Facebook Pixel

বিদেশি শাসনাধীন কোনো একটি রাষ্ট্রে দু'টি প্রধান সম্প্রদায় বাস করে। প্রায়ই তাদের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও সরকার ব্যর্থ হয়। দেশটি বিভক্ত করাই সমাধান ভেবে সরকার পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ করে। আইনটিতে দু'টি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। ক. পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের গভর্নর কে ছিলেন? খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম গভর্নর ছিলেন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার। (খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশগুলোর নিজস্ব শাসন ব্যবস্থায় স্বাধীনতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে বোঝায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো, প্রদেশগুলোর ওপর ন্যস্ত বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং প্রাদেশিক সরকারগুলো তাদের কাজের জন্য প্রাদেশিক আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ, প্রদেশগুলো তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা লাভ করাই হলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মিল রয়েছে। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাজনের পরিকল্পনা পেশ করেন, যা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ৪ জুলাই বিল উত্থাপন করা হয় এবং ১৮ জুলাই তা রাজকীয় সম্মতি লাভ করে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একটি রাষ্ট্রে দুটি প্রধান সম্প্রদায়ের বিরোধ মেটাতে সরকার দেশটি বিভক্ত করে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আইন পাস করে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমেও ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে 'ভারত' ও 'পাকিস্তান' নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে এই ঐতিহাসিক আইনের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য হুবহু মিলে যায়। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই আইনের মাধ্যমেই দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সমস্যার সমাধান হয়। প্রথমত, এই আইনের ফলে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যা এ অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটে এবং নতুন রাষ্ট্র দুটিতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। দ্বিতীয়ত, এই আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে, যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। এর ফলে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। তৃতীয়ত, এই আইন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এর ফলে এ অঞ্চলের জনগণের কৃষ্টি, সভ্যতা ও রাজনৈতিক চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে এবং তারা নিজস্ব রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন কেবল একটি আইন নয়, বরং এটি ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক দলিল। এই আইনের গুরুত্ব তাই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিদেশি শাসনাধীন কোনো একটি রাষ্ট্রে দু'টি প্রধান সম্প্রদায় বাস করে। প্রায়ই তাদের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও সরকার ব্যর্থ হয়। দেশটি বিভক্ত করাই সমাধান ভেবে সরকার পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ করে। আইনটিতে দু'টি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়।

ক. পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের গভর্নর কে ছিলেন?

খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।