Facebook Pixel

ক. জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি কত সালে প্রণীত হয়? খ. সামাজিক পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানে তোমার পঠিত কোন সামাজিক নীতির ইঙ্গিত করা হয়েছে? বুঝিয়ে লেখ। ঘ. জাতীয় উন্নয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নীতির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজকর্ম ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা এবং সমাজকর্ম

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ সালে প্রণীত হয়। খ. সাধারণত জনগণের সামাজিক জীবনমান উন্নয়নকল্পে যে সুশৃঙ্খল কর্মপন্থা গ্রহণ করা হয়, তাকে সামাজিক পরিকল্পনা বলে। সামাজিক পরিকল্পনা বলতে সমাজের কল্যাণ সাধনের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বাস্তবায়িত ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনাকে বোঝায়। সমাজকর্ম অভিধান অনুযায়ী, “সামাজিক পরিকল্পনা হচ্ছে পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আর্থসামাজিক কাঠামো গঠন ও যুক্তিসংগত সামাজিক পরিবর্তন সাধনের প্রক্রিয়া।” গ. উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে আমার পঠিত সামাজিক নীতির মধ্যে জনসংখ্যা নীতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সাধারণত জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি সামাজিক, নীতিই জনসংখ্যানীতি। জনসংখ্যা সমস্যাকে এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালে প্রথম জনসংখ্যানীতির রূপরেখা প্রণীত হয়। ২০০৪ সালে একটি জনসংখ্যানীতি অনুসন্ধান হয়। পরবর্তীতে সংস্কারসহ ২০১২ সালে জনসংখ্যানীতি প্রণয়ন করা হয়। যেখানে প্রধান যে উদ্দেশ্যগুলো ছিল তা হলো- ১. পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যবহার উন্নতিকরণ; ২. পরিবার পরিকল্পনাসহ প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা; ৩. মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস করা এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করে মা ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা; ৪. নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা; ৫. জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা; ৬. সব পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনাসহ প্রজনন স্বাস্থ্য তথ্য সহজলভ্য করা। উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের সাথে যে তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে তার প্রত্যেকটি জনসংখ্যানীতি ২০১২ এর উদ্দেশ্যে সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলতে হয়, '?' চিহ্নিত স্থানে জনসংখ্যানীতি ২০১২ কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ঘ. জাতীয় উন্নয়নে উদ্দীপকে উল্লিখিত জনসংখ্যা নীতির গুরুত্ব অপরিহার্য। একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূলে রয়েছে সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ জনসংখ্যা। তবে এই জনসংখ্যা অপরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধি পেলে, তা উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই জনসংখ্যানীতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রথমত, আমরা জানি আমাদের ভূমি ও সম্পদ সীমিত। জনসংখ্যা নীতি এই সীমিত সম্পদের সাথে জনসংখ্যার একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, জনসংখ্যানীতি গ্রহণের প্রধান একটি কারণ হলো মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার হ্রাস করা। কেননা অপরিকল্পিত জন্ম মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিকে বৃদ্ধি করে। তৃতীয়ত, একটি সুস্থ জাতিই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে। আর সুস্থ জাতি সুনিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মান উন্নয়ন করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে জনসংখ্যা কাম্যের অতিরিক্ত হলে তা সম্ভব হয় না। চতুর্থত, জনসংখ্যা তখনই সমাজের জন্য উপকারী হয়, যখন তা মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয়। জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে শিক্ষা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা প্রভৃতি চাহিদাগুলো যথার্থরূপে পূরণ করতে হয়। এক্ষেত্রে জনসংখ্যা কাম্য হওয়ার বিকল্প নেই। পঞ্চমত, একটি দেশের জনসংখ্যা সুনিয়ন্ত্রিত থাকলে সে দেশের জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ সঞ্চয় এবং বিনিয়োগে ব্যবহার করা যায়। ষষ্ঠত, দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে জনসংখ্যানীতি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে। অতএব দেখা যায়, জাতীয় উন্নয়নে জনসংখ্যা নীতির গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ক.

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি কত সালে প্রণীত হয়?

খ.

সামাজিক পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানে তোমার পঠিত কোন সামাজিক নীতির ইঙ্গিত করা হয়েছে? বুঝিয়ে লেখ।

ঘ.

জাতীয় উন্নয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নীতির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।