Facebook Pixel

বিদেশি শাসনাধীন কোনো একটি রাষ্ট্রে দু'টি প্রধান সম্প্রদায় বাস করে। প্রায়ই তাদের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও সরকার ব্যর্থ হয়। দেশটি বিভক্ত করাই সমাধান ভেবে সরকার পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ করে। আইনটিতে দু'টি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। ক. পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের গভর্নর কে ছিলেন? খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question ChB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম গভর্নর ছিলেন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার। (খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস করে প্রদেশগুলোকে নিজস্ব শাসনকার্যে স্বাধীনতা প্রদান করাকে বোঝায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল প্রাদেশিক সরকারগুলোকে তাদের নিজ নিজ এলাকার শাসন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল করা এবং কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা। এর ফলে প্রদেশগুলো তাদের ওপর ন্যস্ত বিষয়গুলোতে নিজস্ব আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা লাভ করে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মিল রয়েছে। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনার ভিত্তিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ৪ জুলাই ১৯৪৭ সালে একটি বিল উত্থাপন করা হয়, যা ১৮ জুলাই ১৯৪৭ সালে রাজকীয় সম্মতি লাভ করে 'ভারত স্বাধীনতা আইন' হিসেবে পরিচিতি পায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একটি রাষ্ট্রে দুটি প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধের কারণে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ব্যর্থ হয় এবং দেশটি বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমেও ঠিক একইভাবে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ব্রিটিশ ভারতকে বিভক্ত করে 'ভারত' ও 'পাকিস্তান' নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের আইনি ভিত্তি প্রদান করা হয়েছিল। তাই উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের হুবহু মিল পাওয়া যায়। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনটি ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দলিল। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো: ১. ব্রিটিশ শাসনের অবসান: এই আইনের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্তির পথ প্রশস্ত করে। ২. স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন: এই আইনের ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে দুটি পৃথক জাতিসত্তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। ৩. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা: এই আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নরদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে। ফলে প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয় এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা শাসনকার্যে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ৪. সাংবিধানিক বিবর্তন: এই আইনটি ভারতীয় উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক বিবর্তনের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সমস্যার সমাধান করে নতুন রাষ্ট্রগুলোর জন্য নিজস্ব সংবিধান তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন কেবল একটি আইন ছিল না, বরং এটি ছিল এ অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। এই আইনের মাধ্যমেই ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তিত হয় এবং নতুন আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দুটি স্বাধীন দেশের যাত্রা শুরু হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenChattogram Board (2023)

বিদেশি শাসনাধীন কোনো একটি রাষ্ট্রে দু'টি প্রধান সম্প্রদায় বাস করে। প্রায়ই তাদের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও সরকার ব্যর্থ হয়। দেশটি বিভক্ত করাই সমাধান ভেবে সরকার পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ করে। আইনটিতে দু'টি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়।

ক. পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের গভর্নর কে ছিলেন?

খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।