Facebook Pixel

আব্বাসি বংশের ৩য় খলিফা আল মাহদী ৭৭৫ সালে বাগদাদের খলিফা হওয়ার পর বহুমুখী বিদ্রোহের সম্মুখীন হন। তাঁর শাসনামলে কদাকার খর্বাকৃতি হাশিম বিন হাকিম (মুকান্না) নিজেকে আল্লাহর অবতার বলে মিথ্যা নবুয়তের দাবি করেন। এ ভণ্ড নবির যথেষ্ট অনুসারী ছিল। তারা সাদা কাপড় ব্যবহার করত বলে তাদেরকে 'মুবায়িদ' বলা হতো। তাছাড়া বাগদাদের পূর্বদিকে 'মুহাম্মির' নামক আর এক দল ভণ্ড লোকের উদ্ভব হয়। তাদের 'জিন্দিক' বলা হতো। পারস্যের কেউ কেউ আবার জাকাত দিতেও অস্বীকার করে। খলিফা মাহদী কঠোর হস্তে সকল ভণ্ডনবি এবং ভণ্ড ধর্মীয় নেতাদেরকে দমন করেন এবং জাকাত অস্বীকারকারীদের জাকাত দিতে বাধ্য করেন। ক. মহানবি কত সালে খায়বার জয় করেন? খ. মুতার যুদ্ধে মহানবি (সা.) পর্যায়ক্রমে তিনজন সেনাপতির নাম ঘোষণা করেন কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে খলিফা আল মাহদীর কার্যক্রমের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন খলিফার কার্যক্রমের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত খলিফার বিদ্রোহ দমনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

উৎস: Board Exam Question MSB 2021, Board Exam Question DB 2021, Board Exam Question RB 2021, Board Exam Question JB 2021, Board Exam Question CB 2021, Board Exam Question ChB 2021, Board Exam Question DiB 2021, Board Exam Question Combined 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মহানবি (সা.) ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে খায়বার জয় করেন। (খ) ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সামন্তরাজ সোরাহবিল কর্তৃক মুসলিম দূত হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য মহানবি (সা.) একটি সেনাদল প্রেরণ করেন। এই মুতার যুদ্ধে তিনি পর্যায়ক্রমে জায়েদ বিন হারিস (রা.), জাফর (রা.) এবং আব্দুল্লাহ (রা.)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। এর কারণ ছিল, মহানবি (সা.) আগে থেকেই অবগত ছিলেন যে এই তিনজন সেনাপতিই যুদ্ধে শহিদ হবেন। তাই নেতৃত্বের শূন্যতা রোধ করতে এবং যুদ্ধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি পর্যায়ক্রমে তিনজনের নাম ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা সকলেই শহিদ হলে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) দায়িত্ব গ্রহণ করে বিজয় অর্জন করেন। (গ) উদ্দীপকে খলিফা আল-মাহদীর কার্যক্রমের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের হযরত আবু বকর (রা.)-এর কার্যক্রমের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, খলিফা আল-মাহদী ৭৭৫ সালে খলিফা হওয়ার পর নানা বিদ্রোহের সম্মুখীন হন, যেখানে মুকান্না নিজেকে নবি হিসেবে দাবি করে এবং মুহাম্মির নামক ভণ্ড দলের উদ্ভব হয়। পাশাপাশি অনেকে যাকাত প্রদানে অস্বীকার করে, যা খলিফা মাহদী কঠোর হস্তে দমন করেন। এই ঘটনাপ্রবাহ হযরত আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলের সাথে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা তাঁর শাসনামলেও তোলায়হা, সাজাহ, আসাদ ও মুসায়লামা নামক ভণ্ডনবিদের আবির্ভাব ঘটে। তারা পবিত্র কুরআনের সুরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতে ঘোষিত নবুওয়তের সমাপ্তি অস্বীকার করে ইসলামি খিলাফতে অরাজকতা সৃষ্টি করে। হযরত আবু বকর (রা.) বুজাখা ও ইয়ামামার যুদ্ধে এসব ভণ্ডনবিদের দমন করেন। তাছাড়া তাঁর শাসনামলে অনেক বেদুঈন নেতা যাকাত প্রদানে অস্বীকার করলে তিনি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং রিদ্দার যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করে ইসলাম ও মদিনা রাষ্ট্রকে রক্ষা করেন। সুতরাং, ভণ্ডনবি দমন এবং যাকাত আদায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র রক্ষা করার দিক থেকে উদ্দীপকের খলিফা আল-মাহদী ও হযরত আবু বকর (রা.)-এর কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। (ঘ) উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার সাথে বিদ্রোহ দমন করে ইসলামের ত্রাণকর্তা উপাধি লাভ করেন। তাঁর বিদ্রোহ দমনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. রিদ্দার যুদ্ধ: মহানবি (সা.)-এর মৃত্যুর পর অনেক নবমুসলিম হতাশ হয়ে পূর্বের ধর্মে ফিরে যেতে থাকে। আবু বকর (রা.) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন, যা ইতিহাসে রিদ্দার যুদ্ধ নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে তিনি ধর্মত্যাগী ও বিদ্রোহী দলগুলোকে পরাজিত করেন। ২. ভণ্ডনবি দমন: নবুওয়তের সমাপ্তি অস্বীকার করে মুসায়লামা, সাজাহ, আসাদ ও তোলায়হা নিজেদের নবি বলে দাবি করলে আবু বকর (রা.) তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। বিশেষ করে বুজাখা ও ইয়ামামার যুদ্ধে তিনি এসব ভণ্ডনবিদের পরাজিত করে ইসলামের বিশুদ্ধতা রক্ষা করেন। ৩. যাকাত আদায়: ইসলামি আইন অনুযায়ী নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর আড়াই শতাংশ যাকাত ধার্য করা হয়। একদল লোক এই আইন অস্বীকার করলে আবু বকর (রা.) কঠোর হস্তে তাদের দমন করে যাকাত আদায় নিশ্চিত করেন এবং ইসলামি বিধি জারি রাখেন। ৪. আঞ্চলিক বিদ্রোহ দমন: বাহরাইনের শাসনকর্তা মুনজিরের মৃত্যুর পর সেখানে বানু বকর গোত্র বিদ্রোহ করলে তিনি আলা-ইবনে হাজরামিকে প্রেরণ করে বিদ্রোহ দমন করেন। ওমানে রাজস্ব পাঠানো বন্ধ এবং ইসলামবিরোধী মনোভাব দেখা দিলে হোজায়ফা ও ইকরামার নেতৃত্বে বিদ্রোহ দমন করা হয়। ৫. ইয়েমেন ও হাজরামাউত অভিযান: ইয়েমেনে ভণ্ডনবি আসাদ আনসির সমর্থক ও হাজরামাউতে কিন্দা গোত্রের বিদ্রোহ দমনে তিনি মুহাজির বিন আবি উমাইয়া ও ইকরামাকে প্রেরণ করেন, যারা সফলভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। পরিশেষে বলা যায়, হযরত আবু বকর (রা.)-এর এই দৃঢ় পদক্ষেপ এবং সামরিক কৌশলের কারণেই খিলাফতের অখণ্ডতা রক্ষা পায় এবং ইসলামি রাষ্ট্র এক চরম সংকট থেকে মুক্তি পায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2021)Dhaka Board (2021)Rajshahi Board (2021)Jessore Board (2021)Cumilla Board (2021)Chattogram Board (2021)Dinajpur Board (2021)Combined Board (2021)

