ক.
Common Human Needs গ্রন্থটি Charlotte Towle বা চার্লট টোলে লিখেছেন।
খ.
সামাজিক সমস্যার তিনটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. সামাজিক সমস্যাসমূহ সমাজ থেকে উৎপন্ন হয়। সমাজের পরিসরের মধ্যে সৃষ্টি হয় এবং বিস্তার লাভ করে ।
২. সামাজিক সমস্যা একটি বিমূর্ত ধারণা। এটি স্পর্শ করা যায় না কিংবা এর কোনো আকার নেই। সমাজের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব কেবল অনুমান করা যায় ।
৩. সামাজিক সমস্যা পরিবর্তনশীল। সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে সামাজিক সমস্যার স্বরূপ ও প্রকৃতিতেও পরিবর্তন সাধিত হয়।
গ.
উদ্দীপকে জিজ্ঞাসা চিহ্নিত স্থানে মৌলমানবিক চাহিদা বসবে। আর মৌল মানবিক চাহিদা যথাযথভাবে না পূরণ হওয়ার কতিপয় কারণ রয়েছে, যা নিচে আলোচনা করা হলো-
প্রধানত দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং সামাজিক জীবনের উৎকর্ষতার জন্য যেসব চাহিদা পূরণ করা অপরিহার্য সেগুলোই মৌল মানবিক চাহিদা। মৌল মানবিক চাহিদাগুলো হলো— খাদ্য, বস্ত্র, আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং চিত্তবিনোদন। উদ্দীপকের চিত্রে মৌলিক মানবিক চাহিদার ধারণাগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে। মৌলিক মানবিক চাহিদা নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কারণে যথাযথভাবে পূরণ হয় না। সেগুলো হলো প্রথমত, আয়তনের তুলনায় অধিক পরিমাণে জনসংখ্যা। এত বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার মৌলমানবিক চাহিদা মেটানোর দুরূহ ব্যাপার। অধিক জনসংখ্যার তুলনায় জাতীয় সম্পদের স্বল্পতা। সম্পদের স্বল্পতার কারণে মানুষকে মৌলমানবিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হয়। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার নিম্ন হলে জাতীয় উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি কম হয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। মানুষ বেকার জীবনযাপন করে। ফলে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের পথে বাধা সৃষ্টি হয়। চতুর্থত, শিল্পায়নের অভাবেও একটি দেশের অর্থনীতি দুর্বল থাকে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। যার প্রভাব গিয়ে পড়ে মৌলিক চাহিদা পূরণের ওপর। পঞ্চমত, অনুন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনায় সনাতনী পদ্ধতিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা না নিয়ে প্রকৃতির ওপর নির্ভর হয়ে চাষাবাদ করা হয়। ফলে ফসল কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয় না। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের ওপর। ষষ্ঠত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কারণে প্রতিবছর ফল - ফসল ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এসব দুর্যোগ মোকাবিলা প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এটি একটি মৌল মানবিক চাহিদা না পূরণ হওয়ার কারণ।
অতএব বলা যায়, উপরিউক্ত কারণগুলোই মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের অন্তরায়।
ঘ.
উদ্দীপকের বর্ণিত সমস্যাটি সমাধানে সমাজকর্মীর বহুবিধ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
প্রথমত, মৌল মানবিক চাহিদার পূর্বশর্ত হচ্ছে সামাজিক জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা, যাতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাস্তব ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা সামাজিক জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমে মৌল মানবিক চাহিদার পূরণের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশলের আলোকে লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে সম্পদ চাহিদা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে পারে। তৃতীয়ত, স্থানীয় ভিত্তিতে প্রাপ্ত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে মৌলিক চাহিদা পূরণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সমাজকর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারে। চতুর্থত, গ্রামীণ ও শহর সমাজসেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রাম ও শহর অঞ্চলে দরিদ্র, অসহায় ছিন্নমূল মানুষকে প্রশিক্ষণ প্রদান ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। পঞ্চমত, বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা বিধানে ব্যাপক ভিত্তিতে অবদান রাখতে পারে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি সাহায্য, সামাজিক বিমা, শস্য বিমা, বয়স্ক ভাতা, বেকার ভাতা কর্মসুচি থাকা উচিত। এ কর্মসূচিতে সমাজকর্মীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ষষ্ঠত, জনগণের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে বাস্তবমুখী সামাজিক নীতি ও আইন প্রণয়ন করা। গঠনমূলক দলীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ভূমিকা পালন করতে পারেন।
অতএব বলা যায়, উপরিউক্তি ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে সমাজকর্মীরা অবদান রাখতে পারে ।