Facebook Pixel

আবু আব্দুল্লাহ আফ্রিকা মহাদেশে একটি রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক তিনি বাগদাদের খলিফার অধীনতা স্বীকার না করে নিজেকে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। তিনি দেশ জয় করেন। তার সেনাপতি নতুন একটি শহর প্রতিষ্ঠা করে সেখানে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রজামঙ্গলজনক কাজ করেন। ক. ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম লেখ। খ. ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা কে? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সেনাপতির তৈরি নগরী, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তোমার পঠিত সেনাপতি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শহর, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিল রয়েছে- আলোচনা কর। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কার্যের সঙ্গে তোমার পঠিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের কী মিল আছে?- বিবরণ দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম উবায়দুল্লাহ আল মাহদি। খ. ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা আল-মুইজ। ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে আল-মনসুরের মৃত্যুর পর আবু তামিম মা'আদ আল-মুইজ উপাধি ধারণ করে ফাতেমি বংশের চতুর্থ খলিফা হিসেবে দয়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ফাতেমি সাম্রাজ্য বিশাল বিস্তৃতি লাভ করে এবং গৌরবের চরম শিখরে আরোহণ করে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক লেনপুল বলেন, "চতুর্থ খলিফা আল-মুইজের রাজত্বকাল থেকে ফাতেমিরা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।" আল-মুইজের শাসনকালে উত্তর আফ্রিকা সভ্যতা ও সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে। গ. উদ্দীপক অনুসারে সেনাপতির নির্মিত নগরী মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের দিক থেকে সেনাপতি জওহরের সাদৃশ্য রয়েছে। খলিফা আল মুইজের সেনাপতি জওহর মিশর জয়ের পর রাজধানী ফুসতাতের কাছাকাছি আল-কাহিরা বা বিজয়িনী (কায়রো) নগরীর ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন। শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে হেলিও পোলিসের রাস্তার ধারে বালুকাময় প্রান্তরে একটি নতুন নগরের নকশা তৈরি করা হয়। মুইজের নির্দেশে ১,২০০ গজ দীর্ঘ একটি বর্গক্ষেত্র চিহ্নিত হয়। এ নগরীর নামকরণ করা হয় আল-কাহেরা আল-মাহফুজা, অর্থাৎ (মঙ্গল গ্রহের) রক্ষিত বিজয়ী নগরী। খলিফা প্রাসাদের উত্তরে উজিরের দস্তরখানা এবং দক্ষিণে ১৭০ খ্রিস্টাব্দে আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন, যা ৯৭২০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বিবি ফাতেমার স্মরণার্থে মসজিদটির নামকরণ করা হয় আল আজহার। পরবর্তী খলিফা আল-আজিজ মসজিদে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেন এবং একে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। আল মুইজ আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, কূপ খনন এবং বিশ্রামাগার স্থাপন করেন। এসব দিক বিবেচনা করে লেনপুল যথার্থই বলেন, "মিশর জয়লাভ করাই আল-মুইজের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল না বরং মিশরকে একটি সমৃদ্ধিশালী নগরীতে পরিণত করাই ছিল তার জীবনের স্বপ্ন।" ফাতেমি খলিফা আব্দুল আজিজের রাজত্বকালে ইয়াকুব ইবনে কিল্লিসের পরামর্শে আল আজহার মসজিদের পাশে ৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেন। এটি পরবর্তীকালে জগদ্বিখ্যাত বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন সভ্যতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে আল- মুইজের কাজের সাদৃশ্য রয়েছে। ফাতেমি প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রজাসাধারণের মঙ্গল সাধনই ছিল আল মুইজের শাসনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি প্রদেশগুলোকে জেলায় ভাগ করে সুদক্ষ ব্যক্তিদের ওপর এগুলোর শাসনভার ন্যস্ত করেন। আল মুইজ মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান প্রভৃতি সম্প্রদায়ের লোকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজকার্যে নিযুক্ত করতেন। আল মুইজের আমলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের সম্পত্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসার যোগ্য। খলিফা নিজে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। রাজস্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আল মুইজ নবদীক্ষিত ইয়াকুব ইবনে কিল্লিস ও আসুমা নামক দুই ব্যক্তির ওপর রাজস্ব সংস্কারের ভার অর্পণ করেন। আল মুইজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে কায়রোতে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হয়, যা কালক্রমে উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধিতে পাশ্চাত্যের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিক্রম করে। তার আমলে আরবি থেকে পুস্তক ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। তিনি রাজ্যের নানা স্থানে সুন্দর সুন্দর, অট্টালিকা, রাজপ্রাসাদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। অল্পকালের মধ্যে তিনি ন্যায়ের শাসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উৎসাহে বহু জ্ঞানীগুণী দরবারের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেন। পরিশেষে বলা যায়, ফাতেমি খলিফা আল মুইজের শাসনকালকে মিশরীয় ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে। শাসনব্যবস্থার বিন্যাস, শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন ও জনকল্যাণমূলক কাজে খলিফা মুইজের অবদান অনস্বীকার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

আবু আব্দুল্লাহ আফ্রিকা মহাদেশে একটি রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক তিনি বাগদাদের খলিফার অধীনতা স্বীকার না করে নিজেকে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। তিনি দেশ জয় করেন। তার সেনাপতি নতুন একটি শহর প্রতিষ্ঠা করে সেখানে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রজামঙ্গলজনক কাজ করেন।

ক.

ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসকের নাম লেখ।

খ.

ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা কে? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত সেনাপতির তৈরি নগরী, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তোমার পঠিত সেনাপতি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শহর, মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিল রয়েছে- আলোচনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কার্যের সঙ্গে তোমার পঠিত শাসকের জনকল্যাণমূলক কাজের কী মিল আছে?- বিবরণ দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf৬৬১ খ্রি. & textbfউমাইয়া খেলাফত hline text৭৫০ খ্রি. & textআব্বাসি খেলাফত hline text৯০৯ খ্র...

ইসমাইলীয় সম্প্রদায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রথম রাজবংশ কোনটি?

উবায়দুল্লাহ আল মাহদী কী প্রতিষ্ঠা করেন?

কে ‘আল মনসুর' উপাধি গ্রহণ করে ফাতেমি সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন?

কারবালা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কোন দলের উদ্ভব হয়?

“খলিফা জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন" বলতে যা বোঝাতে চেয়েছেন- i. জ্ঞানী লোকের সাথে থাকতেন ii. জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা...

[আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা] ক. আল জওহর কার স্মরণার্থে 'আল আজহার' মসজিদটি নির্মাণ করেন? খ. আল মুইজকে পাশ্চ...

আড়াইশ বছর শাসন করার পর মিশরে ফাতেমি খিলাফতের অবসান ঘটে। এর যথার্থ কারণ হলো- i. খলিফাদের দুর্বলতা ii. মন্ত্রীদের শত্রুতা...

আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় ব্যাপারে সমাজে কাদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল?

আফনান সুদীর্ঘ ২৩ বছর কৃতিত্বের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করে তাঁর 'চিনুক' রাষ্ট্রটিকে স্বর্ণময় করে তোলেন। তিনি ছিলেন তাঁর রা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।