Facebook Pixel

একসময় ঈশা খাঁর সঙ্গে মানসিংহের যুদ্ধ হয়। রণনিপুণ ঈশা খাঁর তরবারির আঘাতে মানসিংহের তরবারি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। মানসিংহ অসহায় হয়ে পড়েন। ঈশা খাঁ চাইলে এই অবস্থায় মানসিংহকে হত্যা করতে পারতেন। কিন্তু , বীরযোদ্ধা ঈশা খাঁ তা না করে নিজের কোষ থেকে একখানি ভালো তলোয়ার বের করে মানসিংহকে উপহার দিয়ে পুনরায় যুদ্ধে আহবান জানালেন । মানসিংহ ঈশা খাঁর এই মহানুভবতা , ঔদার্য ও বীরধর্মের আদর্শ দেখে মুগ্ধ হলেন এবং যুদ্ধের পরিবর্তে সন্ধি স্থাপনে এগিয়ে এলেন । ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের মায়ের নাম কী ? খ. “ স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থানুর ললাটে ”— কবিতার এই চরণ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে ? গ. উদ্দীপকের ঈশা খাঁ ও ' বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ ' কবিতার লক্ষ্মণের আদর্শগত বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো । ঘ. উদ্দীপক ও ' বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ ' কবিতার মূলভাবনা এক নয়। '- মন্তব্যটি বিচার করো।

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: কবিতা - বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ

উৎস: Board Exam Question RB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের মায়ের নাম জাহ্নবী দেবী। খ. "স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে"- কবিতার এই চরণ দ্বারা বোঝানো হয়েছে বিধাতা চাঁদকে আকাশে নিশ্চল করে স্থাপন করেছেন। সৃষ্টিকর্তা এ-জগতের সবকিছু সৃষ্টি করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান দিয়েছেন। এমনিভাবে আকাশে চাঁদের একটি নির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে। চাঁদ সেই অবস্থান ত্যাগ করে কখনো ভূতলে নেমে আসে না। অর্থাৎ সবকিছুই এক-একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলে। এখানে বিভীষণকে তাঁর বংশগৌরব ও আত্মমর্যাদা বোধ স্মরণ করিয়ে দিতে মেঘনাদ প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে। গ. উদ্দীপকের ঈশা খাঁ ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার লক্ষ্মণের আদর্শগত বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।স্বদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য শত্রু শাসক-শোষকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরা অন্যায় নয়। বরং স্বদেশের দুর্দিনে এগিয়ে না এসে পালিয়ে যাওয়া কিংবা শত্রুর সঙ্গে হাত মিলানো অন্যায়। তবে অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ এতে মানুষের মহৎ মানবতাকে ম্লান করে দেয়।উদ্দীপকে একজন বীর যোদ্ধার রণকৌশল এবং যথাযথভাবে যুদ্ধরীতি ও প্রথা মেনে যুদ্ধ করার দিক তুলে ধরতে গিয়ে বীর যোদ্ধা ঈশা খাঁ ও মানসিংহের মধ্যে যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধের সময় রণনিপুণ ঈশা খাঁর তরবারির আঘাতে মানসিংহের তরবারি দ্বিখণ্ডিত হয়। মানসিংহ অসহায় হয়ে পড়লে ঈশা খাঁ তাকে আঘাত না করে নিজের কোষ থেকে একখানা ভালো তলোয়ার বের করে মানসিংহকে উপহার দিয়ে পুনরায় যুদ্ধে আহ্বান জানান। উদ্দীপকের এই ঘটনার বিপরীত ঘটনা ঘটেছে কবিতার লক্ষ্মণের বেলায়। লক্ষ্মণ মায়া দেবী ও বিভীষণের সহায়তায় নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে পূজারত নিরস্ত্র মেঘনাদকে যুদ্ধের জন্য আহ্বান করেই আঘাত করেছে। তাকে যুদ্ধের সাজগ্রহণ ও অস্ত্রধারণ করতে দেয়নি। বীর মেঘনাদ তাকে মহারথীপ্রথা মেনে যুদ্ধ করার কথা বললেও সে শোনেনি। অন্যায়ভাবে তাকে হত্যা করেছে। এখানে উদ্দীপকের ঈশা খাঁ এবং কবিতার লক্ষ্মণের মধ্যে আদর্শগত বৈসাদৃশ্য প্রকাশ পেয়েছে। ঘ. "উদ্দীপক ও বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাব এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে মহৎ করে। দেশপ্রেম মানুষকে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করে। স্বদেশের স্বার্থেএকজন দেশপ্রেমিক দেশের জন্য যুদ্ধ করে জীবন দিতে পারেন। আর যারা স্বদেশের মঙ্গল কামনা না করে স্বদেশের শত্রুর সঙ্গে হাত মেলায় তারা বিশ্বাসঘাতক। বিশ্বাসঘাতক কখনো যুদ্ধের নিয়ম মানে না।উদ্দীপকে এক মহান যোদ্ধার আদর্শ ও মহারথীপ্রথা মেনে যুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এখানে বীর যোদ্ধা ঈশা খাঁ মানসিংহের সঙ্গে যুদ্ধ করে মানসিংহের তরবারি ভেঙ্গে ফেলেছেন। কিন্তু অসহায় মানসিংহকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেননি। তিনি তাকে নিজের কোষ থেকে অস্ত্র উপহার দিয়ে পুনরায় যুদ্ধ করার জন্য আহ্বান করেছেন। এই ঘটনাটির বিপরীত ঘটনা ঘটেছে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায়। সেখানে লক্ষ্মণ অন্যায়ভাবে নিরস্ত্র মেঘনাদকে নির্মমভাবে. নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে হত্যা করেছে।'বিভীষণের প্রতি 'মেঘনাদ' কবিতায় কবি বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা, লক্ষ্মণের নির্মমতা এবং মেঘনাদের স্বদেশপ্রেম তুলে ধরেছেন। এখানে বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে মেঘনাদের বীরত্ব, ব্যক্তিত্ব, স্বদেশপ্রেম ও সাহসিকতা। স্বজাতির প্রতি মেঘনাদের মমত্ববোধ সবার দৃষ্টি কাড়ে। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2019)

