Facebook Pixel

বিশাল আয়তনের রূপনগর অঞ্চলটিতে ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য অস্থিরতা বিদ্যমান। অঞ্চলটিতে প্রধানত দুটি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন সম্মোহনী নেতা বিরোধী দলীয় সম্মেলনে রাজনৈতিক সমস্যা নিরসনের জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করে। প্রস্তাবে সংখ্যালঘুরা যেসব স্থানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সেইসব অঞ্চল নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। এ প্রস্তাবটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে এবং এক দশকের মধ্যেই রূপনগর ভেঙে কয়েকটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় ক. মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কতজন ব্রিটিশ মন্ত্রী ভারত সফর করেন? খ. ভাষা আন্দোলন হয়েছিল কেন? গ. উদ্দীপকে পেশকৃত প্রস্তাবটি তোমার পঠিত কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রস্তাবটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি উপমহাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে- বিশ্লেষণ করো

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question DiB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মন্ত্রিমিশন বা ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালে ৩ জন ব্রিটিশ মন্ত্রী ভারত সফর করেন। (খ) পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেয়। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬.৪০ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা ছিল বাংলা, যেখানে উর্দুভাষী ছিল মাত্র ৩.২৭ শতাংশ। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন গড়ে ওঠে। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রস্তাবটি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবকে নির্দেশ করে। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করা। উদ্দীপকে রূপনগর অঞ্চলের অস্থিরতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতার একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের বিষয়টি লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। লাহোর প্রস্তাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হলেও পরবর্তীকালে রাজনৈতিক বিবর্তনের ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। উদ্দীপকের রূপনগর ভেঙে কয়েকটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মের ইঙ্গিত সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকেই প্রতিফলিত করে। (ঘ) উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রস্তাব অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাব উপমহাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল, যা বিশ্লেষণ করা হলো: প্রথমত, লাহোর প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং তাদের নিজস্ব আবাসভূমি বা পাকিস্তান অর্জনের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার প্রেরণা জোগায়। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তান সৃষ্টির পরও লাহোর প্রস্তাবের গুরুত্ব কমেনি। পূর্ব বাংলার জনগণের স্বাধিকার আন্দোলনের মূলে ছিল লাহোর প্রস্তাবে বর্ণিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ধারণা। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রতিটি পর্যায়ে লাহোর প্রস্তাবের স্বায়ত্তশাসনের চেতনাকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তৃতীয়ত, পাকিস্তানি শাসকরা যখন লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনা থেকে সরে গিয়ে কেন্দ্রীয় শাসন ও শোষণমূলক নীতি গ্রহণ করে, তখন বাঙালিরা এই প্রস্তাবের আদর্শকে সামনে রেখেই স্বাধিকার ও স্বাধীনতার দাবি জোরালো করে। পরিশেষে, এই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ ধরেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সুতরাং, লাহোর প্রস্তাব কেবল পাকিস্তান সৃষ্টির ভিত্তিই ছিল না, বরং এটি বাঙালি জাতির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের রাজনৈতিক সংগ্রামেরও প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2023)

বিশাল আয়তনের রূপনগর অঞ্চলটিতে ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য অস্থিরতা বিদ্যমান। অঞ্চলটিতে প্রধানত দুটি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন সম্মোহনী নেতা বিরোধী দলীয় সম্মেলনে রাজনৈতিক সমস্যা নিরসনের জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করে। প্রস্তাবে সংখ্যালঘুরা যেসব স্থানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সেইসব অঞ্চল নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। এ প্রস্তাবটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে এবং এক দশকের মধ্যেই রূপনগর ভেঙে কয়েকটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়

ক. মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কতজন ব্রিটিশ মন্ত্রী ভারত সফর করেন?

খ. ভাষা আন্দোলন হয়েছিল কেন?

গ. উদ্দীপকে পেশকৃত প্রস্তাবটি তোমার পঠিত কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রস্তাবটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি উপমহাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে- বিশ্লেষণ করো

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।