Facebook Pixel

ব্রিটিশরা ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে ও দু'টি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ক. গণতন্ত্রের মানসপুত্র কাকে বলা হয়? খ. যুক্তফ্রন্ট বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত আইনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question CB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়। (খ) যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্বাচনী জোটকে বোঝায়। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল, এই চারটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। মুসলিম লীগের দীর্ঘদিনের শাসন ও দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই জোট গঠন করা হয়েছিল। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত আইনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য রয়েছে। ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে লর্ড মাউন্টব্যাটেন ৩ জুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ব্রিটিশরা ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন করে, যার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমেও ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের আইনটি মূলত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনকেই নির্দেশ করছে। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত আইনটি অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এর গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. ব্রিটিশ শাসনের অবসান: এই আইনের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। ২. স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম: এই আইনের ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়, যা উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তন আনে। ৩. শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধান: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা দূর করে এই আইন ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি বৈধ আইনি কাঠামো প্রদান করে। ৪. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা: এই আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নরদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে, যা পাকিস্তান ও ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। ৫. নতুন যুগের সূচনা: এই আইনের ফলে উপমহাদেশের জনগণ দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পায় এবং নিজস্ব শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ লাভ করে। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন কেবল একটি আইন ছিল না, বরং এটি ছিল উপমহাদেশের জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল এবং একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2021)

ব্রিটিশরা ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে ও দু'টি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

ক. গণতন্ত্রের মানসপুত্র কাকে বলা হয়?

খ. যুক্তফ্রন্ট বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত আইনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।