Facebook Pixel

বাহরামপুরের শাসক জালালউদ্দিন একজন প্রতাপশালী শাসক ছিলেন। তিনি দিপালপুরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে অঞ্চলটি আক্রমণ করেন। প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি। পরবর্তী বছর পুনরায় শক্তি অর্জন করে আক্রমণ করেন এবং বিজয় লাভকরেন। বিজিত অঞ্চলে প্রতিনিধি রেখে তিনি বাহরামপুরে চলে আসেন। পরবর্তীতে তার প্রতিনিধি নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা দেন এবং নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন। এভাবে দিপালপুরে তার প্রতিষ্ঠিত রাজবংশটি নব্বই বছর টিকেছিল। ক. পৃথ্বিরাজ কোন অঞ্চলের রাজা ছিলেন? খ. সোমনাথ মন্দিরের বর্ণনা দাও। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত জালালউদ্দিনের দিপালপুর আক্রমণের সাথে তোমার পঠিত শাসকের যুদ্ধাভিযানের বর্ণনা দাও। ঘ. “জালালউদ্দিন কর্তৃক দিপালপুর বিজয় উক্ত অঞ্চলের পরবর্তী কয়েকশ বছরের ইতিহাস, ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়েছিল” পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. পৃথ্বিরাজ দিল্লি ও আজমির অঞ্চলের রাজা ছিলেন। খ. গুজরাটের কাথিওয়াড়ে অবস্থিত ছিল বিখ্যাত সোমনাথ মন্দির। হিন্দুদের ধারণা ছিল সোমনাথ মন্দির তুর্কিদের জয়ের সাধ্যের বাইরে। তাই সকলে এখানে ধনসম্পদ গচ্ছিত রাখত। সুলতান মাহমুদ তার দীর্ঘ ২৭ বছরের শাসনামলে ১৭ বার ভারতবর্ষে অভিযান চালিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ষোড়শ অভিযান। সুলতান মাহমুদ ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সোমনাথ মন্দিরে তার ষোড়শ অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি এ মন্দির আক্রমণ করে বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ লুণ্ঠন করে চলে যান। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত জালালউদ্দিনের দিপালপুরের আক্রমণের সাথে আমার পঠিত শাসক মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত-অভিযানের মিল রয়েছে। উদ্দীপকের বাহরামপুরের শাসক জালালউদ্দিন দিপালপুরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে অঞ্চলটি আক্রমণ করেন। প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও পুনরায় আক্রমণ করে বিজয় "লাভ করেন। বিজিত অঞ্চলে প্রতিনিধি রেখে তিনি বাহরামপুরে চলে আসেন। পরবর্তীতে তার প্রতিনিধি নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা দেন। এভাবে দিপালপুরে তার প্রতিষ্ঠিত রাজবংশটি নব্বই বছর টিকেছিল। তেমনি ঘটনা মুহাম্মদ ঘুরীর ক্ষেত্রে দেখা যায়। মুহাম্মদ ঘুরী ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে মুলতান, সিন্ধু, গুজরাট ও পাঞ্জাব অধিকার করে দিল্লি দখলের জন্য অগ্রসর হন। এ সংবাদে চৌহান বংশের রাজা পৃথ্বিরাজ উত্তর ভারতের হিন্দু রাজাদের সমন্বয়ে একটি কনফেডারেসি বা ঐক্যজোট গঠন করেন। অতঃপর পৃথ্বিরাজ থানেশ্বরের কাছাকাছি তরাইনের রণক্ষেত্রে সম্মিলিত বাহিনী নিয়ে মুহাম্মদ ঘুরীর মোকাবিলা করেন। এ যুদ্ধ তরাইনের ১ম যুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী পরাজিত ও আহত হয়ে পালিয়ে যান। অতঃপর মুহাম্মদ ঘুরী প্রথম যুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি মোচনের জন্য ১১৯২, খ্রিষ্টাব্দে ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়ে পুনরায় যুদ্ধ যাত্রা করেন। তাকে মোকাবিলা করার জন্য রাজা পৃথ্বিরাজ ১৫০ জন রাজপুত রাজার সমন্বয়ে ৩ লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী গঠন করেন। যার মধ্যে ৩০০ হাতি ও সুসজ্জিত অশ্বারোহী, বাহিনী ছিল। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও মুহাম্মদ ঘুরীর উন্নত রণকৌশলের কাছে পৃথ্বিরাজের সম্মিলিত বাহিনীর পরাজয় ঘটে। পৃথ্বিরাজ পালাতে গিয়ে ধরা পড়েন এবং পরে নিহত হন। এভাবে মুহাম্মদ ঘুরী তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়লাভ করে ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। অতএব উদ্দীপকের জালালউদ্দিনের দিপালপুর আক্রমণের সাথে সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. জালালউদ্দিনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত বিজয়ের ভারবর্তী ইতিহাস ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়। মন্তব্যটি যথার্থ। মুহাম্মদ ঘুরী তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে রাজা পৃথ্বিরাজকে পরাজিত করে ভারতবর্ষে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তরাইনের যুদ্ধ ছিল 'ভাগ্য নির্ধারণী যুদ্ধ। ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, মুহাম্মদ ঘুরী বিজিত অঞ্চলে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তরাইনের ২য় যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী হিন্দু সামরিক নেতাদের হত্যা করেন। তরাইনের ২য় যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর মুসলিম বাহিনী একে একে বিভিন্ন অঞ্চল দখল করেন। তারা হানসি, খুরাম, সামান, আজমির দখল করেন।. কুতুবউদ্দিনের নেতৃত্বে ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দ মিরাট, দিল্লি, কোইল (বর্তমান আলীগড়) মুসলমানদের দখলে আসে। কুতুবউদ্দিন দিল্লিতে রাজধানী স্থাপন করেন। ১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ ঘুরী চান্দেয়ার যুদ্ধে কনৌজের। রাজা জয়চন্দ্রকে পরাজিত করেন। মুহাম্মদ ঘুরী ভারতবর্ষ শাসন পরিচালনার জন্য কুতুবউদ্দিন আইবেকের ওপর দায়িত্ব দিয়ে গজনিতে ফিরে যান। যার ফলে ভারতের রাজনৈতিক দিগন্তে আমূল পরিবর্তন। সূচিত হয়। এভাবে ভারতে বিজয়ী হয়ে মুহাম্মদ ঘুরী তার সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেকের নিকট ভারতের শাসনভার অর্পণ করে স্বীয় রাজধানী গজনিতে ফিরে যান। ফলে তার প্রতিনিধি হিসেবে কুতুবউদ্দিন আইবেক ভারতে ১২০৬ সালে স্বাধীন সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন। যা দাস বংশ নামে পরিচিত। দাস বা মামলুক বংশের শাসনগণ ৯০ বছর ভারত শাসন করেন। যার ফলে ভারতে কয়েকশ বছরের জন্য ইতিহাস ভিন্ন ধারায় প্রকাশিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, মুহাম্মদ ঘুরী বারত বিজয় করে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজ রাজ্যে ফিরে গেলে তার প্রতিনিধি কুতুব উদ্দিন আইবেক ভারতে মামলুক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাহরামপুরের শাসক জালালউদ্দিন একজন প্রতাপশালী শাসক ছিলেন। তিনি দিপালপুরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে অঞ্চলটি আক্রমণ করেন। প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি। পরবর্তী বছর পুনরায় শক্তি অর্জন করে আক্রমণ করেন এবং বিজয় লাভকরেন। বিজিত অঞ্চলে প্রতিনিধি রেখে তিনি বাহরামপুরে চলে আসেন। পরবর্তীতে তার প্রতিনিধি নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা দেন এবং নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন। এভাবে দিপালপুরে তার প্রতিষ্ঠিত রাজবংশটি নব্বই বছর টিকেছিল।

