Facebook Pixel

কেতুপুর অঞ্চলের চেয়ারম্যান একজন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসক ছিলেন। সেখানে কোনো ব্যক্তি অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তিনি তার জমিজমা নিজের নামে করে নিতেন। কোনো রকম দত্তকপুত্রের অধিকার স্বীকার করতেন না। একজন সাম্রাজ্যবাদী শাসক হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন আধুনিক চিন্তাধারাসম্পন্ন। কাজেই তিনি সমাজ, শাসন, যোগাযোগ এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার কাজ করেন। এজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার। ক. ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ কোন সেনানিবাসে প্রথম শুরু হয়? ১ খ, 'বয়কট' আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। ২ গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত চেয়ারম্যানের সম্পত্তি দখলের নীতির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নীতির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩ ঘ. উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মতো উক্ত শাসক তার বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক যুগের সূচনা করেন। মূল্যায়ন কর। 8

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনঃ কোম্পানি আমল

উৎস: Board Exam Question DB 2017, Board Exam Question Combined 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে প্রথম শুরু হয়। (খ) 'বয়কট' আন্দোলন বলতে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করার নীতিকে বোঝায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার প্রতিবাদে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ ব্রিটিশ পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, তা-ই ইতিহাসে বয়কট আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ পুঁজিপতিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে তারা বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। একই সাথে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যও পূরণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত চেয়ারম্যানের সম্পত্তি দখলের নীতির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের লর্ড ডালহৌসির 'স্বত্ববিলোপ নীতি' (Doctrine of Lapse)-এর মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, চেয়ারম্যান অপুত্রক অবস্থায় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার জমিজমা নিজের নামে করে নিতেন এবং কোনো দত্তকপুত্রের অধিকার স্বীকার করতেন না। লর্ড ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতি অনুযায়ী, ব্রিটিশ আশ্রিত কোনো দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তার পালক পুত্রের উত্তরাধিকার ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত হতো না এবং সেই রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হতো। প্রাচীন হিন্দু রীতি অনুযায়ী অপুত্রক রাজা পালক পুত্র গ্রহণ করে রাজ্য ও বংশ রক্ষা করতে পারতেন, কিন্তু ডালহৌসি এই রীতি বন্ধ করে দিয়ে কঠোরভাবে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করেন। এই নীতির মাধ্যমে তিনি সাঁতারা, সম্বলপুর, নাগপুর, ঝাঁসি এবং উদয়পুরসহ বেশ কিছু রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। সুতরাং, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের নীতি এবং ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতি মূলত একই আদর্শের প্রতিফলন। (ঘ) উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মতো লর্ড ডালহৌসি তার বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক যুগের সূচনা করেছিলেন। তার এই সংস্কারসমূহ নিচে মূল্যায়ন করা হলো: ১. শাসন সংস্কার: ডালহৌসি বাংলার প্রশাসনিক দায়িত্ব গভর্নর জেনারেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে পৃথক করেন এবং বাংলার জন্য একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত করেন। এছাড়া, কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মচারী নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রবর্তন করেন, যা ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের ভিত্তি স্থাপন করে। ২. সামাজিক সংস্কার: তিনি হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন, যা তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ছিল। এছাড়া, ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের পৈতৃক সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করে তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। ৩. শিক্ষা ও যোগাযোগ সংস্কার: তিনি ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের উদ্যোগ নেন এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি ভারতে প্রথম রেলপথ স্থাপন করেন এবং টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা চালু করেন, যা আধুনিক ভারতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিশেষে বলা যায়, লর্ড ডালহৌসি সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসরণ করলেও তার সংস্কারমূলক কাজগুলো ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করেছিল। তাই উদ্দীপকের উক্তিটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)Combined Board (2017)

কেতুপুর অঞ্চলের চেয়ারম্যান একজন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসক ছিলেন। সেখানে কোনো ব্যক্তি অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তিনি তার জমিজমা নিজের নামে করে নিতেন। কোনো রকম দত্তকপুত্রের অধিকার স্বীকার করতেন না। একজন সাম্রাজ্যবাদী শাসক হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন আধুনিক চিন্তাধারাসম্পন্ন। কাজেই তিনি সমাজ, শাসন, যোগাযোগ এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার কাজ করেন। এজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার।

ক. ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ কোন সেনানিবাসে প্রথম শুরু হয়? ১

খ, 'বয়কট' আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। ২

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত চেয়ারম্যানের সম্পত্তি দখলের নীতির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নীতির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মতো উক্ত শাসক তার বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক যুগের সূচনা করেন। মূল্যায়ন কর। 8

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Z' একটি বড় রাজ্যের শাসন ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর আশেপাশের ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর দিকে দৃষ্টি দেন। তিনি দেখেন যে পরস্পর বিবদম...

অমল কৃষ্ণ মণ্ডল 'ক' অঞ্চলের প্রশাসক হয়ে আসার পর তিনি ত এলাকায় কুসংস্কার, অশিক্ষা দূর করার জন্য এলাকার অধিবাসীদের। সচেত...

আরবের জাহেলিয়া যুগে নারীদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিলনা। এ সময় কন্যা সন্তানের জন্ম ছিল অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার। প্রধান...

ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। এ সময় কন্যা সন্তান জন্ম দিলে তাকে জীবন্ত কবর দিত। তারা কন্যা স...

ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। এ সময় কন্যাসন্তান জন্মের পরে তাকে জীবন্ত কবর দিত। তারা কন্যা স...

একটি বহুজাতিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সময় পরিচালনার জন্য কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যাপ...

“ক' একটি বিশাল রাজ্য। এ রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছিল। সামরিক বাহিনীতে বিভিন্ন অঞ্চলের, বিভিন্ন জা...

করিম রহিমকে বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ জানায় । উদ্দীপকের করিমের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ইংরেজ শাসকের ম...

করিম রহিমকে বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ জানায় । উল্লিখিত শাসকের নীতির মূল লক্ষ্য কী ছিল?

কী কারণে লর্ড বেন্টিঙ্ককে ভিক্টোরিয়ান যুগের মূর্ত প্রতীক বলা হয়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।