(ক)
মিশ্রণের উপাদানগুলোর স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে আংশিক পাতন প্রক্রিয়ায় উপাদানগুলোকে পৃথক করা হয়। একাধিক তরলের মিশ্রণ থেকে উপাদান তরল পদার্থকে তাদের স্ফুটনাঙ্কের ভিন্নতা অনুযায়ী অংশ অংশ করে পাতিত করে পৃথক করার প্রক্রিয়াকে আংশিক পাতন বলে।
(খ)
ক্রোমাটোগ্রাফিতে $R_f$ (Retardation factor) হলো কোনো নির্দিষ্ট উপাদানের অতিক্রান্ত দূরত্ব এবং দ্রাবকের অতিক্রান্ত দূরত্বের অনুপাত।
ধরি, উপাদানের অতিক্রান্ত দূরত্ব $d_s$ এবং দ্রাবকের অতিক্রান্ত দূরত্ব $d_m$। তাহলে,
$$
R_f = \frac{d_s}{d_m}
$$
যেহেতু স্থির মাধ্যমে শোষিত হওয়ার কারণে কোনো উপাদানের অতিক্রান্ত দূরত্ব সবসময় দ্রাবকের অতিক্রান্ত দূরত্বের চেয়ে কম বা সর্বোচ্চ সমান হতে পারে, তাই $d_s \le d_m$ হয়। ফলে $R_f$ এর মান সর্বদা $1$ এর চেয়ে কম বা সমান হয়।
(গ)
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি হলো ইথানল থেকে ইথানয়িক অ্যাসিড বা ভিনেগার উৎপাদন। বিক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো:

এখানে E যৌগটি হলো ইথানয়িক অ্যাসিড বা ভিনেগার। ভিনেগার উৎপাদনের প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো:
ইথাইল অ্যালকোহলের ১০% জলীয় দ্রবণকে ‘মাইকোডার্মা অ্যাসিটি’ নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে বায়ুর অক্সিজেনের সাহায্যে জারিত করে ভিনেগার প্রস্তুত করা হয়।
বিক্রিয়া:


প্রণালী: একটি বৃহদাকার কাঠের পিপার ভেতরে নরম বীচ কাঠের গুঁড়া রাখা হয় এবং তাতে ‘মাইকোডার্মা অ্যাসিটি’ নামক ব্যাকটেরিয়া যুক্ত লঘু অ্যাসিটিক অ্যাসিড দিয়ে ভিজিয়ে রাখা হয়। ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি হিসেবে অ্যামোনিয়াম ফসফেট ও অ্যামোনিয়াম সালফেট লবণ মিশ্রিত ১০% ইথানলের জলীয় দ্রবণ পিপার ওপর থেকে সূক্ষ্ম ধারায় স্প্রে করা হয়। একই সাথে নিচ থেকে ৩৫°C তাপমাত্রার উত্তপ্ত বায়ু চালনা করা হয়। ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে ইথানল জারিত হয়ে ৬-১০% অ্যাসিটিক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণ বা ভিনেগার উৎপন্ন করে, যা পিপার তলদেশ দিয়ে সংগ্রহ করা হয়।
(ঘ)
হ্যাঁ, E যৌগটি অর্থাৎ ইথানয়িক অ্যাসিড বা ভিনেগার খাদ্য সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জীবাণু ধ্বংসকারী: ভিনেগার বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, মোল্ড এবং ভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি খাদ্যের ওপর ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ রোধ করে খাদ্যকে পচন থেকে রক্ষা করে।
২. খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্বাদ বৃদ্ধি: মাছ, মাংস, আচার, সালাদ এবং সস তৈরিতে ভিনেগার ব্যবহার করলে খাদ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়। এটি মাংসকে নরম করতে এবং রান্নায় নতুন সুগন্ধি যোগ করতে সাহায্য করে।
৩. ক্যালসিয়ামের উৎস: হাড়সহ মাংস রান্নার সময় ভিনেগার যোগ করলে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম দ্রবীভূত হয়ে ঝোল বা স্যুপে চলে আসে, যা খাদ্যকে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ করে।
৪. সবজির গুণমান রক্ষা: শিম বা মটরশুঁটির মতো সবজি রান্নার সময় সামান্য ভিনেগার যোগ করলে সবজির গ্যাসীয় উপাদানগুলো দূর হয় এবং খাবারের স্বাদ ও সতেজতা বজায় থাকে।
উপসংহারে বলা যায়, ভিনেগার একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষণকারী উপাদান হিসেবে খাদ্যকে দীর্ঘ সময় সতেজ ও জীবাণুমুক্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।