ক.
যখন একই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হয় তখন তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।
খ.
যেসব রপ্তানি পণ্য বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ কাজে লাগে অথচ রপ্তানির উদ্দেশ্যেই উৎপাদন করা হয় তাকে অপ্রচলিত পণ্য বলে। বর্তমানে বাংলাদেশ কিছু অপ্রচলিত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তৈরি পোশাক, হোসিয়ারি দ্রব্য, হিমায়িত 'খাদ্য, শাকসবজি প্রভৃতি।
গ.
ক' বাণিজ্য বলতে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের কথা বলা হয়েছে।
উক্ত বাণিজ্য বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সাধারণত গ্রাম বা হাট থেকে কাঁচামাল ও খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয় এবং উৎপাদিত শিল্প জেলা সদর, গঞ্জ ও হাটে বণ্টন করা হয়। এ বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের চাহিদা ও ভোগের সমন্বয় ঘটে। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে বাংলাদেশে যাতায়াত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সড়কপথ, রেলপথ ও নদীপথ। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের মাধ্যমে এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্যসামগ্রী আদান-প্রদান করা হয়। অর্থাৎ ঘাটতি স্থানে উদ্বৃত্ত স্থান হতে পণ্য নিয়ে যাওয়া হয়। এতে বাংলাদেশের সমগ্র অঞ্চলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়। একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তখনই বিকাশ লাভ করে যখন দেশটির সমগ্র অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। এক্ষেত্রে সমগ্র অঞ্চলের উন্নতিতে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে বাণিজ্য করতে হলে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হয় এবং এই খাতে প্রচুর লোক কর্মে নিয়োজিত থাকে। ফলে বেকারত্ব লাঘব হয়।
পরিশেষে বলা যায়, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি দেশ সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক অগ্রগতি লাভ করে।
ঘ.
উদ্দীপকের 'গ' দ্বারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমদানি বাণিজ্যকে 'এবং 'ঘ' দ্বারা রপ্তানি বাণিজ্যকে বোঝানো হয়েছে।
দুটি বাণিজ্যই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র আয়তনের বিশাল জনবহুল দেশ। এদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। তবে বর্তমানে কাঁচামাল আমদানি করার কারণে কিছুটা শিল্পনির্ভরও হচ্ছে। এছাড়াও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে এদেশের অর্থনীতি অনেকটা সচল হয়ে উঠেছে। সাধারণত একটি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে তখনই যখন আমদানি বাণিজ্যের তুলনায় রপ্তানি বাণিজ্য বেশি হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও রপ্তানি বাণিজ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে চলছে। বাংলাদেশের একটি প্রধান শিল্প হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প। এ দেশের অধিক জনসংখ্যার কারণে উক্ত শিল্পে শ্রমিক সস্তা, অনুকূল জলবায়ু প্রভৃতি বিদ্যমান। যার কারণে দেশে উক্ত শিল্প গড়ে উঠেছে এবং শিল্প থেকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হচ্ছে, যা রপ্তানি বাণিজ্যের আওতাভুক্ত। আবার, এদেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে অনেক শ্রমশক্তি বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হচ্ছে; যা রপ্তানি বাণিজ্যের আওতাভুক্ত। কিন্তু এই শিল্পের কিছু কাঁচামাল বাইরের দেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে যার ফলে এদেশীয় মুদ্রা বাইরের দেশে চলে যাচ্ছে। যার ফলে দেশীয় মুদ্রা হ্রাস পাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি মন্থর হচ্ছে। তাই রপ্তানি বাণিজ্যকে সম্প্রসারিত করার জন্য দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সুতরাং বলা যায় যে, 'গ' ও 'ঘ' চিহ্নিত বাণিজ্যের মধ্যে 'ঘ' অর্থাৎ রপ্তানি বাণিজ্যই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে আমি মনে করি।