Facebook Pixel

ব্রিটিশ ভারতের একজন রাজনীতিবিদ তার দলের বার্ষিক অধিবেশনে নিজ সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবি সংবলিত একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারতে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ক. কাকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়? খ. বারাসাত বিদ্রোহ কী? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবের সাথে তোমার পঠিত কোন প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ব্রিটিশ শাসনের অবসানে উক্ত প্রস্তাবের গুরুত্ব পর্যালোচনা কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

উৎস: Board Exam Question ChB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মজলুম জননেতা বলা হয় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে। (খ) বারাসাত বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও স্থানীয় শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি কৃষক আন্দোলন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। নীলকর সাহেবদের অত্যাচার এবং স্থানীয় হিন্দু জমিদারদের অন্যায় কর ও শোষণের বিরুদ্ধে অতিষ্ঠ হয়ে কৃষকরা তিতুমীরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৮৩১ সালে তিতুমীর বারাসাত অঞ্চলের নারকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকদের এক সাহসী ও ঐতিহাসিক সংগ্রাম। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবের সাথে ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সরাসরি সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজনীতিবিদ হলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং তার দলের বার্ষিক অধিবেশনটি ছিল মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশন। লাহোর প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করা এবং মুসলমানদের জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। উদ্দীপকে বর্ণিত নিজ সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষা ও পৃথক রাষ্ট্রের দাবি, এই বিষয়গুলো লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনার সাথে হুবহু মিলে যায়। লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমেই মূলত পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছিল। (ঘ) ব্রিটিশ শাসনের অবসানে লাহোর প্রস্তাবের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। নিচে এর গুরুত্ব আলোচনা করা হলো: ১. স্বতন্ত্র জাতিসত্তার স্বীকৃতি: লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলিম লীগ ঘোষণা করে যে, মুসলমানরা কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়, বরং তারা একটি স্বতন্ত্র জাতি। এই ঘোষণা ব্রিটিশ সরকার ও কংগ্রেসের একক জাতীয়তাবাদী ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। ২. পাকিস্তান আন্দোলনের ভিত্তি: এই প্রস্তাব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিকে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক রূপ দেয়। এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয় এবং পাকিস্তান আন্দোলন একটি গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৩. ব্রিটিশবিরোধী চাপের কৌশল: লাহোর প্রস্তাবের ফলে ব্রিটিশ সরকার ও কংগ্রেসের ওপর মুসলমানদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রবল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। এটি ব্রিটিশদের ভাগ কর ও শাসন কর নীতির বিপরীতে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। ৪. শাসনতান্ত্রিক ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি: লাহোর প্রস্তাবে কেবল পৃথক রাষ্ট্রের দাবিই ছিল না, বরং রাষ্ট্রসমূহের স্বায়ত্তশাসন ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এটি ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর রূপরেখা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। পরিশেষে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাব ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের পতনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক। এটি মুসলমানদের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে জাগ্রত করে এবং ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের অবসানে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenChattogram Board (2025)

ব্রিটিশ ভারতের একজন রাজনীতিবিদ তার দলের বার্ষিক অধিবেশনে নিজ সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবি সংবলিত একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারতে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

ক. কাকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়?

খ. বারাসাত বিদ্রোহ কী?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবের সাথে তোমার পঠিত কোন প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ব্রিটিশ শাসনের অবসানে উক্ত প্রস্তাবের গুরুত্ব পর্যালোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সময় একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হ্যা এবং ক্ষমতাসীন দলের চরম ভরাডু...

‘A’ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের মাতৃভাষার পরিবর্তে অপর একটি ভাষাকে ...

‘B’ নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম একটি সাধার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল...

‘H’ রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মা...

‘H’ রাষ্ট্রের সামরিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশের জনগণের উপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর...

'M' ও 'N' নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। 'M' প্রদেশের নেতৃবৃন্দরাই...

M' রাষ্ট্রটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরই রাষ্ট্রটির এক অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলের জনগণের উপ...

'S' নামক রাষ্ট্র দুটো অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে রাষ্ট্...

X ও Y দুটি অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। Z রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী X অংশের মাত্র ৩% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।