Facebook Pixel

বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে কিছু সংস্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন। উমাইয়া খিলাফতের সময় একজন খলিফা এরূপ সংস্কার কার্য করেছিলেন। তিনি ডাক বিভাগের সংস্কার, ভাষার সংস্কার, রাজস্ব সংস্কার করেছিলেন। তাকে তার অবদানের জন্য উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। ক. উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? খ. কুব্বাত আস সাখরা কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে কোন উমাইয়া খলিফার কথা বলা হয়েছে? তার সংস্কার কর্ম ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত খলিফাকে কেন উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা মুয়াবিয়া (রা.) খ. মহানবি (সা.) যে পাথর খন্ডের উপর দাঁড়িয়ে মেরাজ গমন করেন, খলিফা আব্দুল মালিক সেই পাথরকে কেন্দ্র করে গম্বুজ বিশিষ্ট অষ্টকোণাকার স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন, যা কুব্বাতুস সাখরা নামে পরিচিত। এটি উমাইয়া স্থাপত্যের একটি অমর নিদর্শন। খলিফা আব্দুল মালিক জেরুজালেমে ৬৯১ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শেষ 'করেন। এটি চুনা পাথরে নির্মিত একটি ইমারত। গ. উদ্দীপকে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে কিছু সংস্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন। উমাইয়া খিলাফতের সময় একজন খলিফা এরূপ সংস্কার কার্য করেছিলেন। তিনি হলেন খলিফা আব্দুল মালিক। তিনি ডাক বিভাগের সংস্কার, ভাষার সংস্কার, রাজস্ব সংস্কার করেছিলেন। তাকে তার অবদানের জন্য উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। তিনি বিশৃঙ্খলাপূর্ণ প্রশাসনকে নানা প্রকার সংস্কারের মাধ্যমে ঢেলে সাজিয়েছিলেন। তিনি প্রাথমিক সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোকাবিলা করেছেন এবং আরবি ভাষার উন্নয়ন ও আরবি মুদ্রা প্রচলনের মাধ্যমে প্রশাসনে স্থায়ী কৃতিত্বের ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র শুধু আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় সরকারি কাগজপত্র আরবি ভাষায় রক্ষিত হতো। আব্দুল মালিক শাসন ব্যবস্থাকে স্বতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয়করণ করার উদ্দেশ্যে আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দান করেন। তার শাসন ব্যবস্থায় এরূপ প্রশাসনিক সংস্কার ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনি তার খিলাফলকালে তৎকালীন বিদ্রোহপূর্ণ অবস্থাকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করে সকল বাধা কাটিয়ে উমাইয়া শাসনকে স্বতন্ত্র রূপ দান করেন। আল মুখতারকে দমন, খালিদ ও আমরের বিদ্রোহ দমন, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আফ্রিকা পুনরুদ্ধার প্রভৃতি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এছাড়াও শাসননীতি সংস্কার তথা আরবি ভাষার প্রাধান্য, ডাক বিভাগের সংস্কার, আরবি মুদ্রার প্রচলন, রাজস্ব সংস্কার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড উমাইয়া বংশের ভিত মজবুতকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। ঘ. আব্দুল মালিক সকল বিদ্রোহ দূর করে উমাইয়া খিলাফতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং সংস্কারের মাধ্যমে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেন বিধায় তাকে উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়। আব্দুল মালিকের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সিংহাসন তার জন্য পুষ্পশয্য্য ছিল না। সিংহাসনে আরোহণ করেই তাকে বিভিন্ন প্রকার বিপদ-আপদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সিংহাসনের প্রতিদ্বন্দ্বী খালিদ ইবনে ইয়াজিদ ও আমর বিন সাঈদ ব্যতীত শত্রু, বিদ্রোহী, উচ্চাভিলাষী ব্যক্তিদের দ্বন্দ্ব, কোন্দল, অসন্তোষ, অরাজকতা, আব্দুল মালিকের বিশ বছরের রাজত্বকালকে বিপদজ্জ্বল করে তোলে। মদিনা, ইরাক ও পারস্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ দানা বাঁধে। এ সুযোগ বুঝে রোমানরাও মুসলিম সাম্রাজ্যে হানা দিতে শুরু করে। সিংহাসনে আরোহণ করে তিনি নানা প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ দক্ষতার সাথে শাসন নীতির সংস্কারের মাধ্যমে সকল বাধা কাটিয়ে উমাইয়া শাসনকে সুদৃঢ় করেন। খলিফা আব্দুল মালিক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ও সুকৌশলে বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিভিন্ন অঞ্চল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে শাসনকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। এছাড়াও আব্দুল মালিক নানা প্রকার প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে সর্বত্র আরবি ভাষা এবং সংস্কৃতি সন্নিবেশন করে ইসলামি শাসন ব্যবস্থাকে আরও প্রসারিত করেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির সঠিক বাস্তবায়নের ফলে ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা আরও গতিশীল হয়। সর্বোপরি আব্দুল মালিকের কর্মদক্ষতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাহসী নেতৃত্ব উমাইয়া রাজবংশকে আসন্ন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে এবং তা আরও সুদৃঢ় হয়। এসব কারণে তাকে উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে কিছু সংস্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন। উমাইয়া খিলাফতের সময় একজন খলিফা এরূপ সংস্কার কার্য করেছিলেন। তিনি ডাক বিভাগের সংস্কার, ভাষার সংস্কার, রাজস্ব সংস্কার করেছিলেন। তাকে তার অবদানের জন্য উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

ক.

উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

খ.

কুব্বাত আস সাখরা কী? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে কোন উমাইয়া খলিফার কথা বলা হয়েছে? তার সংস্কার কর্ম ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত খলিফাকে কেন উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।