Facebook Pixel

বিজয়নগরের রাজা রহিত ছিলেন অত্যাচারী শাসক এবং সমাজ ছিল বহুধাভিবক্ত। নিম্নবর্ণের জনগণ সামাজিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। অন্যদিকে, উচ্চ শ্রেণির লোকেরা সকল সুবিধা ভোগ করত কিন্তু কোনো প্রকার কর প্রদান করত না। ফলে সাধারণ জনগণের সাথে শাসকের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এছাড়া পার্শ্ববর্তী শাসকের সাথে শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কের কারণে জনগণের একটা অংশ আক্রমণকারীকে সরাসরি সাহায্য করেছিল কারণ তারা শাসক ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিল। ক. সিন্ধু কী? খ. ভারতের জনগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক পরিচয় দাও। গ. উদ্দীপকের আলোকে তোমার পঠিত বইয়ের একটি অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থার বর্ণনা দাও। ঘ. “পার্শ্ববর্তী শাসক সহজেই বিজয়নগর রাজ্যটি দখল করে নেয়" পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সিন্ধু ভারতের একটি নদীর নাম। খ. ভারতবর্ষে অসংখ্য জাতির বাস ছিল। দ্রাবিড় জাতি ভারতবর্ষের প্রাচীনতম অধিবাসী। এরপর আর্য, শক, কুষাণ ও হুনরা পর্যায়ক্রমে ভারতে আসে। হুইট বলেন, "ভারত উপমহাদেশকে একটি বিরাট জালের সঙ্গে তুলনা করা যায় এবং এতে এশিয়ার বিভিন্ন জাতি এবং জনগণ ভেসে এসে ধরা পড়েছে।” পৃথিবীর প্রধান পিঙ্গল, শ্বেত ও কৃষ্ণবর্ণ জাতির সমন্বয় এ উপমহাদেশে সংঘটিত হয়। এ কারণেই আইরিশ ইতিহাসবিদ ভিনসেন্ট স্মিথ (Vincent Smith) ভারত উপমহাদেশকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলে অভিহিত করেছেন। ভারতবর্ষে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, কৃষ্টি বিদ্যমান থাকায় বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে রাজনৈতিক ঐক্য বিনষ্ট হয়। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস বলেন, খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ অব্দে ভারতবর্ষে কমপক্ষে ১১৮টি রাজ্য ছিল। গ. উদ্দীপকে মুহাম্মদ বিন কাসিমের ভারত আক্রমণের সময় সেখানকার রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ফুটে উঠেছে। মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের অবস্থা উদ্দীপকের বিজয় নগরের মতো ছিল। ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বে সেখানে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না। তখন ছোট ছোট রাজবংশের অধীনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকা শাসিত হতো। কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে ভারতবর্ষ ছিল অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদ ও ঐশ্বর্যের অধিকারী। বাংলা ও গুজরাট বস্তু উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য বিখ্যাত ছিল। প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্যের বিবরণ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল তিনটি। যথা-ক. ভূমি রাজস্ব, খ. সামন্ত প্রভু ও জনগণের কাছ থেকে প্রাপ্ত কর এবং গ. আবগারি ও বাণিজ্য শুল্ক। কৃষককে তার উৎপাদিত ফসলের এক-ষষ্ঠাংশ রাষ্ট্রকে কর হিসেবে দিতে হতো। সামন্ততান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় রাজা, ব্রাহ্মণ ও অভিজাতদের তুলনায় নিম্নবর্ণের লোকদের নিদারুণ কষ্টভোগ করতে হতো। কৃষকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও ন্যায্য অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত ছিল। মুহাম্মদ বিন কাসিমের আক্রমণের সময়ে ভারতে জাতিভেদ ও রর্ণভেদ প্রথা ছিল প্রকট। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র-এ চার শ্রেণিতে হিন্দুসমাজ বিভক্ত ছিল। এক শ্রেণির সাথে অন্য শ্রেণির ছেলেমেয়ের বিয়ে-শাদি, সামাজিক লেনদেন কল্পনাই করা যেত না। সকল সুযোগ-সুবিধা ব্রাহ্মণরা ভোগ করত। মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতবর্ষে প্রধানত তিনটি ধর্ম প্রচলিত, ছিল। যেমন- বৌদ্ধ, জৈন ও হিন্দুধর্ম। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বৈদিক ধর্মের স্থূল আচার-অনুষ্ঠানের প্রতিবাদে একটি ধর্মীয় বিপ্লব শুরু হয়। এর ফলশ্রুতিতে হিন্দু ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পাশাপাশি জৈন ও বৌদ্ধধর্মের আবির্ভাব হয়। প্রকৃতপক্ষে মুসলিম বিজয়ের পূর্বে ভারতবর্ষের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ এবং অন্যতম ধর্ম ছিল হিন্দুধর্ম' এবং ব্রাহ্মণ্যবাদ। আর্যযুগে ঋগবেদের প্রভাবে দ্রাবিড়দের ওপর ব্রাহ্মণগণ প্রভাব ও 'প্রতিপত্তি স্থাপন করে। হিন্দুধর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মূর্তিপূজা। অতএব, মুহাম্মদ বিন কাসিমের আক্রমণের সময় ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকলেও সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থা ছিল বিপদসংকুল। ঘ. পার্শ্ববর্তী শাসক তথা মুহাম্মদ বিন কাসিম বিজয়নগরের মতো সহজেই সিন্ধু অভিযান করে দখল করে নেন। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে অভিযান পরিচালনা করে মুহাম্মদ বিন কাসিম মাত্র তিন বছরের মধ্যে সিন্ধু ও মুলতান অঞ্চলের মুসলিম প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। এ দ্রুত সফলতার মূলে বেশকিছু কারণ ছিল। রাজা দাহির ছিলেন একজন স্বৈরাচারী শাসক। তার কুশাসন ও নিপীড়নে প্রজারা এতই বিক্ষুব্ধ ছিল যে, মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু আক্রমণ করলে প্রজারা রাজা দাহিরকে কোনো সহযোগিতাই ক্লরেনি। বরং তার ঘৃণ্য ও বর্বরনীতির প্রতিবাদে অসংখ্য জাঠ ও মেঠ সৈন্য মুসলিম বাহিনীতে যোগদান করে। এমনকি ব্রাহ্মণবাদ এবং নিরুনের ব্রাহ্মণ পুরোহিতগণও মুসলিম আক্রমণের বিরোধিতা করেনি। তাছাড়া রাজা দাহিরের সামরিক বাহিনী সুসংহত ছিল না। হিন্দু সমাজব্যবস্থায় কেবল ক্ষত্রিয় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারত। ফলে তাদের সামরিক শক্তি খুবই দুর্বল ছিল। অপরদিকে মুসলিম বাহিনীতে নতুন দেশ জয়ের নেশায় বিভিন্ন গোত্র, দেশ এবং মতাবলম্বী মুসলমানগণ মুহাম্মদ বিন কাসিমের পতাকাতলে সমবেত হয়। সিন্ধু বিজয়ের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো আরব বাহিনীর সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব। তুলনামূলকভাবে হিন্দু বাহিনী ছিল দুর্বল, শক্তিহীন; অপরদিকে আরব বাহিনী ছিল সুসংঘবদ্ধ, সুসজ্জিত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ। পরিশেষে বলা যায় যে, ভারতের দুর্বল সামরিকে অবস্থা বিভেদপূর্ণ সামাজিক অবস্থা ও দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক অবস্থার কারণে মুহাম্মদ. বিন কাসিম সহজেই সিন্ধু বিজয় করেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিজয়নগরের রাজা রহিত ছিলেন অত্যাচারী শাসক এবং সমাজ ছিল বহুধাভিবক্ত। নিম্নবর্ণের জনগণ সামাজিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। অন্যদিকে, উচ্চ শ্রেণির লোকেরা সকল সুবিধা ভোগ করত কিন্তু কোনো প্রকার কর প্রদান করত না। ফলে সাধারণ জনগণের সাথে শাসকের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এছাড়া পার্শ্ববর্তী শাসকের সাথে শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কের কারণে জনগণের একটা অংশ আক্রমণকারীকে সরাসরি সাহায্য করেছিল কারণ তারা শাসক ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিল।

ক.

সিন্ধু কী?

খ.

ভারতের জনগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক পরিচয় দাও।

গ.

উদ্দীপকের আলোকে তোমার পঠিত বইয়ের একটি অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থার বর্ণনা দাও।

ঘ.

“পার্শ্ববর্তী শাসক সহজেই বিজয়নগর রাজ্যটি দখল করে নেয়" পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. সুলতান মাহমুদ কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? গ. চিত্রে প্রদর্শিত মন্দ...

ক. সোমনাথ মন্দিরটি কোথায় অবস্থিত? খ. শাহনামা কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে কোন শাসককে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ২নং ...

ক. গজনি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ? খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কেন ? গ. চিত্রে প্রদর্শিত ...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারী বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিয়ান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থসম্পদ লুন্ঠন করে তি...

মুহাম্মদ ঘুরী ছিলেন- i. উদ্যমী ii. দক্ষ সংগঠক iii. উচ্চাকাক্সক্ষী নিচের কোনটি সঠিক?

অজয়নগর ও বিজয়নগর পাশাপাশি অবস্থিত দুটি গ্রাম। শাহাদৎ সাহেব অজয়নগর গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, অন্যদিকে আমিন সাহেব...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্র বর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির...

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।