Facebook Pixel

বিশাল আয়তনের জেলা ‘D’ গত বছর বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আয়তনে বড় হওয়ায় বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছিল। তাই সরকার জেলাটিকে দু'ভাগে ভাগ করে। জেলার সাধারণ জনগণ এই বিভক্তিকে স্বাগত জানালেও সচেতন নাগরিকরা এর বিরোধিতা করে। কিন্তু সরকার জনস্বার্থে জেলার বিভক্তিকরণ বহাল রাখে। ক. কোম্পানির শাসনের অবসানে কে ভারত শাসনের ক্ষমতা গ্রহণ করেন? খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায় ? গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ-ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল পাওয়া যায়? তার কারণগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করো। ঘ. “উদ্দীপকের তুলনায় পাঠ্যবইয়ে বিবৃত ঘটনায় শাসকের গৃহীত সিদ্ধান্ত ছিল হতাশাব্যঞ্জক” – উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question SB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) কোম্পানির শাসনের অবসানে ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজ বা মহারানি ভিক্টোরিয়া ভারত শাসনের ক্ষমতা সরাসরি গ্রহণ করেন। (খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে এমন একটি শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে প্রদেশগুলো তাদের ওপর ন্যস্ত নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: সংবিধান অনুযায়ী প্রাদেশিক সরকারের ন্যস্ত বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ না থাকা, প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল মন্ত্রীপরিষদ গঠন এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রদেশের নিজস্ব স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ‘D’ জেলার বিভক্তির ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক ‘বঙ্গভঙ্গ’-এর মিল পাওয়া যায়। এর কারণগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. প্রশাসনিক কারণ: অবিভক্ত বাংলা প্রদেশটি আয়তনে অত্যন্ত বিশাল ছিল, যার ফলে কেন্দ্র থেকে একজন গভর্নরের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লর্ড কার্জন বাংলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। ২. রাজনৈতিক কারণ: ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করার জন্য ব্রিটিশ সরকার একটি কৌশল হিসেবে বঙ্গভঙ্গকে ব্যবহার করে। তারা ভারতীয়দের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ঐক্য বিনষ্ট করতে চেয়েছিল। ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ: পূর্ব বাংলার কৃষিজীবী মুসলমানরা অর্থনৈতিকভাবে শোষিত ছিল এবং তাদের উন্নয়নের কোনো সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে, কলকাতার জমিদার ও মহাজন শ্রেণি পূর্ব বাংলার সম্পদ ভোগ করত। এই বৈষম্য দূর করে পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে বঙ্গভঙ্গকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। (ঘ) “উদ্দীপকের তুলনায় পাঠ্যবইয়ে বিবৃত ঘটনায় শাসকের গৃহীত সিদ্ধান্ত ছিল হতাশাব্যঞ্জক” – উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক সুবিধার জন্য জেলার বিভক্তি বহাল রেখেছে, যেখানে সাধারণ জনগণ এই বিভক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ ভারতের ক্ষেত্রে চিত্রটি ছিল ভিন্ন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার অবহেলিত মুসলমানরা নতুন আশা ও স্বাতন্ত্র্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল এবং তারা এই বিভক্তিকে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায় ও জাতীয় কংগ্রেস বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা শুরু করে। এই আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করার ঘোষণা দেয়। এই সিদ্ধান্তটি ছিল হতাশাব্যঞ্জক, কারণ এর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থের চেয়ে পশ্চিম বাংলার ব্যবসায়ী ও জমিদার শ্রেণির স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার ফলে মুসলমানদের মধ্যে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি চরম আস্থার সংকট তৈরি হয় এবং তারা বুঝতে পারে যে, ব্রিটিশ সরকার তাদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিক নয়। সুতরাং, উদ্দীপকের সরকার যেখানে জনস্বার্থে অটল ছিল, ব্রিটিশ সরকার সেখানে রাজনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করে জনগণের একটি বড় অংশের স্বপ্ন ও স্বার্থকে বিসর্জন দিয়েছিল, যা উক্তিটির যথার্থতা প্রমাণ করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2019)

বিশাল আয়তনের জেলা ‘D’ গত বছর বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আয়তনে বড় হওয়ায় বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছিল। তাই সরকার জেলাটিকে দু'ভাগে ভাগ করে। জেলার সাধারণ জনগণ এই বিভক্তিকে স্বাগত জানালেও সচেতন নাগরিকরা এর বিরোধিতা করে। কিন্তু সরকার জনস্বার্থে জেলার বিভক্তিকরণ বহাল রাখে।

ক. কোম্পানির শাসনের অবসানে কে ভারত শাসনের ক্ষমতা গ্রহণ করেন?

খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায় ?

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ-ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল পাওয়া যায়? তার কারণগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের তুলনায় পাঠ্যবইয়ে বিবৃত ঘটনায় শাসকের গৃহীত সিদ্ধান্ত ছিল হতাশাব্যঞ্জক” – উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।