Facebook Pixel

বরকত সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি দৃঢ় হস্তে বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দান করেন। আরবি লিপির উৎকর্ষ সাধন, আরবি মুদ্রা প্রচলন এবং ডাক বিভাগের সংস্কার তার শাসনামলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। ক. মুয়াবিয়া কত সালে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন? খ. মুয়াবিয়া সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেন কেন? গ. বরকত সাহেবের শাসনকাজের সাথে যে খলিফার শাসনের মিল রয়েছে তার শাসন নীতি ও সংস্কারের বর্ণনা দাও। ঘ. "বরকত সাহেবই উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা” – মতামত প্রদান করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে মুয়াবিয়া খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন। খ. শাসনকার্যের সুবিধার জন্য খলিফা মুয়াবিয়া কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক রাজধানীতে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মুয়াবিয়ার সময় কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে আরবি ভাষা এবং প্রাদেশিক সচিবালয়গুলোতে আরবি, গ্রিক ও ফারসি ভাষার মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করা হতো। কেন্দ্রীয় সচিবালয় প্রাদেশিক সচিবালয়গুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করত। প্রাদেশিক সচিবালয়গুলোর কার্য পরিচালিত হতো কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের নির্দেশে। গ. উদ্দীপকের বরকত সাহেবের শাসন কাজের সাথে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের মিল রয়েছে। খলিফা আবদুল মালিকের শাসনকালকে. উমাইয়া যুগের শ্রেষ্ঠ সংস্কারমূলক শাসনকাল বলা হয়। তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেই সংস্কারমূলক অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। উদ্দীপকের খলিফার মধ্যেও এরূপ সংস্কার প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দপকের বরকত সাহেব তার শাসনামলে দৃঢ় হস্তে বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন করে এবং নানা সংস্কার সাধন করে রাষ্ট্রকে সুসংহত করেন। খলিফা আবদুল মালিকও রাষ্ট্রে আরব জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি ও সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা প্রচলনের জন্য সালেহ বিন আবদুর রহমান নামে জনৈক বিশিষ্ট পারসিক মুসলমানের পরামর্শে সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। আরবি রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের পর আরব অনারব সকলের কাছে এর পাঠ সহজ করার লক্ষ্যে তিনি আরবি হরফে হরকত ও নোকতার প্রবর্তন করেন। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় সমস্যা সমাধানের জন্য আবদুল মালিক খাঁটি আরবি মুদ্রা প্রচলন করেন। এজন্য তিনি ৬৯৫ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্কে একটি টাকশাল নির্মাণ করে দিনার, দিরহাম ও ফালুস নামে স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্রমুদ্রার প্রচলন করেন। আবদুল মালিক রাজস্ব সংস্কারের জন্য মাওয়ালিদের ওপর জিজিয়া ও খারাজ কর বাধ্যতামূলক করেন। চাষাবাদের সুবিধার জন্য তিনি সেচ সুবিধা এবং খাল খননের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও আবদুল মালিক ডাক বিভাগের সংস্কার, রেজিস্ট্রি বিভাগের সংস্কার এবং বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা ও সংস্কার করে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। সুতরাং বরকত সাহেবের কাজের সাথে আবদুল মালিকের সংস্কারমূলক কাজের মিল রয়েছে। ঘ. বরকত সাহেবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শাসক অর্থাৎ খলিফা আবদুল মালিক হলেন উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। আবদুল মালিক রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার, ডাক বিভাগের উন্নতি বিধান, নানা বিদ্রোহী জনগোষ্ঠীকে দমনের পাশাপাশি অরবি ভাষার উন্নতিতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। বরকত সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। একইভাবে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকও আরবি ভাষার উন্নতির পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার, ডাক বিভাগের উন্নতি এবং বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনে যথেষ্ট যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। খলিফা আবদুল মালিক রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে রাজ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটানোর জন্য বেশ কিছু নীতি গ্রহণ করেন। এ নীতিগুলোর মধ্যে ছিল- ইসলাম গ্রহণ করলেও মাওয়ালিদের জিজিয়া ও খারাজ দিতে হবে, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও সৈন্যরা গ্রামে গিয়ে স্ব-স্ব পেশায় নিযুক্ত হতে হবে। মুসলমানরা জমি ক্রয় করলে আগের মতো কর দিতে হবে এবং অনাবাদি জমি ও জলাভূমির জল নিষ্কাশন করে সেগুলো চাষ করতে হবে। খলিফা আবদুল মালিক ডাক বিভাগের সংস্কারের জন্য পারসিকদের পদ্ধতি অনুযায়ী ডাক চালান প্রথার প্রচলন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের বড় রাস্তার পাশে ডাকচৌকি নির্মাণ করেন। তার এ ডাক বিভাগ সরকারি চিঠিপত্র, আদেশ-নিষেধ আদান-প্রদান, সরকারি কর্মচারীদের স্থানান্তর, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সৈন্য ও রসদ সরবরাহ এবং গোয়েন্দা বিভাগের কাজ সম্পাদন করত। তিনি সাম্রাজ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়ও অসামান্য ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও খলিফা আবদুল মালিক কঠোরহস্তে বিদ্রোহীদের দমন করেন। তিনি সিংহাসনের দাবিদার খালিদ বিন ইয়াজিদকে স্বীয় দলভুক্ত এবং আমর বিন যাইদকে কৌশলে রাজপ্রাসাদে আহ্বান করে স্বহস্তে হত্যা করেন। মুসাবকে তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত ও নিহত করেন। এরপর তিনি বাবার নেতা কোমেইলার ও কাহিনার বিদ্রোহ দমন করেন। সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক বিভিন্ন সংস্কার সাধন এবং সাম্রাজ্যের বিদ্রোহীদের দমনের ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাই তাকে উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বরকত সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি দৃঢ় হস্তে বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দান করেন। আরবি লিপির উৎকর্ষ সাধন, আরবি মুদ্রা প্রচলন এবং ডাক বিভাগের সংস্কার তার শাসনামলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।

ক.

মুয়াবিয়া কত সালে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন?

খ.

মুয়াবিয়া সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেন কেন?

গ.

বরকত সাহেবের শাসনকাজের সাথে যে খলিফার শাসনের মিল রয়েছে তার শাসন নীতি ও সংস্কারের বর্ণনা দাও।

ঘ.

"বরকত সাহেবই উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা” – মতামত প্রদান করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।