(ক)
যে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ একজন ব্যক্তির হাতে থাকে এবং তিনি নিজেই মূলধন বিনিয়োগ করেন, তাকে এক মালিকানা কারবার বলে।
(খ)
যৌথ মূলধনী কারবার দীর্ঘস্থায়ী হয় কারণ এর অস্তিত্ব কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জীবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। এই কারবারে অসংখ্য শেয়ারহোল্ডার মূলধন সরবরাহ করেন। কোনো একজন বা কয়েকজন শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যু হলে, তিনি দেউলিয়া হলে বা পাগল হয়ে গেলেও কোম্পানির আইনি অস্তিত্ব বিলীন হয় না। বিপরীতে, এক মালিকানা বা অংশীদারি কারবারে মালিকের মৃত্যু বা দেউলিয়া হওয়ার ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যৌথ মূলধনী কোম্পানির এই বৈশিষ্ট্যকে চিরস্থায়ী উত্তরাধিকার বা Perpetual Succession বলা হয়, যার কারণে এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়।
(গ)
উদ্দীপকে $X, Y$ ও $Z$ তিন জন চুক্তিবদ্ধ হয়ে যে কারবারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেটি একটি অংশীদারি কারবার। কারণ এখানে একাধিক ব্যক্তি চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন এবং তাদের মালিকানার অংশ সমান নয়, যা অংশীদারি কারবারের বৈশিষ্ট্য।
অংশীদারি কারবারের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সদস্য সংখ্যা: এই কারবারে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন। তবে ব্যাংকিং কারবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা ১০ জন।
২. চুক্তি: অংশীদারদের মধ্যে মৌখিক বা লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এই কারবার গঠিত হয়। চুক্তির শর্তানুসারেই কারবারের পরিচালনা ও লাভ-লোকসান বণ্টন নির্ধারিত হয়।
৩. অসীম দায়: অংশীদারদের দায় অসীম। অর্থাৎ কারবারের দায় মেটাতে হলে মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পদ পর্যন্ত ব্যবহার করতে হতে পারে।
৪. পারস্পরিক আস্থা: এই কারবারের মূল ভিত্তি হলো অংশীদারদের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা।
৫. মূলধন সংগ্রহ: অংশীদারগণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মূলধন সরবরাহ করেন। চুক্তিতে উল্লেখ না থাকলে সাধারণত সমান অনুপাতে মূলধন প্রদান করা হয়।
৬. লাভ-লোকসান বণ্টন: সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী অংশীদারগণ কারবারের লাভ বা লোকসান নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেন।
(ঘ)
হ্যাঁ, $X, Y$ ও $Z$-এর অংশীদারি কারবারকে উদ্দীপকের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ যৌথ মূলধনী কারবারে রূপান্তর করা সম্ভব। রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. স্মারকলিপি প্রস্তুতকরণ: উদ্যোক্তাদের সর্বপ্রথম কোম্পানির নাম, উদ্দেশ্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা উল্লেখ করে একটি স্মারকলিপি (Memorandum of Association) তৈরি করতে হবে। এটি কোম্পানির সাথে বাইরের জগতের সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
২. পরিমেল নিয়মাবলী প্রণয়ন: কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, পরিচালকদের দায়িত্ব এবং শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সংক্রান্ত বিধিমালা সংবলিত একটি পরিমেল নিয়মাবলী (Articles of Association) তৈরি করে রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল করতে হবে।
৩. মূলধন সংগ্রহ: অংশীদারি কারবারের সীমিত মূলধনের পরিবর্তে শেয়ার এবং ডিবেঞ্চার বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে প্রচুর মূলধন সংগ্রহ করতে হবে।
৪. পরিচালনা পর্ষদ গঠন: শেয়ারহোল্ডারদের ভোটে একটি পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors) নির্বাচিত করতে হবে, যারা কোম্পানির নীতিনির্ধারণী কাজগুলো পরিচালনা করবেন।
৫. পেশাদার ব্যবস্থাপনা: দৈনন্দিন কার্যাবলি পরিচালনার জন্য দক্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পেশাদার ম্যানেজার নিয়োগ করতে হবে।
এই ধাপগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করার মাধ্যমে $X, Y$ ও $Z$-এর ক্ষুদ্র অংশীদারি প্রতিষ্ঠানটিকে একটি বৃহৎ যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে রূপান্তর করা সম্ভব, যা তাদের মূলধন স্বল্পতার সমস্যা সমাধান করবে এবং ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করবে।