ক.
জৈবিক মতবাদের প্রবক্তা ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেন্সার।
খ.
আদর্শ নমুনা হলো কোনো সামাজিক প্রপঞ্চ বা বাস্তবতাকে বোঝার জন্য সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত একটি তাত্ত্বিক কাঠামো বা মানদণ্ড।
আদর্শ নমুনা কোনো বাস্তব সমাজের হুবহু চিত্র নয়, বরং গবেষণার সুবিধার্থে নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা একটি বিমূর্ত ধারণা। এর মাধ্যমে গবেষক বাস্তব ঘটনার সাথে তাত্ত্বিক কাঠামোর তুলনা করে সামাজিক পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করেন। ম্যাক্স ওয়েবার আমলাতন্ত্র ও পুঁজিবাদ ব্যাখ্যায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।
গ.
উদ্দীপকের ছক-১ এ সমাজ নামক মৌল প্রত্যয়কে নির্দেশ করে।
বুৎপত্তিগত অর্থে সমাজ বলতে একত্রে বসবাসকে বুঝিয়ে থাকে। শব্দটি ব্যাপক ও সংকীর্ণ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। ব্যাপক অর্থে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সমগ্রতাকে সমাজ বলা হয়। আর সংকীর্ণ অর্থে একত্রে পারস্পরিক সম্পর্কসূত্রে এবং বিভিন্ন প্রথা-প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়া পদ্ধতিতে আবদ্ধ হয়ে বসবাসকারী একদল মানুষের সমষ্টি বোঝায়। পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট সামাজিক সম্পর্ক সমাজ সৃষ্টির মূল উপাদান। সে অর্থে পারস্পরিক সম্পর্কে আবদ্ধ এবং সে সম্পর্ক বিষয়ে সচেতন মানবগোষ্ঠীই সমাজ। সমাজ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য বা সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ সর্বদা পরিবর্তনশীল, যার ফলে আদিম সমাজের সাথে বর্তমান সমাজের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের ছক-১ এ পারস্পরিক সম্পর্কসূত্রে আবদ্ধ গতিশীল।
উদ্দীপকের 'ছক-১' অংশে 'সর্বদা পরিবর্তনশীল' ও 'সহযোগিতার ভিত্তিতে গঠিত' বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। উপরের আলোচনার সাথে তুলনা করলে বোঝা যায়, এগুলো সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ছক-১ সমাজ প্রত্যয়কে নির্দেশ করছে।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয় তথা সম্প্রদায়ের সাথে সমাজের কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে সমাজ। তাই সমাজ বলতে এমন এক জনগোষ্ঠীকে বোঝায়, যেখানে মানুষ দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। পক্ষান্তরে সম্প্রদায়ের সদস্যরা একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস করার পাশাপাশি তাদের জীবনের মৌলিক ও সাধারণ স্বার্থগুলো একই সাথে ভোগ করে এবং একই আচার-আচরণ তথা জীবনপ্রণালিতে অভ্যস্ত হয়। একটি সমাজে অনেকগুলো সম্প্রদায় থাকতে পারে তাই সমাজের পরিধি ব্যাপক। অন্যদিকে সম্প্রদায়ের পরিধি সমাজের চেয়ে ক্ষুদ্র। কেননা সম্প্রদায় সমাজেরই একটা অংশ। আবার মানুষের একাধিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু জীবনের মৌল ও সাধারণ স্বার্থগুলো একই সাথে ভোগ করার জন্যে সম্প্রদায় গড়ে ওঠে। সমাজের সদস্যদের ভেতর সামাজিক মানসিকতা কাজ করে। অপরপক্ষে সম্প্রদায়ের সদস্যদের = মধ্যে স্বজাত্যবোধ কাজ করে। সমাজ রাষ্ট্র প্রদত্ত নিয়মকানুনের দ্বারা পরিচালিত হয়। পক্ষান্তরে সম্প্রদায়ের কার্যক্রম তাদের নিজস্ব বিধি-নিষেধ মোতাবেক পরিচালিত হয়। সমাজ যেখানে একটি বিমূর্ত প্রত্যয় সেখানে সম্প্রদায় একটি মূর্ত প্রত্যয়। একটি সমাজে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক থাকতে পারে। যেমন- মুসলমান, হিন্দু, জেলে, বেদে ইত্যাদি সম্প্রদায়। + অন্যদিকে সম্প্রদায় শুধু একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নির্দেশ করে। যথা-
জেলে, তাঁতি, দলিত সম্প্রদায় ইত্যাদি।
উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলতে পারি, সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে গুণগত ও মাত্রাগত পার্থক্য থাকলেও সমাজ থেকে সম্প্রদায়কে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। কেননা একজন ব্যক্তি একই সাথে সমাজ ও সম্প্রদায়ের সদস্য।