ক.

পৃথ্বিরাজ কোন অঞ্চলের রাজা ছিলেন?

খ.

সোমনাথ মন্দিরের বর্ণনা দাও।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত জালালউদ্দিনের দিপালপুর আক্রমণের সাথে তোমার পঠিত শাসকের যুদ্ধাভিযানের বর্ণনা দাও।

ঘ.

“জালালউদ্দিন কর্তৃক দিপালপুর বিজয় উক্ত অঞ্চলের পরবর্তী কয়েকশ বছরের ইতিহাস, ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়েছিল” পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. সুলতান মাহমুদ কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? গ. চিত্রে প্রদর্শিত মন্দ...

ক. সোমনাথ মন্দিরটি কোথায় অবস্থিত? খ. শাহনামা কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে কোন শাসককে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ২নং ...

ক. গজনি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কেন ? গ. চিত্রে প্রদর্শিত ...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারী বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিয়ান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থসম্পদ লুন্ঠন করে তি...

মুহাম্মদ ঘুরী ছিলেন- i. উদ্যমী ii. দক্ষ সংগঠক iii. উচ্চাকাক্সক্ষী নিচের কোনটি সঠিক?

অজয়নগর ও বিজয়নগর পাশাপাশি অবস্থিত দুটি গ্রাম। শাহাদৎ সাহেব অজয়নগর গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, অন্যদিকে আমিন সাহেব...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্র বর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির...

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।