Facebook Pixel

বার্ধক্য তাহাই যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়িয়া পড়িয়া থাকে; বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; ... আলোক-পিয়াসী প্রাণচঞ্চল শিশুদের কল-কোলাহলে যাহারা বিরক্ত হইয়া অভিসম্পাত করিতে থাকে, জীর্ণ পুঁথি চাপা পড়িয়া যাহাদের নাভিশ্বাস বহিতেছে, অতি জ্ঞানের অগ্নিমান্দ্যে যাহারা আজ কঙ্কালসার- বৃদ্ধ তাহারাই। ইহাদের ধর্মই বার্ধক্য। বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। আবার বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি- যাঁহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন। কপিলাসের বাবার নাম কী? খ. "একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটা সে বলেই চলল।" কোন কথা এবং কেন বলেই চলল? গ. উদ্দীপকের বক্তব্য 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কোন দিকটির সাথে তুলনীয়? ঘ. "বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি"- উদ্দীপক ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের আলোকে সত্যতা যাচাই করো।

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: গদ্য - কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ

উৎস: Test Exam Question রাজশাহী কলেজ 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কপিলদাসের বাবার নাম- 'দিবোদাস'। খ. কপিলদাস বারবার 'হা মড়ল তুই বুঢ়া মানুষ- তুই কিছু করিবা পারিস না' কথাটি ঘুরে ঘুরে বলেই চলল। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে সলিমউদ্দিন কপিলদাসকে জানায় তাদের বসত উঠে যাবে এবং এ বছর এখানে ধানের আবাদ হবে। ট্রাক্টর চলবে। কপিলদাসের ছেলে মহিন্দরও তাকে অক্ষম বলে উপেক্ষা করে। চারপাশের মানুষ বারবার তাকে বুঝিয়ে দেয়- সে বৃদ্ধ। কোনো কিছু করার ক্ষমতা তার নেই। এই কথাগুলো কপিলদাসের মনে গভীর দাগ কাটে এবং তিনি নিজেকে বোঝানোর জন্যই বারবার এটি আওড়াতে থাকে। গ. উদ্দীপকের বক্তব্য 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস চরিত্রের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে তুলনীয়। গল্পের শুরুতে কপিলদাসকে দেখা যায় শীতের রোঁদে ঝিমাতে, চারপাশের ঘটনায় উদাসীন। ছেলে মহিন্দর ও অন্যরা তাকে বুড়ো মানুষ বলে উপেক্ষা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে তির-ধনুক হাতে নিয়ে প্রতিবাদে এগিয়ে যায়। উদ্দীপকে বার্ধক্যকে বয়সের ফ্রেমে না বেঁধে মানসিক জড়তার সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে। গল্পের কপিলদাসকে বাইরে থেকে বার্ধক্যগ্রস্ত মনে হলেও তার ভেতরে এখনও আগুন জ্বলছে। উদ্দীপকের ভাষায় সে সেই বৃদ্ধ, যার জীর্ণাবরণের তলে মেঘলা সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন লুকানো। অন্যদিকে মহিন্দর ও অন্য তরুণদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। শেষ পর্যন্ত কপিলদাসের তির ছোড়ার ঘটনা প্রমাণ করে, প্রকৃত যৌবন বয়সের নয়, মননের বিষয়। তাই উদ্দীপকের বক্তব্য গল্পের কপিলদাস চরিত্রের মধ্য দিয়ে পুরোপুরি প্রকাশ পেয়েছে। ঘ. “বহু যুবককে দেখিয়াছে যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কালমূর্তি”- উক্তিটি সত্য, কারণ গল্পের তরুণ চরিত্রগুলোর মধ্যে যৌবনের বাহ্যিক রূপ থাকলেও ভেতরে বার্ধক্যের জড়তা দেখা যায়। গল্পের তরুণ চরিত্র মহিন্দর ও সলিমউদ্দিন যুবক হলেও তাদের চিন্তা জড় এবং সংকীর্ণ। তারা বুড়ো কপিলদাসকে উপেক্ষা করে কিন্তু নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তারা জড়তা ও ভীতিতে কাবু হয়ে প্রতিবাদী পদক্ষেপ নেয় না। উদ্দীপকে বলা হয়েছ, যৌবনের আড়ালে বার্ধক্য লুকিয়ে থাকতে পারে। সব ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে সেটা বোঝা যায় না। গল্পের মহিন্দর ও অন্য তরুণরা কপিলদাসকে অক্ষম ভাবলেও নিজেরা প্রতিবাদে এগিয়ে আসে না। তাই তারাই প্রকৃত বার্ধক্যগ্রস্ত। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে দেখা যায় যে ছেলে মহিন্দর কপিলদাসকে 'তুই বুঢ়া' বলে বারবার অপমান করে। কিন্তু যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসে তখন মহিন্দরের মতো তরুণরাই নিষ্ক্রিয় থাকে। অন্যদিকে বুড়ো কপিলদাস জীর্ণ শরীরেও তির-ধনুক হাতে এগিয়ে যায়। উদ্দীপকের বক্তব্য অনুযায়ী মহিন্দরদের মধ্যে যৌবনের বাহ্যিক রূপের আড়ালে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। আর কপিলদাসের বার্ধক্যের আড়ালে রয়েছে প্রদীপ্ত যৌবন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যৌক্তিক। কারণ প্রকৃত যৌবন বয়সের নয়, মানসিক শক্তি ও সাহসের নাম। গল্পের তরুণরা সেই শক্তি হারিয়ে ফেললেও বৃদ্ধ কপিলদাস তা ধরে রেখেছেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - রাজশাহী কলেজ (2026)

