Facebook Pixel

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। তারপরও এদেশে প্রচুর খাদ্য ঘাটতি রয়েছে। খাদ্যের জন্য প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণ ভর্তুকি দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং খাদ্য ঘাটতি কমছে। ক. উফশী প্রযুক্তি কী? খ. নিরাপদ খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ কেন? গ. বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপসমূহ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ঘ. খাদ্যে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ খাদ্য নিরাপত্তা

উৎস: Test Exam Question SSNIC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) উফশী প্রযুক্তি বলতে উচ্চ ফলনশীল বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারকে বোঝায়, যার মাধ্যমে সনাতন পদ্ধতির তুলনায় একক জমিতে অনেক বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। (খ) নিরাপদ খাদ্য বলতে এমন খাদ্যকে বোঝায় যা ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভেজাল বা জীবাণুমুক্ত এবং মানবদেহের জন্য পুষ্টিকর। নিরাপদ খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিম্নরূপ: ১. শারীরিক ও মানসিক বিকাশ: মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এবং বিশেষ করে শিশুদের সঠিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নিরাপদ খাদ্য অপরিহার্য। ২. রোগ প্রতিরোধ: ভেজাল বা দূষিত খাদ্য গ্রহণ করলে মানবদেহে ক্যান্সার, কিডনি বিকল, হৃদরোগ এবং পেটের পীড়াসহ নানা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ বাসা বাঁধে। নিরাপদ খাদ্য এসব ঝুঁকি হ্রাস করে। ৩. জনস্বাস্থ্য রক্ষা: একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও মেধাবী জাতি গঠনে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। (গ) উদ্দীপকে বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি দূরীকরণে সরকারের গৃহীত ‘কৃষি উপকরণে ভর্তুকি ও সহায়তা প্রদান’-এর পদক্ষেপটি প্রতিফলিত হয়েছে। সাধারণত কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহ প্রদানের জন্য সরকার সার, বীজ, সেচ, বিদ্যুৎ ও কীটনাশকের মতো অপরিহার্য উপকরণগুলোর দাম কমিয়ে দেয় বা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। বাজারমূল্য ও কৃষকের ক্রয়মূল্যের এই পার্থক্য বা সরকারের বহন করা এই অর্থের অংশই হলো ‘ভর্তুকি’। যখন কৃষকদের কম দামে উপকরণ দেওয়া হয়, তখন তাদের উৎপাদন খরচ কমে যায় এবং লাভের পরিমাণ বাড়ে। এতে কৃষকরা অধিক জমিতে চাষাবাদ করতে উৎসাহিত হয়, যার ফলে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় খাদ্য ঘাটতি পূরণ করা সহজ হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার খাদ্য সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল গ্রহণ করেছে। এজন্য সরকার সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণে সরাসরি অর্থ সহায়তা বা ভর্তুকি দিচ্ছে। সরকারের নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলেই কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছে এবং দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ঘাটতি কমে আসছে। (ঘ) উদ্দীপকে সরকার ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে খাদ্যে দ্রুত ও টেকসই স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য শুধু ভর্তুকিই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বহুমুখী কৃষিনীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমার বিশ্লেষণ অনুযায়ী নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত: ১. আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার: কৃষিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ও হাইব্রিড বীজের ব্যবহার এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণ (যেমন: ট্রাক্টর, হারভেস্টার ব্যবহার) নিশ্চিত করতে হবে। ২. কৃষকদের প্রশিক্ষণ: সনাতন পদ্ধতির বদলে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: কৃষক যদি কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে সঠিক দাম না পায়, তবে সে উৎপাদন বিমুখ হয়ে পড়ে। তাই মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষক যাতে ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. ফসল সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণ: বাংলাদেশে প্রতিবছর সংরক্ষণের অভাবে প্রচুর শস্য নষ্ট হয়। তাই পর্যাপ্ত হিমাগার ও আধুনিক গুদাম তৈরি করতে হবে। ৫. সহজ শর্তে কৃষিঋণ: প্রান্তিক চাষিরা যাতে টাকার অভাবে চাষাবাদ বন্ধ না করে, সেজন্য সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকারের ভর্তুকি প্রদানের ফলে উৎপাদন বাড়ছে। কিন্তু একটি দেশের বিশাল জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে হলে এবং দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে উৎপাদনের গতি আরও বাড়াতে হবে। এজন্য শুধু উপকরণ সহায়তা নয়, বরং উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে আধুনিক ও কৃষিবান্ধব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপের পাশাপাশি উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলেই খাদ্যে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Shahid Syed Nazrul Islam College, Mymensingh (2026)

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। তারপরও এদেশে প্রচুর খাদ্য ঘাটতি রয়েছে। খাদ্যের জন্য প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণ ভর্তুকি দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং খাদ্য ঘাটতি কমছে।

ক. উফশী প্রযুক্তি কী? খ. নিরাপদ খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ কেন? গ. বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপসমূহ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ঘ. খাদ্যে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশের জনগণ অতি দরিদ্র। খাদ্যসামগ্রীও প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প। A দেশে প্রতিবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রচুর ফসলহানি হয়। কি...

BSTI-এর পূর্ণরূপ কী?

TCB-এর পূর্ণরূপ হলো—

আদর্শ খাদ্য বলতে কোন খাদ্য বোঝায়?

আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের সংস্থান দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার অভ্যন...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : আমির সাহেব সেমিনারে আলোচনাকালে বলেন, বাংলাদেশে জনগণ নিরাপদ খাদ্যের অভাবে ক্যান্সার,...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : আমির সাহেব সেমিনারে আলোচনাকালে বলেন, বাংলাদেশে জনগণ নিরাপদ খাদ্যের অভাবে ক্যান্সার,...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। এ ধরনের খাদ্য জনস...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। এ ধরনের খাদ্য জনস...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দিনমজুর ময়না মিয়া বাজারে খাদ্যদ্রব্যের যথেষ্ট যোগান দেখে খুশি হন । কিন্তু তিনি যে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।