Facebook Pixel

বিশ্ব রাজনীতিতে দেখা যায় যে, একটি দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে একজন মহান নেতা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম করেছেন। উদাহরণ হিসেবে লেনিন, মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, হো-চি-মিন, নেলসন ম্যান্ডেলা প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র, শাসন-শোষণ ও নিপীড়নের হাত থেকে শৃংখলমুক্ত করতে একজন নেতার আবির্ভাব ঘটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ মহান নেতার ঘোষিত কর্মসূচিই বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করেছে ক. BPSC এর পূর্ণরূপ কী? খ. কী উদ্দেশ্যে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়? গ. উদ্দীপকে আমাদের দেশকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে কোন নেতাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “এ মহান নেতার ঘোষিত কর্মসূচিই বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করেছে"- বিশ্লেষণ করো

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ

উৎস: Board Exam Question RB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) BPSC-এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Public Service Commission। (খ) ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দলগুলো নিয়ে এই রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের শাসন, শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম, গণতন্ত্রী দল ও খেলাফতে রব্বানী পার্টির সমন্বয়ে গঠিত এই যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে 'নৌকা' প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে এবং মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটায়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত মহান নেতা হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উদ্দীপকে উল্লেখিত লেনিন, মহাত্মা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বিশ্ববরেণ্য নেতাদের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তুলনা করা হয়েছে, যারা নিজ নিজ দেশের পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে তিনি ছিলেন বাঙালির প্রধান চালিকাশক্তি। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একজন নেতার আবির্ভাব ঘটে যিনি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের হাত থেকে জাতিকে মুক্ত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অকুতোভয় সাহসিকতার মাধ্যমে বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে তিনি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতির নির্দেশ দেন এবং ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও নেতৃত্বের পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে। (ঘ) 'এ মহান নেতার ঘোষিত কর্মসূচিই বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করেছে', উক্তিটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে মহান নেতার ঘোষিত কর্মসূচি বলতে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উত্থাপিত ঐতিহাসিক ছয় দফার কথা বলা হয়েছে। ছয় দফার গুরুত্ব ও বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো: ১. স্বায়ত্তশাসনের দাবি: ছয় দফার মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে প্রদেশগুলোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা। এটি ছিল বাঙালির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির মূল ভিত্তি। ২. অর্থনৈতিক মুক্তি: ছয় দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ পাচার রোধ এবং নিজস্ব মুদ্রা ও রাজস্ব নীতি নির্ধারণের দাবি জানানো হয়, যা বাঙালির অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার পথ প্রশস্ত করে। ৩. গণজাগরণ ও রাজনৈতিক ভিত্তি: ছয় দফার ভিত্তিতেই ১৯৬৬ সালের পর থেকে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে। পাকিস্তান সরকার একে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে, যা পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ৪. স্বাধীনতার সোপান: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ছয় দফার প্রতি জনগণের বিপুল সমর্থন ছিল এক প্রকার গণভোট। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই বাঙালি জাতি তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফা কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, বরং এটি ছিল বাঙালির জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতার সনদ। এই কর্মসূচির পথ ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2023)

বিশ্ব রাজনীতিতে দেখা যায় যে, একটি দেশকে পরাধীনতার

শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে একজন মহান নেতা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম করেছেন। উদাহরণ হিসেবে লেনিন, মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, হো-চি-মিন, নেলসন ম্যান্ডেলা প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র, শাসন-শোষণ ও নিপীড়নের হাত থেকে শৃংখলমুক্ত করতে একজন নেতার আবির্ভাব ঘটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ মহান নেতার ঘোষিত কর্মসূচিই বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করেছে

ক. BPSC এর পূর্ণরূপ কী?

খ. কী উদ্দেশ্যে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?

গ. উদ্দীপকে আমাদের দেশকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে কোন নেতাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “এ মহান নেতার ঘোষিত কর্মসূচিই বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে কাজ করেছে"- বিশ্লেষণ করো

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘X’ একজন রাজনৈতিক নেতা। মানুষের সেবাই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য । তিনি সংকীর্ণতা ও গোড়ামির উর্ধ্বে মানবপ্রেমে বিশ্বাস কর...

‘Y’ রাষ্ট্রের একজন অবিসংবাদিত নেতা দেশটির স্বাধীনতা অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। তিনি দেশটির শোষিত জনগণের মুক্তি জন্য সরক...

অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন কে?

অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

“অসমাপ্ত আত্মজীবনী” গ্রন্থটি কার রচনা?

‘আঁখি’ ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যেয়ে এস এম হল দেখে তার পৌরনীতি স্যারের ক্লাস লেকচারের কথা মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন বাংল...

আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেয়া হয় কত সালে?

আজমল সাহেব একজন খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ। তিনি তার সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারণের জন্য নিজ দলের অধিবেশনে একাধিক রাষ্ট্...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।