পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে এবং মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই আদর্শিক মিল ও শিক্ষা সংস্কারের অবদানের কারণেই তাকে বাংলার সৈয়দ আহমদ হিসেবে অভিহিত করা হয়। (গ) উদ্দীপকের প্রথমাংশে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের (মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন) কথা বলা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভারতবাসীর সহযোগিতার প্রতিদান হিসেবে ব্রিটিশ সরকার শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ভারত সচিব এডউইন মন্টেগু ও বড়লাট লর্ড চেমসফোর্ড যৌথভাবে এই আইন প্রণয়ন করেন। এই আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন। এর মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: সংরক্ষিত বিষয় (Reserved Subject) এবং হস্তান্তরিত বিষয় (Transferred Subject)। সংরক্ষিত বিষয়গুলো (যেমন: আইন-শৃঙ্খলা, অর্থ, রাজস্ব) গভর্নর তার নির্বাহী পরিষদের মাধ্যমে পরিচালনা করতেন, যেখানে মন্ত্রিপরিষদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। অন্যদিকে, হস্তান্তরিত বিষয়গুলো (যেমন: শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি) নির্বাচিত মন্ত্রীদের পরামর্শে পরিচালিত হতো। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'দ্বৈতশাসন' ও 'দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা' মূলত এই আইনেরই প্রতিফলন। (ঘ) উদ্দীপকের শেষাংশে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কথা বলা হয়েছে, যা বাস্তবে একটি অকার্যকর ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। যদিও এই আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। প্রথমত, এই আইনে গভর্নর ও গভর্নর জেনারেলকে ব্যাপক ও অপ্রতিহত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। প্রাদেশিক গভর্নররা ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন এবং তাদের হাতে ভেটো প্রদানের ক্ষমতা ছিল, যা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতাকে খর্ব করত। দ্বিতীয়ত, ১৯৩৫ সালের আইনে কেন্দ্রে যে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা ছিল, তা দেশীয় রাজ্যগুলোর অনীহার কারণে কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি। তৃতীয়ত, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের নামে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের কারণে কার্যকর হতে পারেনি। আইন-শৃঙ্খলা ও জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে গভর্নরের বিশেষ ক্ষমতা স্বায়ত্তশাসনের মূল চেতনাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটি ছিল ব্রিটিশদের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা কাগজে-কলমে স্বায়ত্তশাসনের কথা বললেও বাস্তবে ব্রিটিশ আধিপত্য বজায় রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তাই এই ব্যবস্থাটি প্রকৃত অর্থে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছিল এবং একে একটি আড়ম্বরপূর্ণ প্রহসন হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2023)

ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশ শাসনকালে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর একটি শাসনতান্ত্রিক উদ্যোগ নেয়া হয়। ফলে এদেশে দ্বৈতশাসন ও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা চালু হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৫ সালে আরেকটি শাসনতান্ত্রিক উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে বলা হয় প্রদেশগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত। এছাড়া এখানে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত থাকবে। প্রকৃতপক্ষে এই ব্যবস্থায় গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নরের ব্যাপক ক্ষমতা ছিল।

ক. ফরায়েজি আন্দোলন কী?

খ. নবাব আবদুল লতিফকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকের প্রথমাংশে কোন আইনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লেখিত ব্যবস্থাটি বাস্তবে কতটুকু কার্যকর হয়েছিল? মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।