একসময় ঈশা খাঁর সঙ্গে মানসিংহের যুদ্ধ হয়। রণনিপুণ ঈশা খাঁর তরবারির আঘাতে মানসিংহের তরবারি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। মানসিংহ অসহায় হয়ে পড়েন। ঈশা খাঁ চাইলে এই অবস্থায় মানসিংহকে হত্যা করতে পারতেন। কিন্তু, বীরযোদ্ধা ঈশা খাঁ তা না করে নিজের কোষ থেকে একখানি ভালো তলোয়ার বের করে মানসিংহকে উপহার দিয়ে পুনরায় যুদ্ধে আহবান জানালেন । মানসিংহ ঈশা খাঁর এই মহানুভবতা, ঔদার্য ও বীরধর্মের আদর্শ দেখে মুগ্ধ হলেন এবং যুদ্ধের পরিবর্তে সন্ধি স্থাপনে এগিয়ে এলেন ।

ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের মায়ের নাম কী ?

খ. “স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থানুর ললাটে”— কবিতার এই চরণ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে ?

গ. উদ্দীপকের ঈশা খাঁ ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার লক্ষ্মণের আদর্শগত বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো ।

ঘ. উদ্দীপক ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবনা এক নয়।'- মন্তব্যটি বিচার করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

“হায় তাত! উচিত কি তব এ কাজ ?” – মেঘনাদের এই উক্তির মধ্যে দিয়ে বিভীষণের কোন কাজটি পছন্দ হয়নি?

'স্বচক্ষে দেখেছ রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের!'- নিজেকে 'দাস' বলার পেছনে মেঘনাদের কোন মনোভাবটি ক্রিয়াশীল?

'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় "নিজ কর্ম- দোষে, হায় মজাইলা/এ কনক-লঙ্কা রাজা" উদ্ধৃতিতে 'নিজ কর্ম-দোষ' কোন প্রসঙ্গে ব্যবহ...

‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাংশটুকু ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের কোন সর্গ হতে সংকলিত?

হাজার হাজার সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পুতুলের মত দাঁড়িয়ে থাকে, মোহনলাল ও মীরমর্দান প্রাণপণে যুদ্ধ করেও মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা...

'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় ‘রাবণ অনুজ’ বলতে কাকে বুঝানো হয়েছে?

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নটির উত্তর দাও: "স্বদেশের উপকারে নাই যার মন কে বলে মানুষ তারে, পশু সেই জন।" Q. উদ্ধৃত কবিতাংশটি 'বিভ...

কার অপর নাম সৌমিত্রি?

‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় সৌমিত্রি কে?

মেঘনাদের মরে যেতে ইচ্ছে করে কেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।