Facebook Pixel

বাংলাদেশ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি, বেসরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে। একজন পরিসংখ্যানবিদ বললেন যে, সংগৃহীত তথ্য যথাযথ হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। ক. সরকারি পরিসংখ্যান কাকে বলে? খ. “সঠিক তথ্যের অভাবই বাংলাদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের বড় অন্তরায়”— ব্যাখ্যা কর। গ. বাংলাদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের দোষত্রুটি বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রকাশিত পরিসংখ্যানের উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে তোমার মতামত দাও।

বিষয়: পরিসংখ্যান ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ বাংলাদেশের প্রকাশিত পরিসংখ্যান

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নীতি নির্ধারণের উদ্দেশ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার মাধ্যমে যেসব পরিসংখ্যানগত তথ্য সংগ্রহ, সংকলন, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ করা হয়, তাকে সরকারি পরিসংখ্যান বলে। খ. পরিসংখ্যানের মূল ভিত্তি হলো নির্ভুল ও সঠিক উপাত্ত। বাংলাদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের একটি বড় সমস্যা হলো মাঠপর্যায় থেকে সঠিক তথ্যের অভাব। অনেক সময় অজ্ঞতা, কুসংস্কার বা করভীতির কারণে সাধারণ মানুষ তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক তথ্য দিতে চায় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহকারীদের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণেও ভুল বা কাল্পনিক তথ্য সংগৃহীত হয়। উপাত্ত যদি গোড়াতেই ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে তা বিশ্লেষণ করে পাওয়া ফলাফলও ভুল হতে বাধ্য, যা জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। একারণেই সঠিক তথ্যের অভাবকে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের সবচেয়ে বড় অন্তরায় বলা হয়। গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানের জন্য তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য দোষত্রুটি রয়েছে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো: ১. অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ তথ্য: মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের সময় সাধারণ মানুষের অসচেতনতা এবং কর্মীদের অবহেলার কারণে অনেক সময় সঠিক তথ্য উঠে আসে না। ফলে পরিসংখ্যানের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ২. তথ্যের অসামঞ্জস্যতা: একই বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে অনেক সময় ব্যাপক অমিল বা পার্থক্য দেখা যায়। এটি ব্যবহারকারীদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করে। ৩. বিলম্বে প্রকাশ: বাংলাদেশে পরিসংখ্যানগত উপাত্ত সংগ্রহ থেকে শুরু করে তা প্রক্রিয়াজাত করে প্রকাশ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে পুরোনো তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমানের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ৪. দক্ষ জনবলের অভাব: আধুনিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ পরিসংখ্যানবিদের অভাব রয়েছে। ৫. সমন্বয়হীনতা: তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয়ের অভাব দেখা যায়, যার ফলে একই কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অর্থের অপচয় হয়। ঘ. উদ্দীপকের পরিসংখ্যানবিদের মতে, সংগৃহীত তথ্য যথাযথ হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। বাংলাদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের উৎকর্ষতা বা মান বৃদ্ধির জন্য আমার মতামত নিচে তুলে ধরা হলো: ১. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সঠিক তথ্য প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা নির্ভুল তথ্য দিতে উৎসাহিত হয়। ২. প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি: তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিশ্লেষণের কাজে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ করতে হবে। কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজে আধুনিক সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমবে এবং দ্রুত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা সম্ভব হবে। ৪. সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন: কাজের দ্বৈততা এড়াতে এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থার মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় থাকতে হবে। ৫. যথাসময়ে প্রকাশ: সংগৃহীত তথ্য যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করা হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে প্রকাশনা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ও আধুনিকায়ন করতে হবে। উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের মান ও উৎকর্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানে নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

বাংলাদেশ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি, বেসরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে। একজন পরিসংখ্যানবিদ বললেন যে, সংগৃহীত তথ্য যথাযথ হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

ক.

সরকারি পরিসংখ্যান কাকে বলে?

খ.

“সঠিক তথ্যের অভাবই বাংলাদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের বড় অন্তরায়”— ব্যাখ্যা কর।

গ.

বাংলাদেশে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের দোষত্রুটি বর্ণনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রকাশিত পরিসংখ্যানের উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।