বার্ধক্য তাহাই যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়িয়া পড়িয়া থাকে; বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; ... আলোক-পিয়াসী প্রাণচঞ্চল শিশুদের কল-কোলাহলে যাহারা বিরক্ত হইয়া অভিসম্পাত করিতে থাকে, জীর্ণ পুঁথি চাপা পড়িয়া যাহাদের নাভিশ্বাস বহিতেছে, অতি জ্ঞানের অগ্নিমান্দ্যে যাহারা আজ কঙ্কালসার- বৃদ্ধ তাহারাই। ইহাদের ধর্মই বার্ধক্য। বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। আবার বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি- যাঁহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন।

কপিলাসের বাবার নাম কী?

খ. "একবার নয়, ঘুরে ঘুরে কথাটা সে বলেই চলল।" কোন কথা এবং কেন বলেই চলল?

গ. উদ্দীপকের বক্তব্য 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কোন দিকটির সাথে তুলনীয়?

ঘ. "বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি"- উদ্দীপক ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের আলোকে সত্যতা যাচাই করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

উনিশ শতকে ব্রিটিশ ভারতে 'সাঁওতাল বিদ্রোহ' নামে সংগঠিত একটা ঔপনিবেশিক ও জমিদারি শাসন বিরোধী আন্দোলন হয়েছিল। ১৮৫৫ সালে পশ্...

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়-পর্বতময় অঞ্চল। এই অঞ্চলের চাকমারা প্রকৃতির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কঠোর সংগ্রাম করে জীবনধারণ করে।...

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে। বাবু বলিলেন, 'বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।' কহিলাম আমি, 'তুমি ভূস্বামী, ভূমি...

খিজির মিয়া একজন বয়স্ক মানুষ। অনেকদিন ধরে তিনি চুপচাপ অন্যায় দেখে যাচ্ছিলেন, কিছুই বলতেন না। তিনি ভাবতেন, 'বয়স হয়েছে, আমি...

সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যে সাহসী প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছিল তার অন্যতম নায়ক ছিলেন নূরলদীন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন...

– হ, বেবাক মাইনষেরেই এমবায় ঠকাইছে। করিম গাজী বলে, আরে মিয়া এমুন কারবারডা অইল আর তুমি ফিরা চলছো? – কী করমু তয়...

“ধর বুঢ়াটাকে, ধরে কাঢ়ে লে ধেনুকখান”- কার উক্তি?

"ওদিকে গোপীনাথ কিছুই বলে না”- এর কারণ হলো গোপীনাথের- i. স্বার্থপরতা ii. কাপুরুষতা iii. স্বাজাত্যবোধহীনতা নিচের কোনটি ঠিক...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও। মাহমুদা নামের এক অসহায় বিধবা বহু বছর ধরে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন। ভূমিহীনতা...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও। মাহমুদা নামের এক অসহায় বিধবা বহু বছর ধরে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন। ভূমিহীনতা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।