Facebook Pixel

ব্রিটিশ ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনামলে ক্রমাগত শাসনতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর একটি আইন প্রণীত হয়। আইনটি ব্যর্থতার কারণে ১৬ বছর পর আরও একটি আইন প্রণীত হয়। প্রথমটির তুলনায় দ্বিতীয় আইনটি অপেক্ষাকৃত উত্তম হলেও শেষপর্যন্ত এ আইনটির কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। ক. সর্বপ্রথম কোন আইনে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়? খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় আইনটির বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর। ঘ. উক্ত আইনটির কার্যকারিতা কেন প্রশ্নবিদ্ধ হয়? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

উৎস: Board Exam Question DiB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৯০৯ সালের ভারত শাসন আইন বা মলে-মিন্টো সংস্কার আইনে সর্বপ্রথম মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। (খ) ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন। এ ব্যবস্থায় প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়: হস্তান্তরিত বিষয় এবং সংরক্ষিত বিষয়। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো গভর্নর ও নির্বাচিত মন্ত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভার মাধ্যমে পরিচালিত হতো, আর সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নর ও তাঁর নির্বাহী পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থাকত। প্রাদেশিক প্রশাসনের এই দ্বিমুখী ব্যবস্থাকেই দ্বৈতশাসন বলা হয়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় আইনটি হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা: এ আইনে ব্রিটিশ ভারত ও দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করা হয়। ২. ক্ষমতার বিভাজন: শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতাকে কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও যুগ্ম এই তিন তালিকায় বিভক্ত করা হয়। ৩. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: এ আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়, যার ফলে প্রাদেশিক সরকারগুলো তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অধিকতর স্বাধীনতা লাভ করে। ৪. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ) করা হয় এবং অনেক প্রদেশেও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করা হয়। ৫. যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত: ভারতের শাসনতান্ত্রিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়। ৬. সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্ব: মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা ও আসন সংরক্ষণের নীতি অব্যাহত রাখা হয়। (ঘ) ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ বিদ্যমান ছিল। উদ্দীপকের আলোকে এর বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো: প্রথমত, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তা পূর্ণাঙ্গ ছিল না। গভর্নরদের হাতে বিশেষ ক্ষমতা ও ভেটো প্রদানের অধিকার থাকায় প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার কাজে তারা প্রায়ই হস্তক্ষেপ করতেন, যা স্বায়ত্তশাসনের মূল চেতনাকে ব্যাহত করে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দ্বৈতশাসন প্রবর্তনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং ব্রিটিশ সরকারের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকায় ভারতীয়দের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়নি। তৃতীয়ত, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর বিভিন্ন প্রদেশে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও কোয়ালিশন সরকার গঠনে জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে কংগ্রেসের এককভাবে মন্ত্রিসভা গঠনের প্রবণতা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে। চতুর্থত, ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয়দের মতামত ছাড়াই ভারতকে জড়িয়ে ফেলার প্রতিবাদে কংগ্রেস মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করলে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরিশেষে বলা যায়, ব্রিটিশ শাসকদের অগণতান্ত্রিক মনোভাব, গভর্নরের অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অনাস্থার কারণে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় এবং এর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2025)

ব্রিটিশ ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনামলে ক্রমাগত শাসনতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর একটি আইন প্রণীত হয়। আইনটি ব্যর্থতার কারণে ১৬ বছর পর আরও একটি আইন প্রণীত হয়। প্রথমটির তুলনায় দ্বিতীয় আইনটি অপেক্ষাকৃত উত্তম হলেও শেষপর্যন্ত এ আইনটির কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

ক. সর্বপ্রথম কোন আইনে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়?

খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় আইনটির বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।

ঘ. উক্ত আইনটির কার্যকারিতা কেন প্রশ্নবিদ্ধ হয়? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সময় একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হ্যা এবং ক্ষমতাসীন দলের চরম ভরাডু...

‘A’ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের মাতৃভাষার পরিবর্তে অপর একটি ভাষাকে ...

‘B’ নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম একটি সাধার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল...

‘H’ রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মা...

‘H’ রাষ্ট্রের সামরিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশের জনগণের উপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর...

'M' ও 'N' নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। 'M' প্রদেশের নেতৃবৃন্দরাই...

M' রাষ্ট্রটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরই রাষ্ট্রটির এক অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলের জনগণের উপ...

'S' নামক রাষ্ট্র দুটো অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে রাষ্ট্...

X ও Y দুটি অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। Z রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী X অংশের মাত্র ৩% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।