Facebook Pixel

বাদশা নোমান তার সাম্রাজ্যে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। কেন্দ্রীয় টাকশাল স্থাপন করেন তিনি নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। প্রচলিত ডাকব্যবস্থাকে তিনি উন্নত করেন। সাম্রাজ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন, যা সকলের দৃষ্টি কাড়ে। এভাবে স্থাপত্যশিল্পের বিকাশে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। ক. আরব বিশ্বের প্রথম রাজা কে? খ. খলিফা আব্দুল মালিক কর্তৃক আরবি ভাষা সংস্কারের ব্যাখ্যা দাও। গ. উদ্দীপকে বাদশা নোমানের মুদ্রা সংস্কার কী খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. 'রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে উদ্দীপকে রাজার তুলনায় আব্দুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আরব বিশ্বের প্রথম রাজা মুয়াবিয়া (রা.)। খ. আব্দুল মালিকের সংস্কারসমূহের অন্যতম হলো আরবি বর্ণমালায় হরকত প্রদান। তিনি আরবিকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদাদান করেন। ৬৯৬ খ্রিষ্টাব্দ হতে ৬৯৭ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা একটি আদেশ জারি করেন। 'আঞ্চলিক ভাষার পরিবর্তে আরবি ভাষায় সরকারি দলিলপত্রাদি রক্ষিত করার প্রথা চালু করেন। সালিহ বিন আব্দুর রহমানের পরামর্শে আব্দুল মালিক উক্ত পদক্ষেপ নেন। খলিফা হযরত উমরের (রা.) পরে ইসলামের ইতিহাসে আব্দুল মালিকই সর্বপ্রথম বৈপ্লবিক সংস্কার প্রবর্তন করেছিলেন। আব্দুল মালিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সম্পূর্ণ আরবীয়করণ নীতি প্রবর্তন করে আরবদের মৌলিক প্রতিভা বিকাশের পথ উন্মুক্ত করেন। গ. হ্যাঁ, উদ্দীপকের বাদশা নোমানের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ। খলিফা আব্দুল মালিকের উল্লেখযোগ্য সংস্কার হলো মুদ্রার সংস্কার ও জাতীয় টাকশাল নির্মাণ। ইতোপূর্বে আরবে রোমান, পারস্য ও হিমারীয় প্রভৃতি মুদ্রা চালু ছিল। প্রাদেশিক শাসনকর্তাগণ নিজেদের প্রয়োজনে প্রাদেশিক টাকশালে মুদ্রা ছাপাতো। মুদ্রার মান ও মূল্য অনির্ধারিত ছিল। ফলে ব্যাপক জালমুদ্রা প্রচলিত ছিল। এ সমস্যার সমাধান করার জন্য ও ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নতির জন্য খলিফা আব্দুল মালিক সর্বপ্রথম খাঁটি আরবি মুদ্রার প্রবর্তন করেন। তিনি ৬৯৫ সালে রাজধানী দামেস্কে জাতীয় টাকশাল স্থাপন করেন, সেখান থেকে আরবি ছাপযুক্ত, নির্দিষ্ট ও সর্বজনীন এককমানের দিনার, দিরহাম ও ফালস নামে মুদ্রা প্রচলন করেন। তার মুদ্রা সংস্কার সফলতা লাভ করে। উদ্দীপকের বাদশা নোমান কেন্দ্রীয় টাকশাল স্থাপন করেন এবং নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা স্থাপন করেন। তার এ ব্যবস্থার ফলে রাজ্যের ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নতি ঘটে এবং দেশে সমৃদ্ধ আসে। তার মুদ্রা সংস্কার আব্দুল মালিককে মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের বাদশা নোমানের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. 'রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে উদ্দীপকে রাজার তুলনায় আব্দুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি' মন্তব্যটি যথার্থ। কেননা উদ্দীপকের বাদশা নোমানের শুধু মুদ্রা সংস্কার ও স্থাপত্য শিল্পের কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে আব্দুল মালিক মুদ্রা সংস্কার, শাসন সংস্কার, আরবি ভাষা, লিপির উন্নয়নসহ সকল বিষয়ে অধিক কৃতিত্বের দাবিদার। ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন প্রদেশের আনুগত্য লাভের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর ইন্তেকালের পরে উমাইয়া প্রশাসনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এরূপ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আব্দুল মালিক শক্ত হাতে শাসনদণ্ড গ্রহণ করেন। আরবি ভাষাকে সরকারি ভাষায় রূপান্তরকরণ তার সর্বপ্রধান কৃতিত্ব। ৬৯৩ খ্রিস্টাব্দে আব্দুল মালিক সালিক বিন আব্দুর রহমান নামে জনৈক পারসিক মুসলিমের পরামর্শে সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। আরবি বর্ণমালার লিখন ও উচ্চারণ পদ্ধতির উন্নতি সাধন ছিল তার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। ইতোপূর্বে আরবি বর্ণমালার ত্রুটি ছিল। হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সহযোগিতায় আব্দুল মালিক জবর, জের, পেশ, নোকতা প্রবর্তন করেন। এর ফলে আরবি ভাষা পূর্ণতা পায়। হযরত মুয়াবিয়ার আমলে ডাক বিভাগের সৃষ্টি হয়। আব্দুল মালিক এ ডাক বিভাগের ব্যাপক সংস্কার করেন। এ ডাক সেবা চালু করতে তিনি পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ঘোড়া কাজে লাগান। আব্দুল মালিকের ক্ষমতা গ্রহণের সময় সাম্রাজ্যে যেসব অর্থনৈতিক সংকট ছিল হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সহায়তায় আব্দুল মালিক তা শক্তিশালী করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার এ পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রাজস্ব বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যশস্যের চাহিদাও নির্ধারিত হয়। আব্দুল মালিক একজন উদার দৃষ্টিভঙ্গির শাসক ছিলেন। তিনি পরধর্মমত সহিষ্ণু ছিলেন। অমুসলিমদের প্রতি তিনি ছিলেন উদার। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের বাদশাহর চেয়ে আব্দুল মালিকের কৃতিত্ব অনেক বেশি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাদশা নোমান তার সাম্রাজ্যে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। কেন্দ্রীয় টাকশাল স্থাপন করেন তিনি নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। প্রচলিত ডাকব্যবস্থাকে তিনি উন্নত করেন। সাম্রাজ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন, যা সকলের দৃষ্টি কাড়ে। এভাবে স্থাপত্যশিল্পের বিকাশে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রাখেন।

ক.

আরব বিশ্বের প্রথম রাজা কে?

খ.

খলিফা আব্দুল মালিক কর্তৃক আরবি ভাষা সংস্কারের ব্যাখ্যা দাও। 

গ.

উদ্দীপকে বাদশা নোমানের মুদ্রা সংস্কার কী খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

'রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে উদ্দীপকে রাজার তুলনায় আব্দুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।