ক.
বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংগৃহীত, সংকলিত ও প্রকাশিত, পরিসংখ্যানিক তথ্যকে বেসরকারি পরিসংখ্যান বলে।
খ.
খাদ্য সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যুরোই একমাত্র উৎস নয়।
ব্যাখ্যা: খাদ্য সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যুরোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্য মন্ত্রণালয় খাদ্য দপ্তরের মাধ্যমে দেশের উৎপাদিত মোট খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ, চাহিদা ও ঘাটতি সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়।
অতএব বলা যায়, খাদ্য সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যুরোই একমাত্র উৎস নয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও খাদ্য সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।
গ.
উদ্দীপকের আলোকে জনাব করিমের তথ্যে সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান নির্দেশ করে।
সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো:
১.সরকারি পরিসংখ্যান: যে সকল পরিসংখ্যান বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান (যেমন- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) বা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়) কর্তৃক সংগৃহীত, সংকলিত ও প্রকাশিত হয় তাকে সরকারি পরিসংখ্যান বলে।
বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের বিভিন্ন বিষয়, যেমন- কৃষি,খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, আদমশুমারি ইত্যাদি ছাড়াও আরও বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য সংগ্রহ করে বুলেটিন আকারে প্রকাশ করে থাকে। সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনে সমস্যার তথ্য সংগ্রহ করে ও সমাধানের সুপারিশ করে বুলেটিন আকারে প্রকাশ করে থাকে।
২. আধা-সরকারি পরিসংখ্যান: যে সকল পরিসংখ্যান বিভিন্ন স্বায়ত্ত-শাসিত বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংগৃহীত, সংকলিত ও প্রকাশিত হয় তাকে আধা সরকারি পরিসংখ্যান বলে।
বিভিন্ন আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন- বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ, বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সমূহ বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনে সমস্যার তথ্য সংগ্রহ করে ও সমাধানের সুপারিশ করে বুলেটিন আকারে প্রকাশ করে থাকে।
৩. বেসরকারি পরিসংখ্যান: যে সকল পরিসংখ্যান বা অন্য কোনো গবেষক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংগৃহীত, সংকলিত ও প্রকাশিত হয় তাকে বেসরকারি পরিসংখ্যান বলে।
ঘ.
উদ্দীপকে করিম মতামত দিয়েছে, বাংলদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যান এর উৎকর্ষতা সাধন করা প্রয়োজন। কেননা বাংলাদেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেসকল তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকে তা সব সময় নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল হয় না। এই সকল তথ্যের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। এই সকল সীমাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
১. দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদদের দ্বারা অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করতে হবে।
২. তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং বর্তমান নমুনা কাঠামো ব্যবহার করতে হবে।
৩. দক্ষ পরিসংখ্যানবিদদের সাহায্যে সঠিক নমুনায়ন পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ, উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করতে হবে।
৪. তথ্য সংগ্রহের পূর্বে তথ্য সংগ্রহকারীদের যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ দান করতে হবে।
৫. প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক গবেষণা এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করে তথ্য উপস্থাপনার মান উন্নত করতে হবে।
৬. তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যাবলির সমন্বয় সাধন করতে হবে।
৭. দক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করে তথ্য উপস্থাপনার মান উন্নত করতে হবে।
৮. তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যের উপস্থাপনা, বিশ্লেষণ ও মুদ্রণে যে অযথা বিলম্ব হয় তা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও কার্যকর করতে হবে।
৯. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে অধিক দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে অধিক শক্তিশালী করতে হবে।
১০. তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশনার দায়িত্ব মূলত সরকারের হলেও পরিসংখ্যানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকারের প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।
উপর্যুক্ত ব্যবস্থাসমূহ গৃহীত হলে প্রকাশিত পরিসংখানের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পাবে।