আব্বাসি বংশের ৩য় খলিফা আল মাহদী ৭৭৫ সালে বাগদাদের খলিফা হওয়ার পর বহুমুখী বিদ্রোহের সম্মুখীন হন। তাঁর শাসনামলে কদাকার খর্বাকৃতি হাশিম বিন হাকিম (মুকান্না) নিজেকে আল্লাহর অবতার বলে মিথ্যা নবুয়তের দাবি করেন। এ ভণ্ড নবির যথেষ্ট অনুসারী ছিল। তারা সাদা কাপড় ব্যবহার করত বলে তাদেরকে 'মুবায়িদ' বলা হতো। তাছাড়া বাগদাদের পূর্বদিকে 'মুহাম্মির' নামক আর এক দল ভণ্ড লোকের উদ্ভব হয়। তাদের 'জিন্দিক' বলা হতো। পারস্যের কেউ কেউ আবার জাকাত দিতেও অস্বীকার করে। খলিফা মাহদী কঠোর হস্তে সকল ভণ্ডনবি এবং ভণ্ড ধর্মীয় নেতাদেরকে দমন করেন এবং জাকাত অস্বীকারকারীদের জাকাত দিতে বাধ্য করেন। ক. মহানবি কত সালে খায়বার জয় করেন? খ. মুতার যুদ্ধে মহানবি (সা.) পর্যায়ক্রমে তিনজন সেনাপতির নাম ঘোষণা করেন কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে খলিফা আল মাহদীর কার্যক্রমের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন খলিফার কার্যক্রমের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত খলিফার বিদ্রোহ দমনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আব্বাবি বংশের ৩য় খলিফা আল মাহ্দী ৭৭৫ সালে বাগদাদের খলিফা হওয়ার পর বহুমুখী বিদ্রোহের সম্মুখীন হন। তাঁর শাসনামলে কদাকার ...

আরশাদ মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে। দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠান...

ইয়ামামার যুদ্ধে কোন ভণ্ডনবি নিহত হন?

ইয়ামামার যুদ্ধে সেনাপতি কে ছিলেন?

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : দলের সংকটময় মুহূর্তে সাকিব দলনেতা নির্বাচিত হয়ে দলে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে পূর্বনির্...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : দলের সংকটময় মুহূর্তে সাকিব দলনেতা নির্বাচিত হয়ে দলে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে পূর্বনির্...

উমর বিন আব্দুল আজিজ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।