ক.
কলকাতার নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মিত হয়।
খ.
নওয়াব আব্দুল লতিফকে বাংলার সৈয়দ আহমদ বলা হয়। শিক্ষা বিস্তারে নবাব আব্দুল লতিফের অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে, শিক্ষা ব্যতীত এ ভূখণ্ডের মুসলমান সম্প্রদায়ের মুক্তির কোনো বিকল্প পথ নেই। তাই তাদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা প্রসারের জন্য ১৮৬৩ সালে তার একক প্রচেষ্টায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা 'মুসলিম সাহিত্য সমিতি' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। তাছাড়া তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৮৫৫ সালে 'কলকাতা হিন্দু কলেজ' প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষার পথ প্রশস্ত হয়। তিনি নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তার প্রচেষ্টায় কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। তিনি মুহসিন ফান্ড পুনর্গঠন করেন। সমাজ সংস্কার ও শিক্ষা বিস্তারে উত্তর ভারতের স্যার সৈয়দ আহমদের মতো তার বিশেষ অবদান ছিল বলেই তাকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।
গ.
উদ্দীপক 'ক' তে উল্লিখিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন কৃষককুলের বন্ধু, সমাজসংস্কারক এবং একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষানুরাগী। তিনি বিশ্বাস করতেন, সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি তখনই সম্ভব যখন শিক্ষার আলো প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এ লক্ষ্যে তিনি শিক্ষাবিস্তারে নিরলস ভূমিকা পালন করেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ক ব্যক্তিত্ব 'ঋণ সালিশি বোর্ড' গঠন করে কৃষকদের মুক্তির পথ প্রশস্ত করেছিলেন। এমন বর্ণনায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান চিত্রিত হয়েছে। কৃষক দরদী নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক শিক্ষাক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষার দুয়ার খুলে দেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় সরাসরি শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে চাখার কলেজ, হরগঙ্গা কলেজ ও আদিনা ফজলুল হক কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান। মুসলিম নারীদের শিক্ষায় সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লেডি ব্রাবোন কলেজ ও ইডেন গার্লস কলেজ। সর্বস্তরের শিক্ষার্থীর জন্য হোস্টেল নির্মাণ এবং তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা একটি জাতির ভিত্তি, আর সেই ভিত্তিকে দৃঢ় করতেই তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার অবদান বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
ঘ.
ছকে উল্লিখিত 'খ' ব্যক্তিত্বের তথা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা অসামান্য।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিক ও গণতন্ত্রপ্রেমী নেতা। তিনি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি ছিলেন নিষ্ঠাবান এবং আজীবন গণতান্ত্রিক আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। আইনের শাসন, স্বাধীন আইনসভা ও শক্তিশালী বিরোধী দলকে তিনি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ব্যক্তিত্ব হলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যিনি অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে বলেছিলেন, 'বুলেটের চেয়ে ব্যালটই শক্তিশালী'। তার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ধাপে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। পাকিস্তানের রাজনীতিতে তিনি প্রথম শক্তিশালী বিরোধী দল গঠন করেন, যা গণতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বিশ্বাস করতেন, শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে যখন অনেক রাজনৈতিক নেতা ভীত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান, তখন সোহরাওয়ার্দী ছিলেন সোচ্চার ও সংগ্রামী। তিনি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ১৯৬২ সালে তার নেতৃত্বে গঠিত হয় National Democratic Front (NDF), যা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি বড় পদক্ষেপ ছিল। তিনি সব সময় বিশ্বাস করতেন জনগণের রায়ই চূড়ান্ত, এবং জনগণের কল্যাণই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ষড়যন্ত্রের রাজনীতিকে তিনি ঘৃণা করতেন এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিকেই গ্রহণ করেছিলেন।
সুতরাং, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার আপসহীন সংগ্রাম ও আদর্শিক অবস্থানই তাকে গণতন্ত্রের মানসপুত্ররূপে চিহ্নিত করেছে।