Facebook Pixel

বাদশা নাসিরউদ্দিন বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হওয়া সত্ত্বেও সহজ , সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। তার কোনো দাস - দাসী ছিল না। তিনি ব্যক্তিগত ও সাংসারিক প্রয়োজনে সরকারি কোষাগার থেকে কোনো অর্থ খরচ করতেন না । কুরআন শরিফ নকল ও টুপি সেলাই করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন। প্রশাসনিক কাজের চেয়ে তিনি ধর্মীয় কার্যাবলিকে অধিক গুরুত্ব দিতেন । ক. উমাইয়াদের শেষ খলিফার নাম কী? খ. রাজেন্দ্র বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা 'করো। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত বাদশাহ নাসিরউদ্দিনের সাথে উমাইয়া খিলাফতের কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. তুমি কি মনে কর, উক্ত শাসকের নীতিসমূহ উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী ছিল? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. উমাইয়াদের শেষ খলিফা ছিলেন দ্বিতীয় মারওয়ান। খ. উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বা Father of kings বলার কারণ তার পরবর্তী চারজন খলিফাই ছিলেন তার পুত্র। খলিফা আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর তার চার পুত্র পর্যায়ক্রমে উমাইয়া খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন। তারা হলেন আল ওয়ালিদ (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) সুলায়মান (৭১৫-৭১৭ খ্রি.), দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০-৭২৪ খ্রি.) এবং হিশাম (৭২৪-৭৪৩ খ্রি.)। তারা সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে উমাইয়া খিলাফতকে সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেন। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন, "আবদুল মালিক এবং তার উত্তরাধিকারী চার পুত্রের শাসনকালে দামেস্কের এ রাজবংশ শৌর্যবীর্য ও গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে।” এ কারণে আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত: বাদশাহ নাসিরউদ্দিনের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের মিল রয়েছে। উমাইয়া খলিফাদের রাজত্বকালে দেশজুড়ে ক্ষমতা নিয়ে সংঘর্ষ, বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতা চলছিল। তবে দ্বিতীয় ওমর হিসেবে পরিচিত খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ ছিলেন এ যুগের ব্যতিক্রমধর্মী একজন মহান শাসক। উদ্দীপকের বাদশা নাসিরউদ্দিনের মধ্যে তারই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও কর্মের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় । উদ্দীপকের বাদশা নাসিরউদ্দিন চারিত্রিক দিক দিয়ে ছিলেন- সরল, অনাড়ম্বর, ধর্মানুরাগী ও কর্তব্যপরায়ণ। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তিনি ছিলেন একজন অনাড়ম্বর, ধর্মানুরাগী, কর্তব্যপরায়ণ ও প্রজাবৎসল খলিফা। খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ অত্যন্ত সহজ-সরল সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তিনি প্রথম ওমরের মতো তালিযুক্ত কাপড় পরিধান করতেন। বিশাল সাম্রাজ্যের খলিফা হয়েও তিনি নিজের ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য মাত্র দুই দিরহাম অর্থ বায়তুল মাল থেকে গ্রহণ করতেন । তিনি বিশ্বাস করতেন, বায়তুল মাল প্রজাদের সম্পদ। খলিফা শুধু এর রক্ষক। ভোগবিলাসী, আড়ম্বরপ্রিয়, ' ক্ষমতালোভী, মদ্যপায়ী উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে তিনি ছিলেন বিশাল ব্যতিক্রম। সততা, নিরপেক্ষতা, সরলতা ও পবিত্রতার মূর্ত প্রতীক। খলিফা দ্বিতীয় ওমর কুরআন ও হাদিসের বিধান অনুসারে জীবনযাপন ও শাসনকাজ পরিচালনা করতেন ধর্মের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা তার চরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য ছিল । তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মভীরু। খিলাফতের ইতিহাসের মধ্যে বিরল ধর্মভীরুতা ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতার জন্য তাকে উমাইয়া সাধু' (Ummaya Saint) এবং ‘পঞ্চম ধর্মপ্রাণ খলিফা' বলা হয়। সুতরাং বলা যায়, বাদশাহ নাসিরউদ্দিনের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনেক মিল রয়েছে। ঘ. উক্ত খলিফার অর্থাৎ খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের নীতি অর্থাৎ শাসন সংস্কার উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী ছিল বলে আমি মনে করি না। খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার উমাইয়া খিলাফতের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। তবে এ বংশের পতনের জন্য তার গৃহীত নীতি সম্পূর্ণরূপে দায়ী ছিল না। নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসনকালের প্রতিটি দিক বিবেচনা করলে উমাইয়া বংশের পতনের জন্য তাকে দায়ী করা যায় না। তার উদার ও সাম্যের নীতির ফলে উমাইয়া বংশের প্রতি কেউ শত্রুভাবাপন্নও ছিল না। দ্বিতীয় ওমর নামে খ্যাত ওমর বিন আবদুল আজিজ তার শাসনামলে উমাইয়া, হাশেমি, আরব-অনারব, হিমারীয়-মুদারীয় দ্বন্দ্ব নিরসন করার চেষ্টা করেন। এতে তিনি অনেকাংশে সফল হন। দীর্ঘদিনের রক্তপাত, ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসঘাতকতার বিভীষিকার মধ্যে তার শাসনকাল উপশমের ভূমিকা পালন করেছে। উমাইয়া খিলাফতের পতনের দায় তার ওপর আরোপিত হওয়া একেবারেই ঠিক নয়। বরং ওমরের তিরোধানের পর তার নীতি অব্যাহত রাখা হলে আলি ও আব্বাসি বংশীয়রা সহজে ক্ষুব্ধ হতো না । তাদের আন্দোলনের জন্য দায়ী পরবর্তী দুর্বল শাসকেরা, খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ নন। তার মৃত্যুর পর আরব সমাজে নতুন করে অতীতের অসাম্য ও ভেদাভেদ নীতি মাথাচাড়া দেওয়ায় উমাইয়াবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়। এর পরিণতিতেই উমাইয়াদের পতন ঘটে । উপরের আলোচনায় প্রমাণিত হয় যে, উমাইয়া বংশের পতনের পেছনে ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন সংস্কার দায়ী ছিল না। তবে তার শাসন সংস্কার উমাইয়া শাসনের ভিত্তিকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছিল। তবে এ বংশের চূড়ান্ত পতন ঘনিয়ে এনেছিলেন তার পরবর্তী অযোগ্য শাসকেরা।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাদশা নাসিরউদ্দিন বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হওয়া সত্ত্বেও সহজ, সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। তার কোনো দাস-দাসী ছিল না। তিনি ব্যক্তিগত ও সাংসারিক প্রয়োজনে সরকারি কোষাগার থেকে কোনো অর্থ খরচ করতেন না । কুরআন শরিফ নকল ও টুপি সেলাই করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন। প্রশাসনিক কাজের চেয়ে তিনি ধর্মীয় কার্যাবলিকে অধিক গুরুত্ব দিতেন।

ক.

উমাইয়াদের শেষ খলিফার নাম কী?

খ.

রাজেন্দ্র বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা 'করো।

গ.

উদ্দীপকে উল্লেখিত বাদশাহ নাসিরউদ্দিনের সাথে উমাইয়া খিলাফতের কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

তুমি কি মনে কর, উক্ত শাসকের নীতিসমূহ উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী ছিল? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।