ক.
কে যে কারবারে একজন মালিক থাকে এবং মালিক নিজেই ব্যবসার উপকরণ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে, তাকে এক মালিকানা কারবার বলে।
খ.
NGO-গুলো ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্যের হার কমাতে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন NGO কৃষি, পুষ্টি শিক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, স্যানিটেশন ইত্যাদিসহ নানাবিধ সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করছে। এর ফলে দেশে দরিদ্র জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন হচ্ছে। অর্থাৎ, দরিদ্র জনগণের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দেশে দারিদ্র্যের হার দিন দিন কমছে। এছাড়া NGO-গুলোর সবচেয়ে বড় অবদান হলো গ্রামীণ দরিদ্র মহিলাদেরকে কর্মসংস্থানের আওতায় এনে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। এভাবে দারিদ্র্য বিমোচন NGO সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
গ.
উদ্দীপকে'?' চিহ্নটি 'সংগঠক' বা 'উদ্যোক্তা' বিষয়কে নির্দেশ করে।
উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎপাদন কাজটি সঠিকভাবে যে ব্যক্তি পরিচালনা করেন তাকে সংগঠক বা উদ্যোক্তা বলে। একজন সংগঠক উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, মূলধন সংগ্রহ, ঝুঁকি গ্রহণ, নতুনত্ব প্রবর্তন প্রভৃতি কাজগুলো সম্পাদন করেন। এছাড়া কম খরচে কীভাবে বেশি উৎপাদন করা যায়, তাও সংগঠক নির্ধারণ করে। কারণ তার মূল উদ্দেশ্য সর্বাধিক মুনাফা অর্জন।
উদ্দীপকের ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে সংগঠকের কার্যাবলি, লক্ষ্য নির্ধারণ, ঝুঁকি গ্রহণ ও মুনাফা অর্জনের কথা, বলা হয়েছে। এটি সংগঠক বা উদ্যোক্তার কার্যাবলিকে নির্দেশ করে। একজন সংগঠকের অন্যতম কাজ হলো উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা। সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য কতটুকু দ্রব্য বা সেবা উৎপাদন করা উচিত। এরূপ সিদ্ধান্ত সংগঠককে নিতে হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় উপকরণ ও মূলধন সংগ্রহ করে সমন্বয় সাধন করা, শ্রম বিভাজন, পণ্য বাজারজাতকরণ, তত্ত্বাবধান প্রভৃতি কার্যাবলি একজন সংগঠক সম্পন্ন করে থাকেন। কাজেই বলা যায়, একজন সফল সংগঠক ওপরে উল্লিখিত কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন।
ঘ.
উদ্দীপকে 'ক' যৌথ মূলধনি কারবারকে নির্দেশ করে।
যৌথ মূলধনি কারবার বলতে বহু সংখ্যক ব্যক্তির যৌথ মালিকানায় গঠিত কারবারকে বোঝায়। এ ধরনের কারবারের সুবিধাগুলো হলো পর্যাপ্ত মূলধন সংগ্রহ, বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান, সীমাবদ্ধ দায়, শেয়ার হস্তান্তরযোগ্য ইত্যাদি। এছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব বেশি হয়। কোনো সদস্য মারা গেলে এ কারবারের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয় না। ফলে যৌথ মূলধনি কারবার স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়।
উদ্দীপকে 'ক' কারবারটির বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্রিটেনে শুরু, শেয়ার বিক্রি এবং ২ প্রকারের কথা বলা হয়েছে। যা যৌথ মূলধনি কারবারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যৌথ মূলধনি কারবার সর্বপ্রথম বৃটেনে শুরু হয়। এ কারবারের মূলধনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে শেয়ার বিক্রি করা হয়। এ কারবার মূলত দুই প্রকারের হয়ে থাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি এবং পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
যৌথ মূলধনি কারবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর মালিকের দায় সীমাবদ্ধ। এছাড়া এটি আইন দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা। এর একটি সিলমোহর থাকে এবং এর স্থায়িত্ব বেশি হয়। কোনো সদস্য মারা গেলে এ কারবারের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয় না। এছাড়া এর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ আলাদা। শেয়ারহোল্ডাররা মালিক হলেও তারা সরাসরি ব্যবস্থাপনায় অংশ নিতে পারে না। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' কারবারটি যৌথ মূলধনি কারবারকে নির্দেশ করে।