Facebook Pixel

হাজার হাজার সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পুতুলের মত দাঁড়িয়ে থাকে, মোহনলাল ও মীরমর্দান প্রাণপণে যুদ্ধ করেও মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কাছে পরাজিত হয়। ব্রিটিশ সৈন্যরা অনায়াসেই বাংলা দখল করে নেয়। এভাবেই ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে। ক. সৌমিত্রি কে? খ. 'হায় তাত, উচিত কি তব এ কাজ?'- কে, কেন এ উক্তিটি করেছিল? গ. "উদ্দীপকের মূলভাব 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? তুলনামূলক আলোচনা করো। ঘ. "উদ্দীপকের মূলভাব 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবের সাথে আংশিক সামঞ্জস্যপূর্ণ"- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: কবিতা - বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ

উৎস: Board Exam Question RB 2018

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সৌমিত্রি হলো লক্ষ্মণ। খ. নিজের জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব এবং স্বজাতির প্রতি কর্তব্য জলাঞ্জলি দিয়ে বিভীষণ বিশ্বাসঘাতকতা করে রামানুজ লক্ষ্মণকে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে যাওয়ায় মেঘনাদ তাকে উদ্দেশ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল। লঙ্কাপুরীকে রামচন্দ্রের হাত থেকে বাঁচাতে এবং যুদ্ধজয় নিশ্চিত করতে মেঘনাদ সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। যুদ্ধে যাওয়ার আগে মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা করতে যায়। লক্ষ্মণকে সেখানে প্রবেশ করতে বিভীষণ সহায়তা করে। তার এমন বিশ্বাসঘাতক আচরণে মেঘনাদ ব্যথিত হয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে শত্রুকে পথ চিনিয়ে ঘরে নিয়ে আসা উচিত হয়েছে কিনা মেঘনাদ তা তার পিতৃব্য বিভীষণের কাছে জানতে চেয়েছে। গ. উদ্দীপকের মিরজাফর 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। স্বদেশপ্রেম একটি মহৎ গুণ। মানুষ স্বভাবতই নিজের দেশকে ভালোবাসে। তবে এমন কিছু আত্মকেন্দ্রিক মানুষ আছে যারা নিজেদের স্বার্থে শত্রুর পক্ষ নিয়ে স্বজাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। উদ্দীপকে দেশদ্রোহী ও বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরের কথা বলা হয়েছে। মিরজাফর ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধ না করে হাজার হাজার সৈন্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে। ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় রামচন্দ্র কর্তৃক স্বর্ণপুরী লঙ্কা আক্রান্ত হলে বিভীষণ ভাই রাবণের পক্ষ ছেড়ে রামচন্দ্রের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। স্বদেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে রাবণপুত্র মেঘনাদ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে গেলে সেখানে লক্ষ্মণকে প্রবেশ করতে সহায়তা করেছে। শুধু তাই নয়, মেঘনাদ যুদ্ধসাজ গ্রহণ করতে চাইলে বিভীষণ অস্ত্রাগারের দ্বার রুদ্ধ করে দাঁড়িয়ে থেকেছে। যার ফলে লক্ষ্মণের হাতে অন্যায়ভাবে মেঘনাদের মৃত্যু হয়েছে। এভাবে দেশ ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার দিক থেকে উদ্দীপকের মিরজাফর 'বিভীষণের প্রতি 'মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। ঘ. “উদ্দীপকের মূলভাব 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবের সাথে আংশিক সামঞ্জস্যপূর্ণ”- উক্তিটি যথার্থ । আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যারা দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। দেশের স্বার্থে তাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হন না। আবার এমন কিছু মানুষও আছে যারা আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতেও দ্বিধা করে না। উদ্দীপকে দেশের সঙ্গে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কথা প্রকাশ পেয়েছে। ১৭৫৭ সালে মিরজাফর হাজার হাজার সৈন্য নিয়ে ব্রিটিশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছে। তার এই বিশ্বাসঘাতকতার ফলে ব্রিটিশ সৈন্যদের কাছে বাংলার দেশপ্রেমিক যোদ্ধাদের মৃত্যু হয় এবং নবাব পরাজিত হন। ফলে স্বাধীনতার অবসান ঘটে। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণও মিরজাফরের মতো একজন দেশদ্রোহী ও বিশ্বাসঘাতক। লঙ্কাপুরী শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে বিভীষণ স্বদেশ ও স্বজাতি ত্যাগ করে শত্রুপক্ষে কাজ করে। সে লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে যায়। তার এই বিশ্বাসঘাতকতার ফলে দেশপ্রেমিক মেঘনাদকে নিরস্ত্র অবস্থায় লক্ষ্মণের হাতে মৃত্যুবরণ করতে হয়। বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য কবিতায় মেঘনাদের স্বদেশপ্রেম, জ্ঞাতিত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ, বীরত্ব, সাহসিকতা, গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা এসব বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। উদ্দীপকের মূলভাব মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা থাকলেও সেখানে জন্মভূমির প্রতি মেঘনাদের ভালোবাসা বড় হয়ে উঠেছে। স্বজাতির প্রতি তার গভীর মমত্ববোধ, বীরত্ব ও সাহসকিতা প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকে নেই। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2018)

হাজার হাজার সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পুতুলের মত দাঁড়িয়ে থাকে, মোহনলাল ও মীরমর্দান প্রাণপণে যুদ্ধ করেও মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কাছে পরাজিত হয়। ব্রিটিশ সৈন্যরা অনায়াসেই বাংলা দখল করে নেয়। এভাবেই ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে।

ক. সৌমিত্রি কে?

খ. 'হায় তাত, উচিত কি তব এ কাজ?'- কে, কেন এ উক্তিটি করেছিল?

গ. "উদ্দীপকের মূলভাব 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? তুলনামূলক আলোচনা করো।

ঘ. "উদ্দীপকের মূলভাব 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবের সাথে আংশিক সামঞ্জস্যপূর্ণ"- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

“হায় তাত! উচিত কি তব এ কাজ ?” – মেঘনাদের এই উক্তির মধ্যে দিয়ে বিভীষণের কোন কাজটি পছন্দ হয়নি?

'স্বচক্ষে দেখেছ রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের!'- নিজেকে 'দাস' বলার পেছনে মেঘনাদের কোন মনোভাবটি ক্রিয়াশীল?

'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় "নিজ কর্ম- দোষে, হায় মজাইলা/এ কনক-লঙ্কা রাজা" উদ্ধৃতিতে 'নিজ কর্ম-দোষ' কোন প্রসঙ্গে ব্যবহ...

‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাংশটুকু ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের কোন সর্গ হতে সংকলিত?

'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় ‘রাবণ অনুজ’ বলতে কাকে বুঝানো হয়েছে?

একসময় ঈশা খাঁর সঙ্গে মানসিংহের যুদ্ধ হয়। রণনিপুণ ঈশা খাঁর তরবারির আঘাতে মানসিংহের তরবারি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। মানসিংহ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নটির উত্তর দাও: "স্বদেশের উপকারে নাই যার মন কে বলে মানুষ তারে, পশু সেই জন।" Q. উদ্ধৃত কবিতাংশটি 'বিভ...

কার অপর নাম সৌমিত্রি?

‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় সৌমিত্রি কে?

মেঘনাদের মরে যেতে ইচ্ছে করে কেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।