ক.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন।
খ.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিশংসন পদ্ধতির মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।
সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিশংসিত করা যায়। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরসহ লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিশংসনের প্রস্তাব স্পিকারের নিকট প্রদান করতে হয়। নোটিশ প্রদানের ১৪ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে এ প্রস্তাব আলোচিত হতে হয়। তারপর সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশের ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে সংসদ কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করলে ঐ তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
গ.
খ ছকের '?' স্থান জেলা প্রশাসক নির্দেশ করে।
মাঠ প্রশাসনের শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রত্যেকটি বিভাগকে কয়েকটি জেলায় বিভক্ত করা হয়েছে। জেলার প্রধান প্রশাসক হচ্ছেন ডেপুটি কমিশনার বা জেলা প্রশাসক। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তাকে ঘিরে জেলার সমগ্র প্রশাসন আবর্তিত হয়। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের যাবতীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত সরাসরি জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরিত হয় এবং তিনি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রশাসন পরিচালনা করেন। জেলা প্রশাসক নানাবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন। এগুলোর মধ্যে জেলা প্রশাসকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো- প্রশাসন সংক্রান্ত কাজ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত কাজ।
জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসন সংক্রান্ত সমস্ত দায়-দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের ওপরেই ন্যস্ত। বাংলাদেশ সচিবালয় হতে প্রেরিত সকল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা তিনি তাঁর অধস্তন সহকর্মীদের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করে থাকেন। জেলার আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও জেলা প্রশাসকের। তিনি জেলার জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করেন। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (ADC), জেলার ম্যাজিস্ট্রেটগণ এবং জেলা পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (SP) তাঁকে সহযোগিতা করে থাকেন। জেলার পুলিশ, আনসার ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন।
ঘ.
'ক' ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে সচিবদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। 'সচিবদের কাজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা সুশাসন নিশ্চিত করে'- আমি এ কথার সাথে একমত।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে সচিবালয় প্রশাসন ব্যবস্থার স্নায়ুকেন্দ্র। সচিবালয় গঠিত হয় মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে। আর তাই সচিব হচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সুতরাং দেশে সুশাসন নিশ্চিতকরণে সচিবদের কাজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা থাকা আবশ্যক।
সচিব মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পালিত হচ্ছে কিনা তার প্রতি সর্বদা দৃষ্টি রাখেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা বিধান করে থাকেন। তিনি আবার মন্ত্রণালয়ের মুখ্য হিসাব নিরীক্ষক। তাই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে এবং সঠিক প্রয়োজনে ব্যয় হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বও সচিবের ওপর বর্তায়। তিনি জাতীয় সংসদের হিসাব কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিবরণী পেশ করে থাকেন। এভাবে একজন সচিব তার মন্ত্রণালয়ের মুখ্য হিসাব নিরীক্ষক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়া দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সচিবালয় নিজস্ব কর্মকর্তা, সংযুক্ত দপ্তর, অধঃস্তন অফিসসমূহ এবং মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে থাকে। এ সমস্ত মৌলিক কাজের বাইরেও সচিবালয় আইন প্রণয়ন, বাজেট প্রণয়ন, পরিকল্পনা গ্রহণ, নীতি প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি পরিচালনা করে থাকে।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সচিবালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে। আর তাই সচিবালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সচিবদের কাজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা থাকা আবশ্যক। সচিবদের কাজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে।