ক.
ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতির কোন জটিল বিষয়কে সহজ-সরলভাবে প্রকাশ করা।
খ.
সংযুক্তিকরণের সমস্যার জন্য মনের মৌলিক অনুভূতিসমূহকে ব্যাখ্যা করা যায় না।
মনের এমন কিছু কিছু অনুভূতি আছে যাদের প্রত্যেকটিই একক ও অনন্য। যেমন- সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, প্রেম, বিরহ ইত্যাদি। এদের একটিকে অন্যটির সাথে সংযুক্ত করা যায় না বা তুলনা করা যায় না। তাই এদের ব্যাখ্যা প্রদান করা যায় না।
গ.
চিত্র-৩ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার শৃঙ্খলযোজন রূপটি প্রকাশ পেয়েছে
যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো কার্য ও তার দূরবর্তী কারণের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী পর্যায় আবিষ্কার করা হয় তাকে শৃঙ্খলযোজন বলে। শৃঙ্খলযোজনের মাধ্যমে দেখানো হয় যে, কোনো কার্য তার কারণ থেকে সরাসরি উদ্ভব হয় না, বরং কার্যটি একটি অন্তর্বর্তী অবস্থা থেকে সৃষ্ট। এই মধ্যবর্তী পর্যায় অতিক্রম করেই কার্যটি সংঘটিত হয়। যেমন-এ ভালো? বৃষ্টিপাতকে অনেক সময় সমৃদ্ধির কারণ বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু সমৃদ্ধির প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করতে গেলে দেখা যায় যে, ভালো বৃষ্টিপাতের ফলে ভালো ফসল এবং ভালো ফসল সমৃদ্ধি আনয়ন করে। অর্থাৎ, ভালো' বৃষ্টিপাত হচ্ছে ভালো ফসলের কারণ এবং ভালো ফসল হচ্ছে সমৃদ্ধির কারণ। সুতরাং, ভালো ফসল হচ্ছে মধ্যবর্তী অবস্থা যা ভালো, বৃষ্টি-ও সমৃদ্ধির মধ্যে শৃঙ্খলযোজন করে। যার দৃষ্টান্ত চিত্র-৩ এ লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের চিত্র-৩ এ দেখানো হয়েছে যে, মেধা মেধার চর্চা, ভালো রেজাল্ট, ভালো চাকরি সফল মানুষ। এখানে শৃঙ্খলযোজন বাঁ মেধরি চর্চা, ভালো রেজাল্ট, ভালো চাকরির মাধ্যমে কার্য বা সফল মানুষ ও তার দূরবর্তী কারণ মেধার সাথে যোগসূত্র তৈরি করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্র-৩ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় শৃঙ্খলযোজন রূপটির প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ.
চিত্র-১ দ্বারা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বিশ্লেষণ রূপ ও চিত্র-২ দ্বারা অন্তর্ভুক্তি রূপ নির্দেশিত হয়েছে। উভয়ের সম্পর্ক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তিনটি ভিন্ন রূপ আছে। যথা- বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন ও অন্তর্ভুক্তি। যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো মিশ্র কার্যকে স্বতন্ত্র কারণ সমূহের নিয়মের সাথে যুক্ত করা হয় তাকে বিশ্লেষণ বলে। এরূপ ব্যাখ্যায় একটি মিশ্র কার্যকে তার অন্তর্গত ভিন্ন ভিন্ন কারণাংশে বিশ্লেষণ করা হয়। এখানে দেখানো হয় যে, একটি মিশ্র কার্য কতকগুলো পৃথক পৃথক কারণের মিলিত ক্রিয়ার ফলেই উৎপন্ন হয়। যেমন- উদ্দীপকের চিত্র-১ এ দেখতে পাই, পাম্পের গতি বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ডিজেলের ব্যবহার, মটরের গতি, সুইচের ব্যবহার আবশ্যক। এগুলো মিলিতভাবে পাম্পের গতি বাড়িয়ে তোলে। অন্যদিকে, 'যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একটি কম ব্যাপক নিয়মকে একটি বেশি ব্যাপক নিয়মের অধীনে আনয়ন করা হয় তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে। এরূপ ব্যাখ্যায় আমরা একটি কম ব্যাপক নিয়মকে ব্যাখ্যা করার সময় তাকে একটি বেশি ব্যাপক নিয়মের অংশ হিসেবে প্রমাণ করি। যেমন- উদ্দীপকের চিত্র-২ এ দেখতে পাই, জোয়ার-ভাঁটার নিয়মকে ব্যাখ্যা করতে যেয়ে আমরা তাকে মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করি। মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম একটি সার্বিক নিয়ম। এ নিয়মের ক্ষেত্রে যে ব্যাখ্যা প্রযোজ্য সেই ব্যাখ্যাই জোয়ার-ভাটার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক আলোচনা করতে গেলে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যমূলক, সম্পর্কের বিষয় চলে আসে। সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, উভয়ই কোন ঘটনার ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হয়। উভয়ই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দুটি রূপ মাত্র। উভয়ই ব্যাখ্যার মাধ্যমে, নতুন জ্ঞানের জগৎ সম্প্রসারিত হয়। আর বৈসাদৃশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিশ্লেষণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রথম রূপ। কিন্তু অন্তর্ভুক্তি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তৃতীয় রূপ। বিশ্লেষণে মিশ্র কার্যের ফলে নতুন একটি বিষয় প্রকাশ পায়। কিন্তু অন্তর্ভুক্তিতে মিশ্র কার্যের কোনো স্থান নেই। বিশ্লেষণে কম বা বেশি নিয়মের স্থান না থাকলেও অন্তর্ভুক্তিতে কম ব্যাপক নিয়মকে অধিক ব্যাপক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আলোচনা শেষে বলা যায়, চিত্র-১ ও চিত্র-২ এ ইঙ্গিতকৃত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বিশেষ রূপ হিসেবে পরিচিত বিশ্লেষণ ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিষয়কে সহজ সরলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি।