Facebook Pixel

বসন্তের ঝিরঝির হাওয়ায় আম বাগানে আনমনা হয়ে হাঁটছিল সুমন ও সাদ। হঠাৎ কোকিলের সুমিষ্ট কণ্ঠে তাদের সম্বিৎ ফিরে আসে। তারা আম গাছের মগডালে দুটি কোকিল দেখতে পায়। এ সময় সুমন বলে, কী সুমধুর কণ্ঠ! অথচ রঙটা কালো । এ যাবৎ যত কোকিল দেখেছি সবই কালো। তখন সাদ বলে, ঠিক বলেছ। তবে মনে রেখো, কোনো কোকিলই কিন্তু কাক নয়। ক. আরোহমূলক লম্ফ কী? খ. বৈজ্ঞানিক আরোহ সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করে— ব্যাখ্যা করো। গ. সুমনের বক্তব্যে কোন আরোহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. সাদের বক্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ আরোহের প্রকারভেদ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আরোহমূলক লম্ফ হলো বিশেষ থেকে সার্বিকে, জানা সত্য থেকে অজানা সত্যে গমন করার প্রক্রিয়া। খ. বৈজ্ঞানিক আরোহের যুক্তিবাক্য সর্বদা সার্বিক সংশ্লেষক হয়ে থাকে। সংশ্লেষক যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে নতুন তথ্য দান করে। যেমন: ‘সকল মানুষ হয় মরণশীল' এই বাক্যে 'মরণশীল' বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য ‘মানুষ' সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রদান করে। ‘মরণশীল’ সংক্রান্ত এ তথ্যটি ‘মানুষ’-এর জাত্যর্থকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় না । এ জন্যেই বলা হয়, বৈজ্ঞানিক আরোহ সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করে। গ. সুমনের বক্তব্যে অবৈজ্ঞানিক আরোহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়াই কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও প্রতিকূল দৃষ্টান্ত রহিত অভিজ্ঞতার আলোকে যে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। যেমন: আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই স্বার্থপর। অতএব, সব মানুষ হয় স্বার্থপর। এখানে অনুকূল দৃষ্টান্তের আলোকে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় সুমন দুটি কোকিলকে দেখে বলে, এ যাবৎ যত কোকিল দেখেছি সবই কালো। অতএব, সব কোকিলই হয় কালো। অর্থাৎ অনুকূল অভিজ্ঞতার আলোকে সুমন এ বক্তব্য দিয়েছে। এ কারণে বলা যায়, সুমনের বক্তব্য অবৈজ্ঞানিক আরোহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. সাদের বক্তব্যে নঞর্থক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। এ কারণে তার বক্তব্য যথার্থ নয়। যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়মানুসারে, কোনো পদের সংজ্ঞায় সদর্থক বা ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার করতে হবে, কোনো নঞর্থক বা নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। এ নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো পদের সংজ্ঞায় নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার করলে যে ভ্রান্তি ঘটে তাকে নঞর্থক সংজ্ঞা বলে। যেমন: ‘সূর্য নয় গ্রহ' । এখানে সূর্য কী নয় তা বলা হয়েছে কিন্তু সূর্য কী তা বলা হয়নি। এ কারণে দৃষ্টান্তটি নঞর্থক সংজ্ঞাজনিত দোষে দুষ্ট। যৌক্তিক সংজ্ঞায় এরূপ ভ্রান্তি গ্রহণযোগ্য নয়। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় সাদ কোকিল পাখি সম্পর্কে বলে, কোকিল নয় কাক। অর্থাৎ সে কোকিল পদের সংজ্ঞায় নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করেছে। এ কারণে তার বক্তব্যে নঞর্থক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। পরিশেষে বলা যায়, কোনো পদের সংজ্ঞায় নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। নেতিবাচক শব্দের মাধ্যমে কোনো পদের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। এজন্য সাদের নঞর্থক বক্তব্যটি যথার্থ নয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বসন্তের ঝিরঝির হাওয়ায় আম বাগানে আনমনা হয়ে হাঁটছিল সুমন ও সাদ। হঠাৎ কোকিলের সুমিষ্ট কণ্ঠে তাদের সম্বিৎ ফিরে আসে। তারা আম গাছের মগডালে দুটি কোকিল দেখতে পায়। এ সময় সুমন বলে, কী সুমধুর কণ্ঠ! অথচ রঙটা কালো । এ যাবৎ যত কোকিল দেখেছি সবই কালো। তখন সাদ বলে, ঠিক বলেছ। তবে মনে রেখো, কোনো কোকিলই কিন্তু কাক নয়। 

ক.

আরোহমূলক লম্ফ কী?

খ.

বৈজ্ঞানিক আরোহ সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করে— ব্যাখ্যা করো।

গ.

সুমনের বক্তব্যে কোন আরোহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

সাদের বক্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন করো। 

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।