ক.
প্রথা হলো সামাজিকভাবে স্বীকৃত পন্থা ও রীতি বা বিভিন্ন সামাজিক কার্যকলাপ পালনে অনুসৃত হয়।
খ.
ধর্মীয় চেতনা সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী বাহন। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎ কর্মে শাস্তিও বর্ণিত আছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচার-আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
গ.
উদ্দীপকের চিত্র 'A' এর চিহ্নিত স্থানে 'সমাজ' নামক মৌল প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
সমাজ হলো মানবগোষ্ঠীর একই স্বার্থ ও উদ্দেশ্যের বন্ধন, যা ব্যক্তির পারস্পরিক বন্ধন দ্বারা গড়ে ওঠে। সমাজ একটি বৃহৎ মানবীয় সামাজিক সংগঠন। সমাজ পারস্পরিক সম্পর্ক সূত্রে আবদ্ধ। পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং সাদৃশ্য যেকোনো সামাজিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। সমাজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সহযোগিতা দুটিই বর্তমান। সমাজ গতিশীল তথা সমাজ সদা পরিবর্তনশীল। সমাজে ভৌগোলিক আয়তন ও সামাজিক উদ্দেশ্য বিদ্যমান। একই আদর্শ ও সমমনোভাবাপন্ন। সমাজের মধ্যে মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রা প্রণালি ও সংস্কৃতি রয়েছে। দুই বা ততোধিক ব্যক্তির পরস্পরের সম্পর্কের সচেতনতা রয়েছে। সামাজিক আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধ বিদ্যমান রয়েছে। সমাজের ভিত্তি হিসেবে ঐক্য, স্থায়িত্ব, বন্ধুত্ব ও সংঘবদ্ধতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। উদ্দীপকের প্রদত্ত ছকচিত্রে উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যের ন্যায় সমাজের তিনটি বৈশিষ্ট্য উপস্থাপিত হয়েছে।
তাই বলা যায়, বৈশিষ্ট্য দুইটি সমাজকেই নির্দেশ করেছে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত A ও B দ্বারা সমাজ ও সম্প্রদায়কে নির্দেশ করা হয়েছে। বাস্তবিক অর্থে এ দুটি প্রত্যয়ের মাঝে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান।
মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে সমাজ। তাই সমাজ বলতে এমন এক জনগোষ্ঠীকে বোঝায়, যেখানে মানুষ দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। অন্যদিকে, সম্প্রদায়ের সদস্যরা একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস করে এবং তাদের জীবনের মৌল ও সাধারণ স্বার্থগুলো একই সাথে ভোগ করে ও একই আচার-আচরণ তথা জীবনপ্রণালিতে অভ্যস্ত হয়। একটি সমাজে অনেকগুলো সম্প্রদায় থাকতে পারে। তাই সমাজের পরিধি ব্যাপক। পক্ষান্তরে, সম্প্রদায়ের পরিধি সমাজের চেয়ে ক্ষুদ্র। কেননা সম্প্রদায় সমাজের একটি অংশ। সমাজে বিভিন্ন ধর্মের লোক থাকতে পারে। যেমন- মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি। পক্ষান্তরে সম্প্রদায় শুধু একটি জনগোষ্ঠীকে নির্দেশ করে। যেমন- মুসলিম সম্প্রদায়, হিন্দু সম্প্রদায় ইত্যাদি। সমাজের কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা নেই। কিন্তু সম্প্রদায়ের - ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা আছে। সমাজের সদস্যদের ভিতর সামাজিক মানসিকতা কাজ করে। অন্যদিকে, সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে স্বজাত্যবোধ কাজ করে। সমাজ রাষ্ট্র প্রদত্ত নিয়মকানুনের দ্বারা পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, সম্প্রদায়ের কার্যক্রম সম্প্রদায়ের নিজস্ব বিধিনিষেধ মোতাবেক পরিচালিত হয়। সমাজ একটি বিমূর্ত প্রত্যয়। অন্যদিকে, সম্প্রদায় একটি মূর্ত প্রত্যয়। সমাজের ভিত্তি হচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দলবদ্ধভাবে বসবাস করার প্রবণতা। পক্ষান্তরে, সম্প্রদায়ের ভিত্তি হচ্ছে এলাকা ও সম্প্রদায়গত মানসিকতা। সমাজের ক্ষেত্রে জনসমষ্টিকে নির্দিষ্ট এলাকার অধিবাসী হতে হয় না। অন্যদিকে, সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে জনসমষ্টিকে অবশ্যই নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের অধিবাসী হতে হয়। অতএব বলা যায়, সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে যেমন সম্পর্ক রয়েছে তেমনি এদের মধ্যে গুণগত ও মাত্রাগত পার্থক্য রয়েছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও উভয়ের মধ্যে কতিপয় ক্ষেত্রে সাদৃশ্যও বিদ্যমান। কেননা, সুষ্ঠুভাবে জীবনযাপনের জন্য মানুষ যেমন সমাজের উপর নির্ভরশীল তেমনি করে সম্প্রদায়ের উপরও নির্ভরশীল থাকে।