ক.
দেশের মোট জনসংখ্যার যে অংশ শারীরিক ও মানসিকভাবে কাজ করতে সক্ষম তাকেই জনশক্তি বলে।
খ.
গ' দেশটি হচ্ছে জাপান।
রপ্তানি বাণিজ্যে জাপানের ভূমিকা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। জাপানের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে লোহা ও ইস্পাতের তৈরি ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, মোটরগাড়ি, জাহাজ, পশম বস্তু, সিঙ্ক বস্ত্র, রেয়ন বস্তু, কাগজ, পেট্রোকেমিক্যাল, ঔষধ, বস্তু বা পোশাক, সিমেন্ট প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
গ.
'ক' দেশটি হচ্ছে চীন। এটি রপ্তানিকারক দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। চীন অনেকগুলো কারণে রপ্তানি ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। তন্মধ্যে ভৌগোলিক কারণ, অর্থনৈতিক কারণ ও সাংস্কৃতিক কারণ উল্লেখযোগ্য।
ভৌগোলিকভাবে চীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি বৃহত্তম দেশ। এদেশের জনসংখ্যাও সারাবিশ্বের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। এ অঞ্চলের জনসংখ্যা প্রায় ১৪০ কোটি। এর চারপাশে বিভিন্ন ধরনের সাগর, নদনদী ও পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে। এ অঞ্চলের মাটির নিচে প্রচুর পরিমাণে খনিজ সম্পদ রয়েছে। যেমন- প্রাকৃতিক গ্যাস, লোহা, সোনা, কয়লা, পেট্রোলিয়াম প্রভৃতি। এসব খনিজ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে চীন বিভিন্ন ধরনের শিল্পোৎপাদন করছে। অন্যদিকে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে উক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত করেছে। এর ফলে শিল্প থেকে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী উৎপাদন করছে যা সারা বিশ্বব্যাপী রপ্তানি হচ্ছে। আবার, চীনাদের কৃষির ওপর ব্যাপক গবেষণার ফলে তারা কৃষিক্ষেত্রে বিরাট 'সফলতা অর্জন করছে। অল্প জমিতে তারা অধিক ফসল উৎপাদন করতে শিখেছে। ফলে উক্ত ফসল তাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত থাকছে। এই উদ্বৃত্ত বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসল সারাবিশ্বে রপ্তানি করছে।
এভাবে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক নিয়ামকের অনুকূল পরিবেশের জন্য চীন বর্তমানে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও রপ্তানিতে শীর্ষ দেশে পরিণত হয়েছে।
ঘ.
খ' দেশটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র 'গ' দেশটি হলো জাপান এবং 'ঘ' দেশটি হচ্ছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাথে বাংলাদেশের চমৎকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রধান আমদানি-রপ্তানি দেশসমূহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি ও ঘনিষ্ঠ। তৈরি পোশাক আমাদের দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য এবং যার প্রধান ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র। তাই পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার রয়েছে। ১৯৭২ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) সময়কালে বাংলাদেশ ৬৪৩৯৭৭ মিলিয়ন ডলার পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে। এর বিপরীতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে মাত্র ১৭৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য। যা বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক ফুটে উঠেছে। অপরদিকে, 'গ' অর্থাৎ জাপানের সাথেও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। স্বাধীনতা সংগ্রামে জাপান বাংলাদেশকে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক স্বাধীনতাত্তোরকাল থেকেই সৌহার্দ্যপূর্ণ। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে দুই দেশেরই অবস্থান বন্ধুসুলভ। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২২- ২৩ (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) অর্থবছরে জাপান থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ১৮৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশ জাপানে ১১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পণ্য রপ্তানি করে।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের আমদানি- রপ্তানি বাণিজ্যের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ।