Facebook Pixel

বাংলাদেশের মুসলিমদের জন্য প্রচলিত একটি আইন অনুযায়ী স্বামী স্ত্রীকে ভরণপোষণ ও দেনমোহর দিতে বাধ্য থাকবে। ইচ্ছে হলেই যখন তখন তালাক দেওয়া যাবে না। বহুবিবাহ করা এবং বাল্যবিবাহ দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আছে। পিতামহ জীবিত থাকলে ও পিতার মৃত্যুর পরও শিশুদের সম্পত্তি পাবার অধিকার দেওয়া হয়েছে। ক. আইন কী? খ. সামাজিক সমস্যা কীভাবে সামাজিক আইন রচনার পথ সুগম করে? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে কোন সামাজিক আইনের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো কি মুসলিম নারী ও শিশুর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদাদানের জন্য যথেষ্ট? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

বিষয়: সমাজকর্ম ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ সামাজিক আইন ও সমাজকর্ম

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মানুষের বাহিক্য আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত বিধিবিধানই আইন। খ. সামাজিক সমস্যা সমাজের বিভিন্ন অংশে বিরূপ প্রভাব ফেলে, জনসাধারণের- ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং জনগণ আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাঁধা সৃষ্টি করে। যখন এই সমস্যাগুলো প্রকট আকার ধারণ করে এর প্রভাব সমাজের বৃহত্তর অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন নাগরিকরা বিভিন্নভাবে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং এর থেকে পরিত্রাণের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে। এরকম পরিস্থিতিতে নাগরিক ভোগান্তির নিরসনকল্পে সামাজিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সামাজক আইন তৈরির উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। এভাবেই সামাজিক সমস্যা সামাজিক আইন রচনার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করে। গ. উদ্দীপকে মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সালের কথা বলা হয়েছে। সামাজিক আইন ইতিহাসে মুসলিম পারিবারিক, আইন এক অনন্য সংযোজন। বাংলাদেশে মুসলমান নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা প্রদানে প্রণীত হয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন। এ আইনটি বিশেষ করে মুসলিম সমাজে বহুবিবাহ, দেনমোহর, তালাক, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি পারিবারিক বিষয়াদি বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়। এই আইনে পিতামহ জীবিত থাকলে ও পিতার মৃত্যুর পরও শিশুদের সম্পত্তির অধিকার দেওয়া আছে। উদ্দীপকে আলোচিত আইনেও দেখা যায়, দেনমোহর, ভরণপোষণ, তালাক, দ্বিতীয় বিয়ে ইত্যাদি নানান বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। আর এসব আইনের ধারা মুসলিম পারিবারিক আইনের সংযোজিত আছে। সুতরাং মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ দিকেই উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়গুলো মুসলিম নারী ও শিশুর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা দানের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করি। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে বিবাহ, রেজিস্ট্রি তালাক, বিবাহ বিচ্ছেদ, খোরপোশ ও দেনমোহার, বহুবিবাহ, ও উত্তরাধিকারসহ নারী অধিকার ও কল্যাণবিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োজনে আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ আইন অবহেলিত নারী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ, ব্যাপক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদার জায়গার নিশ্চয়তা বিধান করেছে। এই আইন 'প্রবর্তনের পূর্বে বহু: বিবাহ পুরুষের ইচ্ছাধীন ব্যাপার ছিল মাত্র। তারা চাইলেই যখন খুশি তখন বিবাহ করতে পারত। রেজিস্ট্রেশনের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। নারীর আইন প্রতিকার লাভের জায়গা ছিল না। স্বামীর তালাক শব্দটি উচ্চারণের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে অনেক সংসার শেষ হয়ে যেত এবং তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী লিখিত প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে দেনমোহর ও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নারীরা কতটা অবহেলিত এবং অবজ্ঞার শিকার ছিল তা এই আইন প্রণয়নের পূর্ব অবস্থার দিকে তাকালেই বোঝা যায়। এই প্রেক্ষাপটে মুসলিম পারিবাহিক আইন বিবাহ রেজিস্ট্রশনের বিধান করেছে, দেনমোহর প্রদানে বাধ্যবাধকতা এনেছে। আবার দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, তালাককে নিয়মানুগ পদ্ধতিতে নিয়ে এসেছে। এই আইনে উল্লেখ করা হয়, দাদা জীবিত থাকা অবস্থায় কারও পিতা মারা গেলে দাদার সম্পত্তি হতে নাতি-নাতনিদের বঞ্চিত করা যাবে না। আর্থাৎ এই আইনের মাধ্যমে এতিম-শিশুদের উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিকানা স্বীকার করে তাদের মালিকানা আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা দানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিবাহের বয়স বেঁধে দিয়েছে। এ সমস্ত বিধান আইনে সংযোজন নারী ও শিশুদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদাদানের ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়েছে। সুতরাং মনে করি, এই আইনটি মুসলিম নারী ও শিশুর সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের মুসলিমদের জন্য প্রচলিত একটি আইন অনুযায়ী স্বামী স্ত্রীকে ভরণপোষণ ও দেনমোহর দিতে বাধ্য থাকবে। ইচ্ছে হলেই যখন তখন তালাক দেওয়া যাবে না। বহুবিবাহ করা এবং বাল্যবিবাহ দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আছে। পিতামহ জীবিত থাকলে ও পিতার মৃত্যুর পরও শিশুদের সম্পত্তি পাবার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

ক.

আইন কী?

খ.

সামাজিক সমস্যা কীভাবে সামাজিক আইন রচনার পথ সুগম করে? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে কোন সামাজিক আইনের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো কি মুসলিম নারী ও শিশুর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদাদানের জন্য যথেষ্ট? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Legislation অর্থ হলো-

Problem শব্দের উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে?

RSS কত সালে চালু হয়

Social Problem-এর বাংলা প্রতিশব্দ কী?

'T' একটি সামাজিক আইন। এটি নারী ও শিশু কল্যাণমূলক আইন। আইনটির আরও কতিপয় ধারা রয়েছে। যেমন- উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা, বহুবিব...

ক. আইন কী? খ. সামাজিক আইনের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে কোন সামাজিক আইনকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ...

ক. আইন কী? খ. সামাজিক আইনের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে কোন সামাজিক ধারাকে ইঙ্গিত করা হয়ে...

'Legislation' শব্দটির অর্থ কী?

পারিবারিক আদালত কোন আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়?

'textM' একটি সামাজিক আইন। এই আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো দেনমোহর, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, তালাক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি। ক. আইন ক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।