ক.
বর্তমানে ৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি বাধ্যতামূলক
খ.
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা যেন নিজেদের ভাষা শিখতে পারে সে লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সহায়তা করবে। এ উদ্দেশ্যে তাদের জন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজকে সম্পৃক্ত করা হবে। তারা যেন নিজেদের ভাষা শিখে তা সংরক্ষণ করতে পারে সেজন্য জাতীয় শিক্ষানীতি এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সহায়তা করবে।
গ.
প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যের আলোকে বিচার করলে উদ্দীপকের পাঠ্যসূচি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো। '
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০' এর আলোকে প্রাথমিক স্তরে উদ্দীপকের বিষয়সমূহের পাঠদান শিশুর বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব রাখার উদ্দেশ্যেই প্রণীত হয়েছে। উদ্দীপকে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাক্রম ও কর্মসূচির আওতায় সেসব বিষয়ে পাঠদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, গণিত, সামাজিক পরিবেশ ও জলবায়ু এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান। এসব অভিন্ন ও মৌলিক বিষয়ের পাঠদানের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে অধ্যয়নরত শিশুদের মনে ন্যায়বোধ, কর্তব্যবোধ, শৃঙ্খলা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, মানবাধিকার ইত্যাদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা কুসংস্কারমুক্ত মানুষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তাদের মধ্যে দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে এবং দেশাত্মবোধের বিকাশ ঘটবে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হবে এবং তারা নৈতিক শিক্ষার অধিকারী হবে। তাদের উন্নত ও সুস্থ জীবনমান নিশ্চিত করতেই বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাক্রম ও কর্মসূচি এসব বিষয়ের ভিত্তিতে শিশুদের পাঠদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এর পিছনে সে উদ্দেশ্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তা প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যের আলোকে উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তাই সার্বিক দিক বিচারে উদ্দীপকের পাঠ্যসূচি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যের আলোকে ব্যাখ্যা করলে বলা যায়, এর উদ্দেশ্য হলো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উন্নত জীবনবোধের ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা।
ঘ.
উদ্দীপকের বিষয়সমূহের পাঠদানে একজন শিক্ষকের সফল ভূমিকা সৃষ্টিতে 'জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০' এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উক্ত নীতির আলোকে শিক্ষক নির্বাচন ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এর ফলে উদ্দীপকের বিষয়গুলোরও জন্য বিষয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিয়োগ করা হবে যারা উক্ত ক্ষেত্রে সফল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে 'জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০' এর আলোকে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষকদের যোগ্যতা ধরা হয়েছে সর্বনিম্ন দ্বিতীয় বিভাগসহ এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা পাস এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য দ্বিতীয় বিভাগসহ স্নাতক ডিগ্রিধারী। চাকরিতে যোগদানের পর সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে সকল শিক্ষককে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে এবং বি. এড অর্জন করতে হবে। তাদের প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন কার্যকর ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনবোধে বিদেশেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করে এবং বেতন স্কেলের যথোপযুক্ত বিন্যাস করে তাদের উৎসাহ বৃদ্ধির নীতিও গ্রহণ করেছে উত্ত শিক্ষানীতি। এসব বিষয় যথাযথভাবে অনুসরণ করে এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষকদের তাদের পেশায় সফল ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করা হয়। ফলে উদ্দীপকের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচির মৌলিক বিষয়গুলোর পাঠদানে একজন শিক্ষক সফল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।
তারা যেন সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারেন সে উদ্দেশ্যেই 'জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০'-এর নীতি প্রণীত হয়েছে সেখানে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষক নির্বাচন এবং তাদের পদোন্নতির জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মাধ্যমেই উক্ত বিষয়সমূহের পাঠদানে শিক্ষকদের ঘড়ল ভূমিকা নিশ্চিত করা যায়। ভাই প্রশ্নের ময়নাটি যথার্থ।