Facebook Pixel

বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব নির্ধারণ ও রাজস্ব আদায়ের জন্য 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ড' গঠন করেছে। বোর্ডের প্রধানকে বলা হয় 'চেয়ারম্যান'। রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কাজ হলো সংসদ কর্তৃক নির্ধারিত রাজস্ব আদায় করা, হিসাব সংরক্ষণ করা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশসংক্রান্ত কাজ সম্পাদন করা। রাজস্বের প্রধান খাতগুলো হলো আয়কর, ভ্যাট, আমদানি ও রপ্তানি কর, বাণিজ্য কর, সেবা করসহ অন্যান্য খাত। ক. খলিফা উমর (রা.) তার সাম্রাজ্যকে কতটি প্রদেশে বিভক্ত করেছিলেন? খ. বায়তুল মাল কী? ব্যাখ্যা কর। গ. খলিফা উমর (রা.) সাম্রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের জন্য বাংলাদেশের 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের' আদলে কোন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে খলিফা উমর (রা.)-এর রাজস্বব্যবস্থা পর্যালোচনা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

উৎস: Board Exam Question MSB 2025, Board Exam Question RB 2025, Board Exam Question JB 2025, Board Exam Question ChB 2025, Board Exam Question SB 2025, Board Exam Question BB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) খলিফা হযরত উমর (রা.) তাঁর সাম্রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করেছিলেন। (খ) ইসলামি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে বায়তুল মাল বলা হয়। ইসলামি শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের যাবতীয় সরকারি আয় জমা রাখা এবং সেখান থেকে ব্যয় নির্বাহ করার জন্য যে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা ছিল, তাকেই বায়তুল মাল বলা হয়। মহানবি (সা.)-এর সময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থাকলেও তা স্বতন্ত্র বায়তুল মাল হিসেবে অভিহিত হতো না। পরবর্তীতে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর সময়ে আংশিক এবং হযরত উমর (রা.)-এর সময়ে পূর্ণাঙ্গ বায়তুল মাল গঠন করা হয়। হযরত উমর (রা.) ওয়ালিদ ইবনে হিশামের পরামর্শে আব্দুল্লাহ বিন আল কামকে বায়তুল মালের কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন। বায়তুল মালের সঠিক হিসাব রাখার জন্য তিনি 'দিওয়ান' নামে পৃথক বিভাগ গঠন করেন এবং একে আয় ও ব্যয় নামক দুটি বিভাগে বিভক্ত করেন। (গ) খলিফা হযরত উমর (রা.) সাম্রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের জন্য বাংলাদেশের 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের' আদলে 'দিওয়ান-উল-খারাজ' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব নির্ধারণ ও আদায়ের জন্য 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ড' গঠন করেছে, যার প্রধান কাজ হলো নির্ধারিত রাজস্ব আদায় করা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা। অনুরূপভাবে, খিলাফতের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পর হযরত উমর (রা.) রাজস্ব আদায়ের জন্য 'দিওয়ান-উল-খারাজ' নামক একটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি সংক্ষেপে 'দিওয়ান' নামে পরিচিত ছিল। এই বিভাগের প্রধান কাজ ছিল রাজ্যের রাজস্ব আদায় করা এবং আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব-নিকাশ রক্ষা করা। প্রয়োজনীয় সরকারি খরচ নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ এই বিভাগের মাধ্যমে মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হতো। সামরিক ও বেসামরিক খাতে ব্যয়, রাজকর্মচারীদের বেতন এবং জনহিতকর কার্যে অর্থ ব্যয়ের পর যা অবশিষ্ট থাকত, তা বণ্টনের জন্য একটি ভাতাভোগী তালিকা প্রণয়ন করা হতো। ঐতিহাসিক মুইব-এর মতে, উমর (রা.)-এর প্রবর্তিত এই ভাতাভোগী তালিকা ছিল অতুলনীয়, কারণ এতে প্রতিটি গোত্রের প্রতিটি ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমনকি পঙ্গু, দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বায়তুল মাল থেকে বিশেষ ভাতাদানের ব্যবস্থাও ছিল। (ঘ) উদ্দীপকের আলোকে খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর রাজস্বব্যবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তিনি একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও বিজ্ঞানসম্মত রাজস্বব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। হযরত উমর (রা.)-এর রাজস্বব্যবস্থাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: (১) আয় এবং (২) ব্যয়। তাঁর আমলে রাজস্বের প্রধান উৎস ছিল ৭টি। যথা: আল গনিমত, আল যাকাত, আল উশর, আল জিজিয়া, আল খারাজ, আল ফাই এবং আল হিমা। ১. আল গনিমত: যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পদকে গনিমত বলা হতো। এর 4/5 অংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈনিকদের মাঝে এবং 1/5 অংশ বায়তুল মালে জমা হতো। ২. আল যাকাত: এটি একটি শরিয়ত অনুমোদিত বাধ্যতামূলক কর। হযরত উমর (রা.)-এর আমলে ঘোড়ার ব্যবসায় লাভজনক হওয়ায় ঘোড়ার ওপরও যাকাত ধার্য করা হয়েছিল। ৩. আল উশর: কৃষিজমির উৎপাদিত ফসলের ওপর ধার্য কর। ৪. আল জিজিয়া: অমুসলিম প্রজাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা প্রদানের বিনিময়ে নেওয়া কর। ৫. আল খারাজ: বিজিত ভূমির ওপর ধার্য ভূমি কর। ৬. আল ফাই: বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ। ৭. আল হিমা: রাষ্ট্রীয় সংরক্ষিত বনভূমি বা চারণভূমি থেকে প্রাপ্ত আয়। রাজস্ব আদায়ের এই প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ। উদ্দীপকের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতো তিনি 'দিওয়ান-উল-খারাজ' প্রতিষ্ঠা করে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ নিশ্চিত করেন এবং সংগৃহীত অর্থ 'বায়তুল মাল'-এ জমা রাখতেন। এই অর্থ কেবল রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে নয়, বরং জনকল্যাণমূলক কাজে এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবায় ব্যয় করা হতো। পরিশেষে বলা যায়, হযরত উমর (রা.)-এর এই রাজস্বব্যবস্থা ছিল ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণ ভিত্তিক, যা তৎকালীন সময়ে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2025)Rajshahi Board (2025)Jessore Board (2025)Chattogram Board (2025)Sylhet Board (2025)Barisal Board (2025)

বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব নির্ধারণ ও রাজস্ব আদায়ের জন্য 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ড' গঠন করেছে। বোর্ডের প্রধানকে বলা হয় 'চেয়ারম্যান'। রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কাজ হলো সংসদ কর্তৃক নির্ধারিত রাজস্ব আদায় করা, হিসাব সংরক্ষণ করা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশসংক্রান্ত কাজ সম্পাদন করা। রাজস্বের প্রধান খাতগুলো হলো আয়কর, ভ্যাট, আমদানি ও রপ্তানি কর, বাণিজ্য কর, সেবা করসহ অন্যান্য খাত। ক. খলিফা উমর (রা.) তার সাম্রাজ্যকে কতটি প্রদেশে বিভক্ত করেছিলেন? খ. বায়তুল মাল কী? ব্যাখ্যা কর। গ. খলিফা উমর (রা.) সাম্রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের জন্য বাংলাদেশের 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের' আদলে কোন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে খলিফা উমর (রা.)-এর রাজস্বব্যবস্থা পর্যালোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আব্বাবি বংশের ৩য় খলিফা আল মাহ্দী ৭৭৫ সালে বাগদাদের খলিফা হওয়ার পর বহুমুখী বিদ্রোহের সম্মুখীন হন। তাঁর শাসনামলে কদাকার ...

আব্বাসি বংশের ৩য় খলিফা আল মাহদী ৭৭৫ সালে বাগদাদের খলিফা হওয়ার পর বহুমুখী বিদ্রোহের সম্মুখীন হন। তাঁর শাসনামলে কদাকার খর্...

আরশাদ মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে। দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠান...

ইয়ামামার যুদ্ধে কোন ভণ্ডনবি নিহত হন?

ইয়ামামার যুদ্ধে সেনাপতি কে ছিলেন?

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : দলের সংকটময় মুহূর্তে সাকিব দলনেতা নির্বাচিত হয়ে দলে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে পূর্বনির্...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : দলের সংকটময় মুহূর্তে সাকিব দলনেতা নির্বাচিত হয়ে দলে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে পূর্বনির্...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।