Facebook Pixel

বর্তমান যন্ত্রসভ্যতার যুগে 'X' শিল্পের গুরুত্ব সর্বাপেক্ষা অধিক। অন্যান্য শিল্পের ভিত্তি এর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। সামান্য একটি আলপিন থেকে আরম্ভ করে বৃহদাকার যন্ত্রপাতি পর্যন্ত সব দ্রব্যই 'X' শিল্প কেন্দ্রে প্রস্তুত হয়। ক. শিল্প কাকে বলে? খ. গ্রাফাইটের ব্যবহার ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' শিল্পটি গড়ে ওঠার প্রাকৃতিক নিয়ামক ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের বিশ্বব্যাপী উৎপাদন বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ভূগোল ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ শিল্প

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যে কর্মপ্রচেষ্টা ও প্রক্রিয়ার দ্বারা মানুষ বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য আহরণ করে এবং এর পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তাকে শিল্প বলে। খ. গ্রাফাইট হলো এক ধরনের ধূসর বা কালো বর্ণের অধাতব খনিজ পদার্থ। গ্রাফাইটের ব্যবহার হলো- ১. পেন্সিলের শিস তৈরিতে, ২. ধাতু গলানোর পাত তৈরিতে, ৩. বিভিন্ন যন্ত্রের ক্ষয়রোধে, ৪. বিদ্যুৎ পরিবাহী ছাপাখানার অক্ষর, রং প্রস্তুত, পিচ্ছিল ও উজ্জ্বলকারক পদার্থ হিসেবেও গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' শিল্পটি হলো লৌহ ও ইস্পাত শিল্প। লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠার জন্য কিছু প্রাকৃতিক নিয়ামক প্রয়োজন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো: ১. কাঁচামালের সান্নিধ্য: লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামাল লৌহ আকরিক। লৌহ খুব ভারি বলে তা বহন করা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এ কারণে পৃথিবীর অধিকাংশ লৌহ ও ইস্পাত শিল্পগুলো লৌহ খনির নিকটেই গড়ে উঠেছে। ২. কয়লার সান্নিধ্য: লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের জন্য কয়লা অপরিহার্য। শিল্পক্ষেত্রে এটাই শক্তির প্রধান উৎস। ৩. জলবায়ু: শিল্পের অবস্থানের ওপর জলবায়ু পরোক্ষভাবে প্রভাববিস্তার করে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে মৃদু স্বাস্থ্যকর জলবায়ু শ্রমিকের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ৪. পানি সরবরাহ: লৌহ আকরিক ধৌত ও পরিশোধন এবং কাঁচা লৌহকে ঠান্ডা করার জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের লৌহ ও ইস্পাত কেন্দ্রগুলো হ্রদ, নদী ও সমুদ্রের তীরে গড়ে উঠেছে। ভারতের জামশেদপুর লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের কারখানাটি এ কারণেই সূর্বণরেখা ও খকাই নদীর সঙ্গমে স্থাপিত হয়েছে। ঘ. আধুনিক যন্ত্রসভ্যতা ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রধান ভিত্তি হলো লোহা ও ইস্পাত শিল্প, আর এই শিল্পের অপরিহার্য কাঁচামাল হিসেবে লৌহ আকরিক বিশ্ব অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ভূপ্রকৃতি ও খনিজ গঠনের ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর সব দেশে এই সম্পদ সমানভাবে পাওয়া যায় না, যার ফলে এর উৎপাদন ও বণ্টনে ব্যাপক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। বিশ্বের মোট আকরিক লোহা উৎপাদনের একটি সিংহভাগ আসে মূলত অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চীন, ভারত এবং রাশিয়া থেকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং দেশটির পশ্চিম অংশের পিলবাবা অঞ্চল উন্নত মানের 'হেমাটাইট' আকরিকের জন্য বিখ্যাত। ব্রাজিল উৎপাদনের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং দেশটির বিখ্যাত কারাজাস ও মিনার গেরাইস খনি থেকে বিপুল পরিমাণ উচ্চমানের লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয়, যা বিশ্ববাজারে সমাদৃত। অন্যদিকে, চীন বিশ্বের বৃহত্তম ব্যবহারকারী দেশ হওয়ায় পাশপাশি তাদের নিজস্ব আনশান, হেবেই এবং লিয়াওনিং প্রদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আকরিক লোহা উৎপাদন করে থাকে। যদিও তাদের বিশাল শিল্পের চাহিদা মেটাতে তাদের বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত চতুর্থ বৃহত্তম উৎপাদক দেশ হিসেবে পরিচিত। ভারতের ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ, ছত্রিশগড়ের বাইলাডিলা এবং ঝাড়খন্ড রাজ্যের খনিগুলো থেকে উত্তোলিত উন্নত মানের লোহা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। - রাশিয়া এবং ইউক্রেন ও ইউরোপীয় অঞ্চলে আকরিক লোহার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে রাশিয়ার কুরস্ক ম্যাগনেটিক অ্যানোমেলি অঞ্চলটি আকরিকের বিশাল মজুদের জন্য পরিচিত। বিশ্বব্যাপী এই উৎপাদনের বণ্টন লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো যেমন অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল মূলত প্রধান রপ্তানিকারক হিসেবে কাজ করে এবং উত্তর গোলার্ধের শিল্পোন্নত দেশগুলো যেমন চীন, জাপান ও জার্মানি প্রধান আমদানিকারক হিসেবে এই কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। পরিশেষে বলা যায়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কোনো দেশ হয়তো আকরিক লোহার সমৃদ্ধ (যেমন: অস্ট্রেলিয়া) আবার কোনো দেশ সেই আকরিক ব্যবহার করে শিল্পে উন্নত। এই খনিজ সম্পদের সঠিক বণ্টন ও ব্যবহারই বর্তমান বিশ্বের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সচল রেখেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বর্তমান যন্ত্রসভ্যতার যুগে 'X' শিল্পের গুরুত্ব সর্বাপেক্ষা অধিক। অন্যান্য শিল্পের ভিত্তি এর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। সামান্য একটি আলপিন থেকে আরম্ভ করে বৃহদাকার যন্ত্রপাতি পর্যন্ত সব দ্রব্যই 'X' শিল্প কেন্দ্রে প্রস্তুত হয়।

ক.

শিল্প কাকে বলে?

খ.

গ্রাফাইটের ব্যবহার ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' শিল্পটি গড়ে ওঠার প্রাকৃতিক নিয়ামক ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের বিশ্বব্যাপী উৎপাদন বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A B লৌহ আকরিক কার্পাস ক. কাপার্স বয়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কী? খ. ওসাকাকে জাপানের ম্যানচেস্টার বলা হয় কেন? গ. B শিল্পট...

A→ আধুনিক সভ্যতায় ক একটি মূল্যবান দ্রব্য। দেশের পূর্তকর্ম ও নগরায়ণ সম্পূর্ণভাবে উক্ত দ্রব্যটির ওপর নির্ভরশীল। B &ra...

EPZ এর পূর্ণরূপ কী?

ক. লৌহ ও ইস্পাত শিল্প কী? খ. 'বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প একটি সম্ভাবনাখাত'- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ঈঙ্গিতকৃত 'ক' স্থানীয় শিল...

ক. শিল্পের সংজ্ঞা দাও। খ. শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাঁচামালের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রথম শিল্পটির কা...

ক. চায়ের বৈজ্ঞানিক নাম কী? খ. 'মৌসুমি বায়ুর জুয়া খেলা' বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকের 'ক' শিল্প গড়ে ওঠার কারণসমূহ বাংলাদেশের...

ক. শিল্পের স্থানীয়করণ কাকে বলে? খ. কাঁচামালের সহজলভ্যতা শিল্পায়নে সহায়ক ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপক 'ক' চিহ্নিত দেশটি বস্ত্র...

ক. শিল্প কী? খ. 'শক্তি সম্পদের ওপর নির্ভর করে শিল্প গড়ে উঠে'- ব্যাখ্যা কর। গ. মানচিত্রে চিহ্নিত 'ক' দেশটির নারীর ক্ষমতায়...

ক. ময়মনসিংহ বিভাগের একটি চিনি শিল্প কারখানার নাম লেখ। খ. শিল্পের জন্য বাজার প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' অ...

ক. শিল্পের স্থানীয়করণ কাকে বলে? খ. শিল্পের বিকাশে দক্ষ শ্রমিক অপরিহার্য- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে 'ক' এ ইঙ্গিতকৃত শিল্প ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।