Facebook Pixel

বিএসটিআইতে চাকরি করেন জনাব কফিল মোল্লা। তিনি মনে করেন সরকার আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। ভারতবর্ষে একজন শাসক দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে সফল হয়েছিলেন। তিনি দিল্লির বদায়ুনের ফটকের সামনে সের-ই-আদল নামে একটি বাজার বসান। এ বাজারে ওষুধপত্র, কাপড়, শুকনো ফল, মাখন, চিনি, বাতি, তেল, সুই, ঘোড়ার গদি সুলভ মূল্যে পাওয়া যেত। তিনি ব্যবসায়ীদের রেজিস্টার পরিচালনা ও দ্রব্যমূল্য এবং দোকানদারদের নিয়ন্ত্রণের নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ক. দিল্লির মুসলিম রাজ্যে কোন শক্তির চাপ সবসময়ই ছিল? খ. আলাউদ্দিন খলজির রাজস্বনীতি সংস্কারের কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. জনাব কফিল মোল্লার দেওয়া তথ্যে যে শাসকের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের তথ্য ফুটে উঠেছে সে শাসকের সামরিক সংস্কারের ব্যাখ্যা দাও। ঘ. এ ধরনের একজন শাসক অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করে। জনস্বার্থরক্ষায় বেশ ভূমিকা পালন করেছিল- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ দিল্লি সুলতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬খ্রি.)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. দিল্লির মুসলিম রাজ্যে রাজপুত শক্তির চাপ সবসময়ই ছিল। খ. আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক রাজস্বনীতি সংস্কারের একাধিক কারণ উল্লেখ করা যায়। ঐতিহাসিক ওয়াসফ ও ফিরিশতার মতে, সুলতানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ৪৭৫০০ অশ্বারোহী সৈন্য ছিল। সেনাবাহিনীর এ ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার পূর্ণ বিন্যাস করেন। খুৎ, মকোদ্দম ও চৌধুরী নামে হিন্দু প্রতিনিধিগণ কৃষকদের নিকট হতে বাড়তি অর্থ আদায় করত। তাদের দুর্নীতিরোধের জন্য সুলতান রাজস্বনীতির সংস্কার করেন গ. জনাব কফিল মোল্লার, দেওয়া তথ্যে যে শাসকের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের তথ্য ফুটে উঠেছে তিনি হলেন আলাউদ্দিন খলজি। আলাউদ্দিন খলজি সামরিক সংস্কারের লক্ষ্যে আরজ-ই-মামালিক বা সমরমন্ত্রী নামে একটি পদ সৃষ্টি করেন। তার নিয়ন্ত্রণে সুদক্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তোলা হয়। তিনি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সংস্কার এবং নতুন সৈন্য নিয়োগের ব্যবস্থা ফরেন। সেনাবাহিনীকে কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়- ক. জান্দার বাহিনী ছিল সুলতানের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বাহিনী, খ. বিশেষ প্রয়োজনের জন্য গঠিত সেনাবাহিনী ও গ. অশ্বারোহী পদাতিক ও হস্তিবাহিনী। এছাড়া তীরন্দাজ বাহিনী, রসদ সরবরাহকারী ইত্যাদি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী ছিল। পূর্বে সেনাদের বেতনের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট এলাকা (জায়গির) চাষাবাদের বা কর আদায়ের জন্য দেওয়া হতো। সুলতান জায়গির প্রথা বাতিল করে সেনাদের নগদ অর্থে টক্কায় বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি বন্ধের জন্য ভুলিয়া ও দাগ প্রথার প্রচলন করা হয়। বেতনভুক্ত সৈন্য বা যুদ্ধের সময় হাজিরা না দিয়ে অশিক্ষিত লোকদের বদলি হিসেবে পাঠাত এবং যুদ্ধের ভালো ঘোড়ার বদলে জমি চাষের ঘোড়া পাঠাত। অনেক সময় তারা একই ঘোড়া একাধিক কর দেখাত। এসব দুর্নীতি বন্ধের জন্য তিনি ঘোড়ার গায়ে দাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেনাদের পদসোপান ছিল এরূপ ১ জন সরখলীর অধীনে ১০ জন অশ্বারোহী সৈন্য। ১ জন সিপাহসালার অধীনে ১০ জন সরখলী। ১ জন আমিরের অধীনে ১০ জন সিপাহসালার। ১ জন মালিকের অধীনে ১০ জন আমির। ১ জন খান উপাধিকারীর অধীনে ১০ জন মালিক ছিল। পদাতিক সৈন্যের সংখ্যা ও পদসোপানের উল্লেখ দেখা যায় না। ঘ. উদ্দীপকের শাসক হলেন ভারতবর্ষের আলাউদ্দিন খলজি। তিনি অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করে জনস্বার্থরক্ষায় বেশ ভূমিকা পালন করেছিলেন- উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। আলাউদ্দিন খলজি তার উদ্ভাবনীশক্তি দিয়ে জনসাধারণের মঙ্গলের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। তন্মধ্যে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অন্যতম। ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানীর বিবরণ মতে, আলাউদ্দিন খলজির অশ্বারোহী সৈন্যের সংখ্যা ৪,৭৫,০০০। এছাড়া পদাতিক ও অন্যান্য বাহিনী তো ছিলই। একজন সাধারণ অশ্বারোহীর সৈন্যকে বার্ষিক ২৩৪ টক্কা বেতন দিতে হতো। ঐতিহাসিক ফিরিশতার মতে, তার প্রায় ৫৪ হাজার কর্মচারীর ভরণ-পোষণের খরচ ছিল বর্ধিত। রাজস্ব ও দেবগিরি অভিযান থেকে প্রাপ্ত অর্থ গণনায় ধরে দেখা যায় যে, তার প্রশাসনের ৫/৬ বছরের খরচ মেটাতে প্রায় 'সকল অর্থ শেষ হয়ে যাবে। আলাউদ্দিন খলজি উত্তর ও দক্ষিণ ভারত বিজয়ের ফলে দিল্লিতে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। এ মুদ্রাস্থীতি কমানোর বোধ থেকে সুলতান অর্থনৈতিক সংস্কার তথা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রজাদের কল্যাণ করাই রাজার বা সুলতানের একান্ত কর্তব্য ছিল। তার এ কর্তব্যবোধ থেকে তিনি বিভিন্ন দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আলাউদ্দিন খলজি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের যে পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন, তা কিসের ভিত্তিতে করেছিলেন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা দেখা যায় না। তবে গিয়াসউদ্দিন বারানী তার 'তারিখ-ই-ফিরোজ শাহী' ও 'ফতোয়া-ই- জাহাঙ্গীর'-তে কিছুটা আলোকপাত করেছেন। তার বর্ণনা মতে, দ্রব্যসামগ্রীর উৎপাদনের ব্যয়ের ভিত্তিতে দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষক বা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সুলতান ঋণের ব্যবস্থা করেন। দ্রব্যমূল্য ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখাই ছিল সুলতানের প্রধান উদ্দেশ্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিএসটিআইতে চাকরি করেন জনাব কফিল মোল্লা। তিনি মনে করেন সরকার আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। ভারতবর্ষে একজন শাসক দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে সফল হয়েছিলেন। তিনি দিল্লির বদায়ুনের ফটকের সামনে সের-ই-আদল নামে একটি বাজার বসান। এ বাজারে ওষুধপত্র, কাপড়, শুকনো ফল, মাখন, চিনি, বাতি, তেল, সুই, ঘোড়ার গদি সুলভ মূল্যে পাওয়া যেত। তিনি ব্যবসায়ীদের রেজিস্টার পরিচালনা ও দ্রব্যমূল্য এবং দোকানদারদের নিয়ন্ত্রণের নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

ক.

দিল্লির মুসলিম রাজ্যে কোন শক্তির চাপ সবসময়ই ছিল?

খ.

আলাউদ্দিন খলজির রাজস্বনীতি সংস্কারের কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ.

জনাব কফিল মোল্লার দেওয়া তথ্যে যে শাসকের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের তথ্য ফুটে উঠেছে সে শাসকের সামরিক সংস্কারের ব্যাখ্যা দাও।

ঘ.

এ ধরনের একজন শাসক অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করে। জনস্বার্থরক্ষায় বেশ ভূমিকা পালন করেছিল- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. কারাচিল কোথায় অবস্থিত? খ. মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তরের পরিকল্পনাটি ব্যাখ্যা কর। গ. উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে...

ক. তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? খ. Blood & Iron Policy বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে "?" কোন শাসককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা ...

M একজন ক্রীতদাস হওয়া সত্ত্বেও তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দিয়ে প্রভুর মন জয় করেন। বিচক্ষণ এ রাজনীতিবিদ প্রভুর মৃত্যুর পর এক...

অনলাইন শপিং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অযোধ্যা গভর্নর কে ছিলেন?

'আইবেক' কোন ভাষার শব্দ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।