Facebook Pixel

বক্তঙ্গভঙ্গ রদ এবং নেহেরু রিপোর্ট প্রকাশিত হলে মুসলমান নেতৃবৃন্দ হতাশ হয়ে পড়েন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচন এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্ব ঘোষণা হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা শুরু হয়। ফলে মুসলমান নেতৃবৃন্দ মনে করেন তাদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রয়োজন। মুসলমান নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে একজন মহান নেতা এ লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। উক্ত প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল। ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. 'লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বি-জাতি তত্ত্ব'- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে যে ঐতিহাসিক প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে তার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করো। ঘ. তুমি কি মনে কর, উক্ত প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। (খ) লাহোর প্রস্তাবের মূল ভিত্তি ছিল দ্বি-জাতি তত্ত্ব। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। দ্বি-জাতি তত্ত্বের মূল কথা হলো, হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি এবং তাদের সংস্কৃতি, ধর্ম ও জীবনধারা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই তত্ত্বের ভিত্তিতেই ব্রিটিশ ভারতকে বিভক্ত করে মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমি বা রাষ্ট্র গঠনের দাবি উত্থাপন করা হয়, যা লাহোর প্রস্তাবের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি হলো ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব। এই প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ভৌগোলিক সংলগ্নতা: ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা। ২. স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন: উক্ত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করা, যেখানে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। ৩. সংখ্যালঘু সুরক্ষা: ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধানে পর্যাপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা রাখা। ৪. প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি: স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা। (ঘ) হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লেখিত লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো: লাহোর প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে মুসলমানদের জন্য একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির সময় পূর্ব বাংলা বা বর্তমান বাংলাদেশ পাকিস্তানের একটি অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ শুরু করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে লাহোর প্রস্তাবের সেই স্বায়ত্তশাসনের চেতনাটিই বারবার ফিরে এসেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ৬ দফার প্রথম দফাতেই লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। সুতরাং, লাহোর প্রস্তাবে বর্ণিত স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের যে মূল চেতনা ছিল, তা-ই কালক্রমে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপ ধারণ করেছে। তাই বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বক্তঙ্গভঙ্গ রদ এবং নেহেরু রিপোর্ট প্রকাশিত হলে মুসলমান নেতৃবৃন্দ হতাশ হয়ে পড়েন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচন এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্ব ঘোষণা হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা শুরু হয়। ফলে মুসলমান নেতৃবৃন্দ মনে করেন তাদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রয়োজন। মুসলমান নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে একজন মহান নেতা এ লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। উক্ত প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।

ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ. 'লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বি-জাতি তত্ত্ব'- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে যে ঐতিহাসিক প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে তার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করো।

ঘ. তুমি কি মনে কর, উক্ত প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।